মানসিক স্বাস্থ্য টেস্ট

ড. ফারজানা আলম
ড. ফারজানা আলম - সংগৃহীত।

  • ড. ফারজানা আলম
  • ১০ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩৩,  আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৪৫

আজকাল বাড়ি থেকে বের হবার আগে আমরা অবধারিত মোবাইলে ফুল চার্জ দিয়ে বের হই। মোবাইল যদি ডিস্টার্ব করে তাহলে একটা রিস্টার্ট দেই, কম্পিউটারে ঘন ঘন রিফ্রেস বাটন চাপি, ইন্টারনেটে সমস্যা হলে প্রথমেই রাউটারকে রিস্টার্ট দেই। গাড়িগুলো নিয়মিত সার্ভিসিং করাই। এর উপকারও পাই। যন্ত্রটি বেশিরভাগ সময় ঠিক হয়ে যায়। আবার আগের মতো কাজ করে। 

কিন্তু কতজন আমরা নিজেদেরকে চার্জ করি? নিজেকে শেষ কবে ফুল চার্জ করেছি? কিভাবে করতে হয় তার কায়দা-কানুন কি জানি? নিজের ব্যবহৃত সমস্ত যন্ত্রপাতিকে ফুল চার্জ দিয়ে প্রায় রুগ্ন মন নিয়ে রোজ বাসা থেকে বের হই, ততোধিক বিধ্বস্ত মন নিয়ে ঘরে ফিরে আসি। স্বাভাবিক শান্তির ঘুমে আজকাল বিলুপ্তির পথে। এরকম কেন হচ্ছে?

নিজেদের সমস্ত খুঁটিনাটি চাওয়া-পাওয়া গুলোকে আমরা জীবনের থেকে বড় করে দেখছি। আমরা সামান্য মানুষ, সামান্য আয়ু নিয়ে এসেছি। কিন্তু নিজেদের জীবনের এসব বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে করছি। জীবনের নানা সংঘাতগুলোকে হালকা ভাবে নেয়ার দক্ষতা অর্জনের পরিবর্তে আমরা এই যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষগুলোকে হালকা মানুষ মনে করি। জীবনকে হালকাভাবে নেয়া যেন দায়িত্বহীনদেরই কাজ। এখানেই আমাদের ভুল হচ্ছে।

জীবনের প্রতি সবচেয়ে দায়িত্বশীল যে আচরণ আমরা করতে পারি- তা হলো এখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে হালকাভাবে নেয়া। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আপনি হাসিমুখেই করতে পারেন। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাকে হেসে উড়িয়ে দেয়া সম্ভব যদি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। আজকাল আমরা শারীরিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হয়েছি। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে এত হেলা করি যে, নিজেরাই নিজেদের ভেতরটা রাগ, ঘৃণার মতো বাজে অনুভূতি দিয়ে বিষাক্ত করে ফেলেছি। কেবলই একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছি।

গত ৯ অক্টোবর প্রথম আলোর একটি রিপোর্টে এসেছে দেশের ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। এরা তো কেবল শিক্ষার্থী কিন্তু বাকিরা কি ভালো আছি? ভালো থাকা যে কি কঠিন কাজ তা আজ আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝি।

আসলে ভালো থাকার মতো সহজ কাজ আর হয় না। কারণ নিজের মন আসলে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। আমরা অকারণে জীবনটা জটিল করে এর নিয়ন্ত্রণ আরও অনেক কিছুর উপর ছেড়ে দিয়ে এখন অসহায়ের মত রোগী হয়ে বসে আছি।

করোনার ওষুধ আবিষ্কার হয়নি, কিন্তু টেস্ট করা যায়। মানসিক স্বাস্থ্যের যে নিদারুণ অবনতি ঘটেছে, এই রোগের নানান সহায়ক ওষুধ আছে বাজারে, কিন্তু কোন টেস্ট কিট নেই। যদি থাকত তাহলে বুঝা যেত, পৃথিবীর প্রায় সবাই আমরা এই রোগী।

নিজের মনের ভেতর একবার ডুব দিয়ে দেখুন - কেমন আছেন? চলুন মনটা গুছিয়ে রাখি, মনোরম সুন্দর করে রাখি ।

লেখক : অ্যাসোসিয়েট ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।


poisha bazar

ads
ads