লিজেন্ড পেলে ও ৪৮ ঘন্টার যুদ্ধ বিরতি

তূর্য হাসান


poisha bazar

  • ২৭ জুন ২০১৯, ১৭:২৮,  আপডেট: ২৭ জুন ২০১৯, ১৭:৩৮

১৯৬৯ সালে গ্রেট ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলে এবং তার ক্লাব সান্তোস ৪৮ ঘন্টার জন্য নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। গ্রেট ফুটবলার পেলে কিভাবে নাইজেরিয়ায় যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়েছেন এই লেখায় আলোকপাত করা হবে সে বিষয়ে।

ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে আফ্রিকা ফুটবল সফর শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকান ফুটবল উন্নয়নের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। সেই সফরে প্রদর্শনী ম্যাচগুলো কঙ্গো, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, ঘানা এবং আলজেরিয়াতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তখন বিশ্বের সেরা ফুটবলার পেলে ছিলেন সান্তোসের খেলোয়াড় এবং সফরে বড় তারকা আকর্ষণ। তিনি ইতোমধ্যে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলেন এবং মেক্সিকোতে পরের বছর ব্রাজিলের সবচে বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন। গ্রেট ফুটবলার পেলের জনপ্রিয়তা স্টেডিয়ামে অসংখ্য দর্শকের উপস্থিতি ঘটিয়েছিলো এবং সান্তোসকে তাদের ম্যাচগুলির টিকিটের উচ্চ দাম নির্ধারণে সক্ষম করেছিলেন। ভক্তরা পেলের খেলা দেখতে চেয়েছিলেন এবং সেই বিশেষ সুযোগের জন্য অর্থ প্রদান করতে ইচ্ছুক ছিলেন।

১৯৬৯ সালের ২৬ জানুয়ারী, রোববার সকালে লাওস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সান্তোস। তারা লাগোস সিটি স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার জাতীয় দল গ্রিন ঈগলস-এর বিরুদ্ধে তাদের প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা করে। নাইজেরিয়ার ফুটবল কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা ২৮ বছর বয়সী পেলেকে তাদের দেশে স্বাগত জানায়।

লাগোসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি নাইজেরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল, যারা সান্তোসকে ১১ হাজার পাউন্ড (নাইজেরিয়ান পাউন্ড স্টার্লিং) দিয়ে গ্রিন ঈগলসের বিরুদ্ধে খেলতে দেয়।

সেসময় নাইজেরিয়ান ডেইলি টাইমস-এর একটি সম্পাদকীয় পত্রিকা বিতর্কিত একটি খবর ছেপেছিল যে, নাইজেরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ চলাকালীন এটি একটি ন্যায্য ব্যয় কিনা।

নাইজেরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান ওসুলা যুক্তি দেন যে, এই ম্যাচটি ভক্তদের এবং জাতীয় দলের সুবিধার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এটি নাইজেরিয়ানদের পেলের মত বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। ম্যাচটি দেখতে উচ্চ মূল্যে টিকিট কেটে আসা দর্শকের ঢল নাইজেরিয়ান ফুটবলারদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

সান্তোস এবং গ্রিন ঈগলসের মধ্যে ম্যাচটি ২-২ গোলে শেষ হয়েছিল। মুয়াইওয়া ওশোদ ও বাব আলি গ্রিন ঈগলের হয়ে গোল করেন এবং পেলে সান্তোসের হয়ে দুই গোল করেন। লাগেসের দর্শকরা পেলের করা গোলগুলোকে প্রশংসা করার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।

সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- পেলের জনপ্রিয়তার প্রভাব এত বিস্তর ছিলো যে, নাইজেরিয়ার জনগণ ৪৮ ঘন্টার যুদ্ধ বিরতিতে একমত হয়েছিলো। যাতে ম্যাচটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দর্শক মাঠে এসে খেলা দেখতে পারে।

নাইজেরিয়ান জনগণ ফুটবলের রাজাকে দেখতে চেয়েছিল, তারা পেলেকে দেখতে চেয়েছিল এবং তারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল। পেলে একজন মানুষ, একজন ফুটবলার যিনি আসলেই যুদ্ধবিরতি সৃষ্টি করেছিল। এখানেই পেলের মহিমা।

পেলে এমন একজন ফুটবলার, যিনি ফুটবল খেলাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। পেলে ফুটবল খেলার মাধ্যমে জাতি, ধর্মাবলম্বী, বর্ণবাদ এমনকি একটা গৃহযুদ্ধ থামিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রেখেছিলেন।

তাইতো রোনাল্ড রেগান বলেছিলেন,আমার নাম রোনাল্ড রেগান, আমি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। কিন্তু আপনার নিজেকে পরিচয় করানোর দরকার নেই, কারণ পেলে কে সবাই তা জানেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...