রাজনীতির সংস্কৃতি চালু হোক


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৪ আগস্ট ২০২২, ১৪:৪৫

আহসান হাবিব: দেশে গণতান্ত্রিক শাসন সবার চাওয়া। গণতন্ত্র না থাকলে শাসনে শান্তির বাতাস বয় না। দেশে গণতন্ত্র না থাকা এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়। রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে চললে এটা কখনো হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দেশে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি নেতৃত্ব দিয়েছিল। ঐতিহ্য ও ইতিহাসের দিক থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ প্রথিতযশা। এ দল গণতন্ত্রের চর্চা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে দেশে রাজনীতির সংস্কৃতি একদম নেই বললেই চলে। একারণে রাজনৈতিক সংকট ক্রমশ বেড়েছে। যার কারণে  রাজনৈতিক দলগুলোর যখনই একাত্ম্যের সংকট দেখা যায়, প্রতিবার সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী সব রাজনৈতিক দলকে চা-চক্রের দাওয়াত করে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

সব দলের সংলাপে অংশগ্রহণ হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার।  গণমানুষ কর্তৃক রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শই হচ্ছে গণতন্ত্র। জনগণের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশই গণতন্ত্রকে স্বাগত জানান। গণতন্ত্র হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আধুনিক এবং সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। বিশ্বে এখন পর্যন্ত যতরকম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে, গণতন্ত্র তাদের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ হিসেবে প্রমাণিত। আধুনিক বিশ্বে মানুষ অপরের হাতে শোষিত হতে চায় না। সে নিজের বিবেককে জাগ্রত করতে এবং তাদের স্বার্থের আলোকে শাসিত হতে চায়। মানুষের এ জাগরণের ফল গণতন্ত্র।

গণতন্ত্রে কোনো ব্যক্তি বা দলের খেয়াল-খুশিমতো শাসনব্যবস্থা চালানোর সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি। তাই লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক জনতালীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা, বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলাময়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)সহ সব রাজনৈতিক দলকে প্রধানমন্ত্রী চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো বাধা দেয়া হবে না। আসুক না, হেঁটে হেঁটে যতদূর আসতে পারে। কোনো আপত্তি নেই। আমি বসাব, চা খাওয়াব। কথা বলতে চাইলে শুনব।’  মূলত এটাই রাজনীতির সংস্কৃতি হওয়া উচিত। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যেকোন দলের  মতাদর্শিক দূরত্ব থাকতেই পারে। কিন্তু সম্পর্ক থাকবে না, সেটা হয় না। ক্ষমতসীন দলের প্রধান সবার অভিভাবক। তার ডাকে সবাই সাড়া দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত শক্ত করবে এটাই স্বাভাবিক। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সব সময় দেশের সংকট নিরসনে সবার অংশ গ্রহণ জরুরি।

বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর চায়ের আমন্ত্রণ রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণ মূলত সংলাপেরই আহ্বান-এটা নিশ্চিত করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মিন’ করেই এই বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপি এখন কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার। সরকারি দলের ওই নেতারা বলছেন, বিএনপির আন্দোলনের হুমকিধমকিতে নয়, মূলত নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের চাপ আমলে নিয়েই সরকার ও আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংলাপের পথ খুলে দেয়া হয়েছে। এতে কার লাভ হবে সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো দেশের সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংলাপে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের  অংশগ্রহণ নিয়ে যে সংকট চলছে- প্রধানমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে সেই সংকটের সমাধান হলে সেটা দেশ ও দশের জন্য উপকার হবে। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের এই আহ্বান রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে চা খাওয়াবেন এ কথাটাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আমাদের দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন সম্পর্ক থাকবে না এটা  খুবই বেমানান। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষয়টি দেখা যায়- যেটা আশাপ্রদ।

বৈশ্বিক সেরা ও প্রভাবশালী রাজনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সুনাম রয়েছে, দেশকে যিনি অনেক কম সময়ে উন্নয়নের মহাসড়কে দাঁড় করিয়েছেন। যার কারণে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তার হস্তক্ষেপে রাজনৈতিক সংকট সমাধান হবে এটা সবার প্রত্যাশা। অন্যদিকে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিদেশেও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বিএনপি। নির্বাচন সুষ্ঠু হোক এ চাওয়া সবার। কিন্তু সেজন্য রাজনৈতিক সংলাপ জরুরি। রাজনৈতিক সংলাপের মধ্য দিয়ে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। সংলাপ ছাড়া সংকট দূর হবে না। ঠিক এমনি  প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্যে পরিষ্কার যে, সরকার সংলাপে রাজি।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির এ এক বড় বিষয়, এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আমন্ত্রণ করা। এই আমন্ত্রণের টেবিলে এতকাল যেকথা বলা যায়নি তা বলা যাবে। তাছাড়াও  সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে, ফিরিয়ে দিলে দেশি-বিদেশি সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে বিএনপিকে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই এ সংলাপে সব দলের সাড়া দেয়া উচিত।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar