ব্যাংকে নাম ‘হারামি জাহিদ’

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখার ম্যানেজার জাহিদ হোসেন
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখার ম্যানেজার জাহিদ হোসেন - ছবি: মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৬ জুন ২০২০, ০০:০৭,  আপডেট: ১৬ জুন ২০২০, ০০:১২

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক খিলক্ষেত বাজার শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) জাহিদ হোসেন। তার দুর্ব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অফিস ফাঁকিসহ নানা কারণে অতিষ্ঠ সাধারণ গ্রাহকরা। নারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, এমনকি কৌশলে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ব্যাংকে আসা নারী গ্রাহকদের অকারণে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে খোশগল্পে মত্ত থাকেন তিনি। বাজে আচরণ করেন সহকর্মীদের সঙ্গেও। যে কারণে সহকর্মীরা তার নাম দিয়েছেন ‘হারামি জাহিদ’। আড়ালে-আবডালে তাকে এ নামেই ডাকেন তারা।

ম্যানেজার জাহিদের এমন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসা স্বনামধন্য ব্যাংকটির এই শাখা সুনাম হারাচ্ছে। দিনে দিনে কমছে গ্রাহক সংখ্যা। তাই তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক খিলক্ষেত বাজার শাখার ম্যানেজার জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে মানবকণ্ঠের কাছে এমন নানা অভিযোগ করেছেন ব্যাংকটির বেশ কয়েকজন পুরনো গ্রাহক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার সহকর্মী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা অভিযোগ করেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ক্ষিলক্ষেত শাখায় লেনদেন করছি। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংকে কোনো কাজে যাওয়া অধিকাংশ গ্রাহকদের সঙ্গে অকারণে চরম দুর্ব্যবহার করেন ম্যানেজার জাহিদ হোসেন। গালাগালি করে ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের বের করে দেয়ার ঘটনাও রয়েছে। তার এমন বাজে আচরণে শাখাটির অনেক গ্রাহক ক্ষুব্ধ।

ঋণ গ্রহীতার সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সবার সঙ্গে তিনি স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন। ম্যানেজার জাহিদের এমন জঘন্য আচরণের কারণে নষ্ট হচ্ছে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের সুনাম। আস্থা হারিয়ে অনেক গ্রাহক তাদের ব্যাংক হিসাব অন্য ব্যাংকে সরিয়ে নেয়ার কথাও ভাবছেন।’

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক খিলক্ষেত বাজার শাখায় অ্যাকাউন্ট হোল্ডার কয়েকজন নারী জানান, বিভিন্ন সময়ে আর্থিক লেনদেনের কারণে ওই ব্যাংকে তাদের যেতে হয়। তখন কোনো পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ম্যানেজার জাহিদ হোসেনের শরণাপন্ন হলে বাজে আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। অপ্রয়োজনে তিনি সুন্দরী নারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখেন। কিছু ক্ষেত্রে অশালীন ইঙ্গিত দেন।

এমনকি সুযোগ পেলে যৌন হয়রানির অপচেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে এই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যে কারণে অনেক নারী গ্রাহক অতি জরুরি প্রয়োজন না হলে এখন আর ওই ব্যাংকে যান না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের শাখাটির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীও ম্যানেজার জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, আল-আরাফাহ ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখাটি অনেক পুরনো ও ব্যবসাসফল। একসময় এই শাখার অনেক সুনাম ছিল। কিন্তু শুধু ম্যানেজারের দুর্ব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা, অফিসে আসা-যাওয়ায় অনিয়ম, বড় বড় ঋণগ্রহীতা ও নারী গ্রাহকের সঙ্গে বাজে আচরণের কারণে আমাদের শাখাটি এখন ধ্বংসের মুখে। তার অব্যাংকার সুলভ আচরণের কারণে একদিকে যেমন আল আরাফা ব্যাংক অর্জিত সুনাম হারাচ্ছে, তেমনি গ্রাহক সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ম্যানেজার জাহিদ হোসেনের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 





ads






Loading...