সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫ জুন ২০২২, ১৬:১৫

ইসরাত জাহান: প্রচণ্ড গরমের মধ্যে উঠোনে ধান শুকাতে দিয়ে তা পাহারা দিচ্ছে কোনো এক মা। কোনোভাবেই যেন একটা দানাও মুরগি না খেতে পারে। রোদে যতই কষ্ট হোক না কেন তিনি তীক্ষè দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে ধানের দিকে। এটি কোনো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে লেখা গল্প নয়, এটাই বর্তমান বাস্তবতা। যেখানে একজন মা কষ্টের চাষ করা একটা ধান মুরগির পেটে না যাওয়ার জন্য এতটা কষ্ট করে সেখানে কষ্টার্জিত বাবার পয়সা দিয়ে আজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিজের পকেট ভর্তি করে।

সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কিছু টাকা আয় করে বাবা তার পরিবারের জন্য খাবার কিনতে যায়। কিন্তু আফসোস পেট ভরে খাবে পরিবার ততটুকু খাবার কেনার টাকা তিনি জোগাড় করতে পারেননি তাই নীরবে চোখের পানি ফেলে সামান্য খাবার নিয়ে রাওনা দিলেন পরিবারের কাছে। এ রকম গল্প আজ সোনার বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে।

মাছে-ভাতে বাঙালি। সুদূর অতীতকাল থেকেই প্রবহমান এই রীতি অন্যদিকে মোড় নেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই বাঙালি কৃষি কাজে আসক্ত ছিল। বাঙালির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল কৃষি। এক কথায়, কৃষিনির্ভর জীবনব্যবস্থা। শুধুমাত্র কৃষি নয়, অনেক বাঙালি রয়েছে যারা দিনে এনে দিনে খায়। সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত তাদের কাজ চলতেই থাকে। এদের সাথে রয়েছে কিছু চাকরিজীবী। যাদের মাস শেষের সামান্য বেতন হাতে গোনা কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে পাওয়া কিছু অর্থ যখন ক্রয়ক্ষমতার জন্য অনেক বেশি নগণ্য হয়ে পড়ে তখন এদের সামনে নেমে আসে অনেক বড় চিন্তার পাহাড়। কথায় আছে, বাঁচতে হলে কাজ করতে হবে। সেই নীতি মেনে বাঁচার তাগিদে কাজ করে যাচ্ছে মানুষগুলো। কিন্তু তাদের দুঃখের যেন শেষ নেই কয়েকদিন যেতে না যেতেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি তাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে ধরা দেয়। এইতো খুব বেশি নয় গেল কয়েকদিন আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে চতুর্দিক থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে দ্রব্যমূল্য। আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর দাম। সোনার বাংলার প্রতিটি মানুষ চায় অন্যমাসগুলোর তুলনায় যেন রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য কম থাকে। কিন্তু আফসোস এই মাসে দ্রব্যমূল্য আরো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে।

দ্রব্যেমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সিন্ডিকেট। কিছুমহল এই সিন্ডিকেটে মেতে উঠে দ্রব্যেমূল্য বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত মুনাফালোভী এসব ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যতবার দ্রব্যেমূল্য বৃদ্ধি পায় ততবারই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার তদারকির ব্যবস্থা করা হয়। তখন বলা হয় যে এসব সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত মহলকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে। কিন্তু সেই শাস্তি আর প্রদান করা হয় না। এতে করে আইন বিভাগের উদাসীনতা দেখা যায়। তাদের এই উদাসীন মনোভাবের কারণে দ্রব্যমূল্য কিছু মানুষের জন্য মারণাস্ত্রে পরিণত হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন বলগাছাড়া অসহায় মানুষগুলোর জন্য বজ্রাঘাততুল্য। এই অসহায় মানুষগুলোর কথাভেবে ঊর্ধ্বতন মহলকে সচেতন হয়ে শিগগিরই এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সবসময় বাজার তদারকির ব্যবস্থা করা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেকটা দ্রব্যের মূল্যতালিকা দোকানের সামনে টাঙিয়ে দেওয়া সরকারের খুব শিগগিরই এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, না হয় জনমনে যে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে তা যে কোনো সময় জনবিস্ফোরণ রূপ নিতে পারে। ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছাই পারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে। সাধারণ মানুষের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলকে উদার মনোভাবাপন্ন হয়ে ওঠা উচিত। না হয় অসহায় মানুষগুলোকে খাবারের অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar