প্রীতিময় হোক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৩০

রিয়াদ হোসেন

‘শুধু ভালো ছাত্র নয়, তোমাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে দেখতে চাই’ এমন একটি আশার বাণী রেখেছিলেন আমার একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। আর এমন আশা বা প্রত্যাশা নিজের পিতা মাতার পরে শিক্ষকই করতে পারেন। এজন্যই বোধহয় সকল সমাজ, ধর্ম এবং সামাজিক রীতিনীতিতে পিতা মাতার পরেই শিক্ষকের অবস্থান দেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা হলো, ‘মানুষ তৈরির কারিগর’।

প্রকৃতপক্ষে শিশুর মানুষিক বিকাশ আর সামাজিক গুণাবলি সবকিছুই হয়ে থাকে একজন শিক্ষকের মধ্যে দিয়ে। তিনি শিক্ষার্থীর মনন, মেধা ও আত্মশক্তির বিকাশ ও সৃজনশীলতাকে প্রসার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৪ সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতিবছরই  দিবসটি উদযাপিত হয়।  দিবসটি শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করার জন্য প্রতিবছরই পালন করা হয়। বিশ্বের ১০০টি দেশে এই দিবস পালিত হয়ে থাকে।

একটি ছাত্র-ছাত্রীর অনুপ্রেরণার বাতিঘরে আলো জ্বালান একজন শিক্ষক। তার আলোয় আলোকিত হয়েই একজন শিক্ষার্থী ছড়িয়ে পড়ে দেশ-দেশান্তরে। মূলত শিক্ষকই আমাদের হাতেখড়ি দিয়ে জ্ঞানের দরজা খোলেন আর স্পর্শ করেন হƒদয়ে। একজন শিক্ষার্থীর চলার পথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বার্থহীন পরামর্শদাতা হিসেবে রয়ে যান তার শিক্ষক। যেকোনো সমস্যা বা সম্ভাবনায় সঙ্গী হয়ে পথকে আরো সহজ করে তুলতে সহযোগী হন তারা।

একজন শিশুর জন্মের পর থেকে প্রকৃতি ও পরিবারের কাছ থেকেই শুরু হয় তার শেখা। তারপর ধীরে ধীরে শিশুটি যখন স্কুলমুখী হয় তখন তার আগামীর পথচলা কিংবা ভালো মন্দের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন শিক্ষকরা। তারা শুধু বইয়ের জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন না। এর পাশাপাশি তারা শিখিয়ে দেন একজন ভালো মানুষ হওয়ার মন্ত্র। যে মন্ত্রে  থাকে নীতিনৈতিকতা, সামাজিকতা ও মূল্যবোধের ধ্যান-ধারণা। আর এগুলোর মধ্যে দিয়েই একজন ছাত্র-ছাত্রী ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করতে থাকে।

এই দিনটিতে দেশের অগণিত শিক্ষকদের আদর্শগত মহান কর্মকাণ্ডের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তাদের হাতে গড়া প্রিয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের পেশাগত অবদানকে স্মরণে-বরণে শ্রদ্ধায় পালন করার জন্য সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মহান শিক্ষক দিবস পালন করার রীতি রয়েছে। শিক্ষকদের নিয়ে করা সফল এবং বিখ্যাত কিছু মানুষের বাণীতে স্পষ্ট প্রমানিত হয়েছে শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসার জায়গা এবং তাদের অবস্থানের কথা।

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘যদি তুমি জীবনে সাফল্য অর্জন করে থাকো তাহলে মনে রাখবে তোমার পাশে একজন শিক্ষক ছিলো যে তোমাকে সাহায্য করেছিল।’ আমরা যদি ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এ. পি. জে. আবদুল কালামের একটি উক্তি দেখি তাহলে দেখবো তিনি বলেছেন, একজন খারাপ ছাত্র একজন দক্ষ শিক্ষকের কাছ থেকে যা শিখতে পারে তার চেয়ে একজন ভালো ছাত্র একজন খারাপ শিক্ষকের কাছ থেকে অনেক বেশি শিখতে পারে।’ এভাবে দেখা গেছে, পৃথিবীতে স্মরণীয় বরণীয় মানুষগুলোর সবাই শিক্ষককে অনেক বড় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

একজন শিক্ষকের হাতে গড়ে ওঠে বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, ডাক্তার, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ। তাদের হাতেই গড়া আজ একজন শিক্ষার্থী বড় পুলিশ অফিসার কেউ নামকরা ম্যাজিস্ট্রেট। প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। শিক্ষকতা কেবল চাকরি নয়, এটি একটি মহান পেশা। সমাজ গঠনে, দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে, সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে একজন আদর্শ শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। তাই একটি জাতিকে আলোকিত করতে সুশীল শিক্ষক সমাজের কোনো বিকল্প নেই।

আদিম মানুষ আধুনিক মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার পিছনে শিক্ষকদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। তাই সবসময় শিক্ষার্থীদের ভেতর জ্ঞান লাভ, অজানাকে জানাতে এবং অদেখাকে দেখাতেই শিক্ষকদের ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের আচার-আচরণ, ব্যবহার এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হবে যাতে সঙ্কটকালে সমাজ একজন শিক্ষকের মধ্যে আশ্রয় খুঁজে পায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা


poisha bazar

ads
ads