ওপার থেকে এলো পচা পেঁয়াজ


poisha bazar

  • এস এম মুন্না
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:২৫

বহু গড়িমসি, দেন-দরবার আর নাটকীয়তার পর ২৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে ভারত। অবশেষে গত শনিবার থেকে ট্রাকে করে সেই পেঁয়াজ আসা শুরু করলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি, উল্টো হতাশা বাড়িয়েছে। কারণ ট্রাকের সেই বস্তাগুলোর মুখ খুলতেই বেরিয়ে আসছে পচা-গলা পেঁয়াজ।

টানা চার-পাঁচ দিন সীমান্তের ওপারে স্থলবন্দরগুলোতে বস্তাভর্তি ট্রাকগুলো আটকে থাকায় বেশির ভাগ পেঁয়াজই পচে গেছে। ফলে আমদানিকারকদের যেমন সর্বনাশ হয়েছে, একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারাও। পেঁয়াজগুলো এতটাই পচে-গলে গেছে যে, আমদানিকারকরা এসব পেঁয়াজ ফেরতও দিতে পারছেন না। আবার পারছেন না দেশীয় ক্রেতাদের কাছে গছিয়ে দিতে। ফলে অনেক সাধনার পেঁয়াজ আজ আমদানিকারকদের ‘গলার কাঁটা’। এক চালানই পথে বসিয়ে দিয়েছে তাদের।

হিলি, ভোমরা ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজের প্রায় অর্ধেকই ফেলে দিতে হচ্ছে। হিলির আমদানিকারকদের বক্তব্য, মোটামুটি ভালো থাকা কিছু পেঁয়াজ নিচ্ছেন পাইকাররা। তবে দর পাচ্ছেন মোটের ওপর ৪০ টাকা কেজি। নষ্ট হয়ে যাওয়া পেঁয়াজ ৫০ পয়সা কেজি দরে দিয়েও ক্রেতা মিলছে না। কোনো কোনো বস্তার পেঁয়াজ এতটাই পচে গেছে যে, ফ্রিতেও নিতে চাইছেন না কেউ। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ কিনতে আড়তে গেলেও নিম্নমান হওয়ায় এসব পেঁয়াজ নিচ্ছে না কেউ। একই পরিস্থিতি ভোমরা আর সোনামসজিদ স্থলবন্দরেও।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। সমালোচনার ঝড় উঠে সব মহলে। বিষয়টি নিয়ে শক্ত অবস্থান নেয় বাংলাদেশ। অবশেষে নড়েচড়ে বসে দিল্লি। দেশটির বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজ ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়।

বিপাকে ব্যবসায়ীরা: আমাদের হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি মুসা মিয়া জানান, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি পাঁচদিন বন্ধ রাখার পর, গত ১৩ সেপ্টেম্বর টেন্ডারকৃত পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেয়ায় বেশির ভাগ পেঁয়াজই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব নষ্ট পেঁয়াজ ব্যবসায়ী অনেকেই সড়কে ফেলে দিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী নাসিমা বেগম ও কাদের হোসেন বলেন, কয়েক দিন বন্ধের পর গত শনিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, তার অধিকাংশ পেঁয়াজই নষ্ট। পেঁয়াজ দিয়ে পানি বের হওয়ার কারণে আমদানিকারকরা পেঁয়াজ রাস্তার ধারে ফেলে দিয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি যার কারণে আমাদের গরিব মানুষের পেঁয়াজ কিনে খেতে সমস্যা হচ্ছে যার কারণে আমরা রাস্তার ধারে ফেলে দেয়া এসব পেঁয়াজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। বাসায় নিয়ে গিয়ে এসব পেঁয়াজগুলো পরিষ্কার করে এর মধ্যে থেকে যা পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা যাবে বাড়িতে খাওয়ার জন্য। কিন্তু সেগুলোর প্রায় পুরোটাই পচা বেরোচ্ছে।

ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল বন্দর দিয়ে ১১ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকছে যার মধ্যে ৬ ট্রাক পেঁয়াজ আমাদের ঘরে। কিন্তু আমদানি করা এসব পেঁয়াজের বেশির ভাগই পচে নষ্ট হয়ে পানি বের হচ্ছে। পোকা ধরেছে, ভালো পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। গত বছরও তারা ঠিক এমন সময়ে পেঁয়াজ নিয়ে যেমন করেছিল মোদি সরকার ঠিক এবারও একই সময়ে একই অবস্থা করল। আমরা দুই দেশকে ট্যাক্স দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করি, এভাবে যদি আমাদের আমদানিকারকদের এমন অবস্থা করে তাহলে আমরা দাঁড়াব কোথায়! আমাদের তো কোথাও যাওয়ার আর জায়গা নেই, আমরা যার কারণে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি, আমাদেরকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে তারা।’

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘ভারত সরকার গত সোমবার হঠাৎ করে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর শুক্রবার জানায় যে, গত রবিবারের টেন্ডার হওয়া পেঁয়াজগুলো তারা রফতানি করবে। সে মোতাবেক অনুমতি দেয়ায় শনিবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রবিবারের টেন্ডারকৃত মাত্র ১১টি ট্রাকে ২৪৬ টন পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে। যে ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করেছে তার অধিকাংশ পেঁয়াজই এরই মধ্যেই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তাতে আমদানিকারকরা পথে বসে গেছে।

তিনি বলেন, এখনো দুই শর বেশি ট্রাক দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

রফতানি জটিলতার কারণে সীমান্তে লোড অবস্থায় থাকা পেঁয়াজগুলো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হলেও বেশিরভাগ পেঁয়াজই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। গত শনিবার আমদানি করা পেঁয়াজগুলো পাঁচদিন ধরে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকে পড়ে। অতিরিক্ত গরমে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ায় হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা বিপাকে পড়েছেন। তারা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। বন্দরের মোকামে একটু ভালো মানের পেঁয়াজ পাইকারি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হলেও পচা বা নষ্ট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পচে যাওয়া ৫০ কেজি বস্তার পেঁয়াজ মাত্র ৫০ টাকায় দিয়েও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।





ads







Loading...