তোপের মুখে অলিম্পিক কর্তারা

তোপের মুখে অলিম্পিক কর্তারা
- ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ মার্চ ২০২০, ১৯:১৭

করোনা ভাইরাসের আগ্রাসনে বিশ্বের সব খেলাধুলাই বন্ধপ্রায়। তবে এতকিছুর মাঝেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্ট অলিম্পিক বাতিল করা বা পিছিয়ে দেয়া নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। তাতেই খেপেছে বিশ্বের নামি অ্যাথলেট থেকে শুরু করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বেশ ক্ষুব্ধতা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝারছেন তারা। সম্প্রতি গ্রিক পোলভল্টার ক্যাটেরিনা স্টেফানিডি যেমন বলে দিয়েছেন, আইওসি তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।

হেপ্টাথলনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রিটিশ ক্যাটেরিনা জনসন-থম্পসন সদ্য ইংল্যান্ড ফিরেছেন ফ্রান্সে ট্রেনিং করে। আমেরিকায় তার ট্রেনিং ক্যাম্প বাতিল করতে হয়েছে। তিনি তোপ দেগেছেন এই বলে যে, ‘এক দিকে আমরা প্রত্যেকে নিজেদের দেশের সরকারের কথা শোনার চেষ্টা করছি। যাতে সকলের স্বাস্থ্যের দিকটা দেখতে পারি এবং সকলে নিরাপদ থাকি। অন্য দিকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছে।’

স্টেফানিডি আইওসিকে রীতিমতো একহাত নিয়েছেন। তার কথায়, ‘আইওসি আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের পরিবারের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কীভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে প্রত্যেক দিন অনুশীলন করে যাওয়া সম্ভব?’

গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাতার ফেডারেশনের প্রধান টিম হুঞ্চে প্রস্তাবনা রেখেছেন এ বছরের টোকিও অলিম্পিক আগামী বছর নিয়ে যাওয়ার। দেশটির অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক কমিটির কাছে এক চিঠিতে তিনি জানান, এই মুহূর্তে সঠিক এবং সবচেয়ে দায়িত্বশীল কাজ হবে অলিম্পিক আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া। তার চিঠি পেয়ে সাড়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকের প্রধান নির্বাহী সারাহ হির্ষল্যান্ডও। প্রতিত্তুরে তিনি জানিয়েছেন, অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে তারা এ ব্যাপারে আলোচনা করছেন।

তবে আইওসির সবশেষ বিবৃতির অনুযায়ী, টোকিও অলিম্পিক জুলাইয়ে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই প্রতিযোগীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে, প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে। এখানেই মূলত ক্ষোভ প্রতিযোগীদের মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন তারা? যেখানে বিশ্বজুড়ে সব খেলাধুলাই বন্ধ, বেশিরভাগ মানুষ ঘরে সেলফ আইসোলেশনে আছেন সেখানে অলিম্পিকের মতো বড় ইভেন্টের প্রস্তুতি কীভাবে নেয়া সম্ভব? কয়জনের বাড়িতেই বা অত্যাধুনিক প্র্যাক্টিস ব্যবস্থা রয়েছে?

পূর্বের সূচি অনুযায়ী অলিম্পিকের বাকি আর মাত্র চার মাস। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার এই পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে অনেক অ্যাথলেটই তাই দিশেহারা। জনসন-থম্পসন যেমন বলেছেন, ‘এ রকম পরিস্থিতিতে ট্রেনিং করাটা খুবই চাপের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একই রকম রুটিন চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। আমার দেশে পরিকাঠামো অসাধারণ। আমি নিজেও সম্পূর্ণ সুস্থ। অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতাও অর্জন করেছি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে অনুশীলনের সুযোগ কোথায়?’

চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়ানো করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপে কোভিড-১৯ চালাচ্ছে এর তাøবলীলা। এমতাবস্থায় অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়াটাও যথেষ্ট অমানবিক বলে দাবি অনেক অ্যাথলেটের।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, অ্যাথলেটদের সমালোচনার মুখে পড়েও আইওসি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা একটা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দরকার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেয়ার। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। চেষ্টা করছি সমাধানের এমন কোনো রাস্তা খুঁজে বার করতে যা অ্যাথলেটদের উপরে কোনোরকম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আমরা দেখছি কীভাবে একই সঙ্গে গেমস চালু রেখেও তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা যায়।’

আইওসি তাদের এমন ‘ব্যতিক্রমী’ উদ্যোগে অ্যাথলেটদের সমর্থন চেয়েছেন।

তবে চারবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী এবং এখন আইওসি সদস্য হেলি উইকেনহাইজার খোদ নিজের সংস্থাকেই তুলোধোনা করে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অপরিণত’, ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে তৈরি হওয়া সঙ্কট অলিম্পিক্স হবে কি হবে না, তার চেয়েও অনেক অনেক বড়।’ কানাডার প্রাক্তন আইস হকি তারকা উইকেনহাইজারের বলেছেন, ‘অ্যাথলিটরা ট্রেনিং করতে পারছে না। কেউ ভ্রমণ সূচি বানাতে পারছে না। পরের চব্বিশ ঘণ্টায় কী হবে কেউ জানে না, তিন মাস তো অনেক দূরের কথা।’

দুটি বড় ফুটবল প্রতিযোগিতা ইউরো এবং কোপা আমেরিকা আগামী বছরে পিছিয়ে দেয়ায় অলিম্পিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বেশি করে। স্পেনের অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো ব্লাঙ্কো দাবি করেছেন, টোকিও অলিম্পিক বাতিল করা হোক। চীন এবং ইতালির পরে করোনায় সব চেয়ে আক্রান্ত স্পেন। অন্তত ১২ হাজার মানুয স্পেনে করোনা-আক্রান্ত। গ্রেট ব্রিটেনের পাঁচ হাজার মিটার দৌড়ের নামি অ্যাথলিট জেসিকা জুড যা শুনে মন্তব্য করেছেন, ‘গোটা বিশ্বে এখন যা অবস্থা তাতে কীভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব? এটা চ‚ড়ান্ত অবাস্তব একটা উপদেশ।’

আমেরিকার মহিলা পোল ভল্টার স্যান্ডি মরিস আবার বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বারো মাসের জন্য অলিম্পিক্স পিছিয়ে দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। তবে এটাও বুঝতে হবে যে, অলিম্পিক কমিটি বা জাপানের কর্তারা সময় নিচ্ছেন। নিশ্চয়ই ওরা সকলের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তারা আসো সংসদে বলেছেন, ‘আমরা সকলে চাই এমন একটা পরিবেশে অলিম্পিক্স হোক, যাতে সকলে নিরাপদ এবং সুস্থ বোধ করে। কিন্তু সেটা শুধু জাপানের হাতে নেই।’

বিশ্বজুড়ে খেলার মাঠে স্তব্ধতার মধ্যে সব নজর এখন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির দিকে। অলিম্পিক্সের ৪৩ শতাংশ যোগ্যতা অর্জন ফয়সালা এখনো বাকি। এই পরিস্থিতিতে সেগুলোই বা কীভাবে করে ওঠা সম্ভব হবে?

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads






Loading...