আলু-পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে লাগবে ২ বছর!


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৭ অক্টোবর ২০২০, ২৩:২৮

আলু-পেঁয়াজের বাজার সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে আসতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে এনে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আর এই কাজ করতে হলে আগামী দুই বছর সময় দিতে হবে। মন্ত্রীর এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলু-পেঁয়াজসহ সকল নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী বাজার নিয়ন্ত্রণে দুই বছর সময় লাগবে বলে বৈঠকে আলোচনা করেন। তবে মন্ত্রীর সময় চাওয়ায় বেজায় চটেছেন কমিটির অন্য সদস্যরা। কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

আলু-পেঁয়াজসহ সকল নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী বিষয়টি উল্লেখ করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় দিন দিন তা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে নিত্যপণ্যোর দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আগে থেকেই কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, চলমান পরিস্থিতির সমস্যা সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিটির সদস্যরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বেজায় চটে যান বলে জানা গেছে।

কমিটির অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন কমিটির সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, সেলিম আলতাফ জর্জ এবং সুলতানা নাদিরা। এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এভাবে একটার পর একটা জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ে হৈচৈ করতে করতে আলুর দাম বেড়ে গেল। কিন্তু কেন এটা হচ্ছে। আমাদের মন্ত্রণালয়গুলো কি করে? কোনো বছর কোনো পণ্য কতটুক উৎপাদন হলো আর কত চাহিদা এটা কি তাদের পূর্ব সার্ভে থাকে না? সার্ভে করা থাকলে তো এটা নিরূপণ করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা যায়। সবকিছুর তো একটা মাস্টার প্লান থাকবে হঠাৎ করেই দাম বৃদ্ধি হবে কেন?

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বোঝানোর চেষ্টা করেন দেশের বাস্তবতায় পেঁয়াজের উৎপাদন কম। আলু নিয়েও নানা ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন কমিটির সদস্যরা বলেন, সাধারণ মানুষ তো বাস্তবতা শুনবে না, তারা দেখবে লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার। এটা আগে থেকে কেন প্রস্তুতি নেন না।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে। সেলফ সাফিশিয়েন্ট হতে হবে। এজন্য দুই বছর সময় লাগবে। দুই বছরের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন।’

বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, আমরা বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য, শিল্প ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি টিম গঠন করেছি। একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে মাস্টার প্লান করব। সেখানে উৎপাদন বাড়াতে কি কি করতে হবে আর যেটা আমদানি করতে হবে সেটা আগে থেকেই কিভাবে প্লান করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, আলু-পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কমপক্ষে ৫-৬ মাস আগেই কোন কোন পণ্যের চাহিদা কত তা নিরূপণ করে দেশের খুচরা, পাইকারি এবং আমদানিকারকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ওই সকল পণ্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যে আমদানি করে মজুদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আগামীতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলা করার জন্য মন্ত্রণালয়গুলো যেমন অর্থ, বাণিজ্য, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সচিবদের সমন্বয়ে বৈঠক করে সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা থেকে উত্তরণের পদক্ষেপ নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

কমিটি দেশের মানুষের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর জন্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে। একই সঙ্গে আগামী রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য যাতে স্থিতিশীল থাকে সে লক্ষ্যে এখনই ভোক্তাসাধারণের নিত্যপণ্যের চাহিদা পূরণের জন্য (ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর এবং পেঁয়াজ ইত্যাদি) আগাম কার্যক্রম গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে বৈঠকে।

এছাড়া বৈঠকে ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২০’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট, কোম্পানির ৫ শতাংশ শেয়ারধারীদের কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় আলোচ্যসূচি প্রদানের সুযোগ এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। কমিটি ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২০’ সংশোধিত আকারে পাশের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করে।

 






ads