নিউমার্কেট এলাকার ঘটনার সুরাহা হোক


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ এপ্রিল ২০২২, ১৪:৫৮,  আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২২, ১৬:৫২

আহসান হাবিব: রমজানের মধ্যে ঢাকা কলেজ আর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটল তা এতটাই অনভিপ্রেত ছিল যেটা লিখে প্রকাশ করা যাবে না। ঈদকে সামনে রেখে নিউমার্কেট এলাকা বিভিন্ন  মাপের ক্রেতাদের কাছে যেমন জরুরি। জরুরি ব্যবসায়ীদের জন্যও। কিন্তু এই সংষর্ষে শত শত কোটি টাকার যেমন লস হলো, তেমনি দুজনের মৃত্যু কোনমতেই ক্ষতি পূরণের নয়। ঢাকা কলেজ  শিক্ষা আর সমৃদ্ধি দিয়ে সম্ভাবনার জাল বুনেছে বেশ আগে থেকে। জাতির অনেক মেধাবী সন্তান ধন্য হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হয়ে। শুধু দেশেই নয় বরং উপমহাদেশের বিদ্যারণ্যে প্রবীণ এক বৃক্ষের নাম ‘ঢাকা কলেজ’।

বহুদিন ধরে ঢাকা কলেজ এবং নিউমার্কেটের দোকান মালিক-কর্মচারীদের সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে। দোকান মালিকদের অভিযোগ ছাত্ররা চাঁদাবাজি করে, জিনিসপত্র নিয়ে দাম দেয় না। ছাত্রদের অভিযোগ নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। তাদের দামেরে সঙ্গে না মিললে আপত্তিকর মন্তব্য করা তাদের স্বভাব। যদিও একথার সঙ্গে একমত হবেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু এ ঘটনাটা এমন সময় ঘটলো যে, একদিকে মানুষের ঈদের কেনাকাটা। অন্যদিকে নিউমার্কেট দোকান মালিক-কর্মচারী, হকার এবং ঢাকা কলেজের ছাত্রদের রণক্ষেত্র। ঢাকা কলেজের ছাত্র এবং নিউমার্কেটের দোকান মালিক-কর্মচারী ও হকারদের মধ্যে একটু উনিশ-বিশ হলেই শুরু হয়ে যায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। খাবার দোকানের সামান্য ব্যাপার নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে শুরু হওয়া লঙ্কাকাণ্ড মোটেও কাঙ্খিত নয়।

দুপক্ষের সংঘর্ষকালে  ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেটের দোকান কর্মচারী ও হকারদের মধ্যে যে ধরনের মারমুখী অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে সেটা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সংঘর্ষে  নিহত হয়েছেন ২ জন এবং আহত হয়েছেন ৪০ জন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন ১২ জন সাংবাদিকও। আসলে কি এই সংঘর্ষ ছাত্রদের সঙ্গে নাকি তৃতীয় পক্ষের কোন ইন্ধনদানকারীর এটা খতিয়ে দেখা দরকার। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ইফতারের সময় টেবিল বসানো নিয়ে নিউমার্কেটের দুটি খাবারের দোকানের কর্মীদের মধ্যে বিরোধ হয়। এর জেরে ওয়েলকাম ফাস্ট ফুডের এক কর্মচারীকে মারধর করেন ক্যাপিটাল ফাস্ট ফুডের একজন। প্রতিশোধ নিতে একজন ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আরেকজনের ওপর হামলা চালায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এর নেপথ্যে উসকানি দিয়েছে অন্তত তিনটি রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা। তারা কারা। তারা একাধিক ‘ছাত্রের লাশ’ ফেলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীলনকশায় মেতে উঠেছিল। কিন্তু ছাত্রের লাশের পরীবর্তে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিপণিবিতানের দোকানমালিক ও কর্মচারীদের এই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আহত হয়ে নাহিদ হোসেন নামের এক পথচারী এবং একদিন পর বৃহস্পতিবার মোরসালিন নামের এক দোকান কর্মচারী মারা যান। সংঘর্ষে লিপ্ত ছাত্র ও দোকান কর্মচারীদের নানাভাবে উসকে দেয় তারা। দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে মিলে সংঘর্ষে যোগ দেয় বহিরাগতরা। তারা দেশে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল।

যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ‘নীলনকশায়’ লিপ্তদের কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। রাজধানীর ঈদের কেনাকাটার প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেট এলাকায় হামলা থেকে রেহাই পায়নি অ্যাম্বুলেন্সও। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, আহত এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বেলা একটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি কলেজের সামনে দিয়ে নীলক্ষেতের দিকে যাচ্ছিল। সেটিতে ভাঙচুর চালান দোকানমালিক, কর্মচারী ও হকাররা।

রামদা হাতে বেপরোয়া হেলমেটধারীকে একদল সন্ত্রাসীকে ধরতেও মাঠে নেমেছে পুলিশের একটি দল। ঢাকা নিউ মার্কেট এলাকা এবং ঢাকা কলেজের বহুকাল থেকে দ্বন্দ্বে কত মানুষ আহত হয়েছে, কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, কত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে এর খোঁজখবর কী তারা রাখেন। রাখেন না। তাদের জন্য কেন একটি পরিবার নিঃস্ব হবে। এই দুই পক্ষকে দমন করার মতো কি কেউ নেই। ঢাকা নিউ মার্কেটের দোকান মালিক এবং কর্মচারীদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষও অতিষ্ট। তারা কাস্টমারদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এ অভিযোগ বহুদিনের। দর-কষাকষি করতে গেলে তারা কটূক্তি করেন। নারী ক্রেতাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

কিন্তু সাধারণ ক্রেতা মান-সম্মানের ভয়ে তাদের এই অত্যাচার মুখ বুঝে সহ্য করেন। কিন্তু এই ঘটনা যদি তার প্রতিবাদে হতো তাহলে কথা ছিলো। এটার মরেধ্য অন্য মতলব আছে কিনা রেসটা খুঁজে দেখা উচিত। কারণ ঈদকে সামনে রেখে এই সর্বনাশের খেলা কারা খেললো সেটা বের করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার।   কারা দোষী এটা চিহ্নিত করে দোষীদের বিচার করা হোক। সরকারের উচিত এই ঘটনার  ক্রীড়নকদের কঠোর হস্তে দমন করা।  নিহত দুই পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এমন একটি শাস্তির বিধান করা উচিত, যাতে কোনো পক্ষই যেন আর দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে সাহস না পায়।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar