থামছেই না আলুর মূল্যবিতর্ক


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪১

আলু নিয়ে কারসাজি তৈরি হওয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দিয়েছে গত ১২ অক্টোবর। আর এতেই বেঁকে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি মূল্যের এক সপ্তাহ পার হতে চললেও সোমবার পর্যন্ত সেই নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি হচ্ছে না খুচরা, পাইকারি কিংবা কোল্ড স্টোরেজে।

নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করলে বড় অঙ্কের লোকসানে পড়তে হবে, এমন শঙ্কায় কোল্ড স্টোর থেকে আলু ছাড়া হচ্ছে না। সেখানে থেকে আলু না আসায় রাজধানীর পাইকার বাজারের সব আড়তেই ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে আলুর মজুদ। অন্যদিকে খুচরা বাজারেও রয়েছে আলুর সংকট। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে পাইকার বাজার থেকে আলু সংগ্রহ করতে না পারলে তাদের মজুদও শেষ হবে। এমন অবস্থায় আবারও দাম বাড়তে পারে এমনটা শঙ্কা ক্রেতা সাধারণের।

তবে কয়েকদিনের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান আসতে পারে, এমন আশ্বাস দিলেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের ডেপুটি পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। তার মতে, কোল্ড স্টোর থেকে আলু না ছাড়লে নিলাম বা সিলগালা করার সুযোগ রয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে। যদিও ২২টি আড়তে মধ্যে মাত্র তিনটিতে আলু রয়েছে তাও আবার পর্যাপ্ত নয়।

আলু ব্যবসায়ীরা (আড়তদার) বলছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করলে বড় অঙ্কের লোকসানে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের। তাই সরকারি দাম পুনঃবিবেচনা করে ৩৫ টাকা করারও প্রস্তাব অনেক ব্যবসায়ীর।

আড়তদাররা বলছেন, মুন্সীগঞ্জ জেলায় কোল্ড স্টোর পর্যায়ে আলুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫ টাকা, যেটা আড়তে আসতে আরও দুই টাকা খরচ পড়বে। আমি বেশি দামে বিক্রি করলে জরিমানা গুনতে হবে। আবার দাম কম বললে কোল্ড স্টোর থেকে আলু দেয় না। আমরা কী বিক্রি করব, কোথায় যাব?

কারওয়ান বাজারের আড়তদার আফজাল বলেন, আলুর দাম পুনঃনির্ধারণ করা হলে কোল্ড স্টোর থেকে আলু পাওয়া যাবে। এখন বাজারে আলু নেই হয়তো যাদের আছে তারা আবারও দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন।

রামপুরা বাজারের ক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আলুর দাম আবারও বেড়ে যাওয়া মানে অন্য পণ্যের দামও বাড়বে। আবার মধ্যবিত্তদের চলাচলের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়বে। এ অবস্থার অবসান চাই। তবে সমস্যার সমাধানে আশার বাণী শোনালেন ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের ডেপুটি পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

তিনি বলেন, আমরা শহর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে মনিটরিং করছি। কোনো কোল্ড স্টোরেজ যদি আলু না ছাড়ে তাহলে সেটি সিলগালা করা হবে অথবা নিলামে তোলা হবে, আইনে এটা আছে। তবে আশা করি, সে পর্যন্ত সমস্যা যাবে না, সমাধান হবে। তবে ব্যবসায়ীদের বিক্রি ও কেনার রিসিট রাখতে হবে, দেখাতে হবে।

এর আগে গত বুধবার প্রতি কেজি আলুর দাম হিমাগারে ২৩ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

 






ads