অনেক দূর দেখতে পান শেখ হাসিনা


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩:৪৩

ড. আতিউর রহমান

তিনিই সফল নেতা বা নেত্রী, যাঁর কাজকর্ম অন্যদের আরো স্বপ্ন দেখায় এবং আরো বড় হওয়ার উৎসাহ দেয়। তিনি অতীত থেকে শক্তি সঞ্চয় করেন বর্তমান পেরিয়ে ভবিষ্যতের পানে ছোটার জন্য। তিনি পুরো সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে আবেগের সঞ্চারণ ঘটান। এমন উজ্জ্বল নেতার সন্ধান পেয়েছিল বলেই বাঙালি তার হাজার বছরের স্বপ্ন সফল করে নিজেদের জন্য স্বাধীন-সার্বভৌম এক ভূখণ্ড অর্জন করতে পেরেছিল।

জাতির পিতার নেতৃত্বে অর্জিত সেই বাংলাদেশ নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজ বিশ্বজুড়ে এক সফল গতিময় দেশের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। সর্বগ্রাসী মহামারী পায়ে দলে জোর কদমে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করার যে ঐতিহ্য স্থাপন করে গেছেন বঙ্গবন্ধু, তাকে সজোরে আঁকড়ে ধরেছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা। বঙ্গবন্ধু যেমন করে করে শিখেছেন, দুঃখের বন্ধনকে শক্তিতে রূপান্তর করেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যাও ঠিক তেমনি অতীত-বর্তমানের মধ্যে নিরন্তর ‘চিত্তের সম্বন্ধ’ (রবীন্দ্রনাথ) বজায় রেখেই এগিয়ে চলেছেন স্বদেশের দ্রুত রূপান্তরের পথরেখা ধরে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘ভারতবর্ষীয় সমাজ’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘সমাজের নীচ হইতে উপর পর্যন্ত সকলকে একটি বৃহৎ নিঃস্বার্থ কল্যাণ বন্ধনে বাঁধা, ইহাই আমাদের সকল চেষ্টার অপেক্ষা বড়ো চেষ্টার বিষয়।’

শুধু বর্তমান কেন, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক আরো অনেক দূরে দেখতে পান। আর তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা এমন সংকটকালে দাঁড়িয়েও ‘আরো সবুজ, আরো পরিচ্ছন্ন এবং আরো নিরাপদ’ বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন। সম্প্র্রতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মহামারীজনিত অর্থনৈতিক মন্দা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী দ্য ফিন্যানশিয়াল টাইমসে লিখেছেন, ‘কর্মসংস্থানকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে শুধু বর্তমানের কথা না ভেবে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের কথাও বিবেচনা করতে হবে। তাই আগামী কয়েক দশকের কথা ভেবে আমাদের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে হবে।’

তিনি সব সময়ই এ রকম একই সঙ্গে দূরদর্শী ও জনবান্ধব চিন্তা করেন। তা ছাড়া তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও। দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বের এমন পরম্পরা খুব বেশি দেখা যায় না। সেই বিচারে আমরা ভাগ্যবান বটে। আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রযাত্রার শুরুটা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। একটি বিধ্বস্ত দেশকে তিনি সমৃদ্ধির ধারায় নিয়ে এসেছিলেন অল্প সময়েই। মাথাপিছু আয় সাড়ে তিন বছরে দ্বিগুণের বেশি করে তিনি আমাদের ‘সোনার বাংলা’র স্বাদ পাইয়ে দিতে শুরু করেছিলেন। দেশবিরোধীদের চক্রান্তে তাঁকে শারীরিকভাবে হারিয়ে আমরা বেশ খানিকটা দিশাহারা হয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ছিলেন আমাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে। এখনো তেমনই রয়েছেন।

অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের পর তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে আবারো সেই স্বর্ণালী অভিযাত্রার পথে ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে গত এক দশকে তাঁর নেতৃত্বে আমরা যে ইতিবাচক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তাকে অভাবনীয়ই বলতে হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এক দশক আগে ক্ষমতায় এসেছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে। সেভাবে নীতি গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়নও তিনি করেছেন। তার সুফলও আজ পুরো জাতি পাচ্ছে। সরকারি সেবার ব্যাপকভিত্তিক ডিজিটাইজেশনের ফলে অপচয় কমিয়ে মানসম্পন্ন সেবা পৌঁছে যাচ্ছে জনগণের দ্বারপ্রান্তে।

১৯৭৫-এ মাথাপিছু আয় ছিল ২৭৮ ডলার। এখন তা দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই উল্লম্ফনের ৭৩ শতাংশই কিন্তু হয়েছে শেষ ১০ বছরে। গত ১০ বছরে যেখানে প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ৭ শতাংশ, সেখানে তার আগের দুই দশকের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশের মতো। রফতানি বৃদ্ধিতেও একই ধারা দেখি। ১৯৭৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বার্ষিক রফতানির পরিমাণ ৯৮ গুণ বেড়ে ৩৯ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। এখানেও কিন্তু মোট প্রবৃদ্ধির দুই-তৃতীয়াংশ বেড়েছে শেষ দশকেই।

এসবের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। জিডিপিতে কৃষির অবদান কমলেও গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় সেখানকার আয়েরও ৬০ শতাংশ আসছে অকৃষি খাত থেকে। সর্বোপরি গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ, শিক্ষার প্রসারের মতো সূচকগুলোতেও আমরা ভালো করেছি। এরই মধ্যে আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এক দশক আগে ক্ষমতায় এসেছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন দেখিয়ে। সেভাবে নীতি গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়নও তিনি করেছেন। তার সুফলও আজ পুরো জাতি পাচ্ছে। সরকারি সেবার ব্যাপকভিত্তিক ডিজিটাইজেশনের ফলে অপচয় কমিয়ে মানসম্পন্ন সেবা পৌঁছে যাচ্ছে জনগণের দ্বারপ্রান্তে। ব্যাপক পরিবর্তনের এই ছোঁয়া লেগেছে বেসরকারি খাতেও। শিক্ষা আর স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক খাতগুলোতেও এর ইতিবাচক প্রভাবই পড়েছে। তবে ডিজিটাইজেশনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে।

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গ্রাহকদের কাছে সুলভে বিভিন্ন রকম আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানতম ভূমিকাটি পালন করেছে ডিজিটাল প্রযুুক্তি। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এখন তাই নিমিষেই প্রবাসী কর্মীরা তাঁদের আত্মীয়দের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন। প্রতি মাসে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার প্রবাস আয় আসছে বাংলাদেশে। এর প্রধান অংশই যাচ্ছে গ্রামবাংলায়।

এখনো মোট শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশ কৃষি খাতেই নিযুক্ত আছে। সরকারও তাই কৃষির দিকে নীতি-মনোযোগ অব্যাহত রেখেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি বাজেটে কৃষিখাতে বাড়তি বরাদ্দ দিয়েছেন। বস্তুত তিনি কৃষিতে ভর্তুকি নয়, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ফিবছর। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য নীতিনির্ধারকরা বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকায়নে। কৃষি গবেষণায় বেশি বেশি নীতি সমর্থন থাকায় নতুন নতুন জাতের ধান, গম, ভুট্টা ও সবজির উৎপাদন বেড়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য প্রতিকূল পরিবেশ সহিষ্ণু ১৩টি জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে। এর বাইরে পাটের কয়েকটি নতুন জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি পাটের জীবনরহস্যও উšে§াচন করেছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

এ ধরনের গবেষণায় নিরন্তর নীতি ও অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। শুধু বাজেট কেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, কুড়ি বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং শতবর্ষীয় বদ্বীপ পরিকল্পনায়ও তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম আধুনিক ও মূল্য সংযোজনমূলক বহুমাত্রিক কৃষির উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন। তাই অবাক হই না যখন জানতে পারি যে বাংলাদেশ এখন চাল উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়, মাছে তৃতীয়, সবজিতেও তৃতীয় এবং আম উৎপাদনে অষ্টম। খাদ্য উৎপাদন সূচকে আমরা চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও আর্জেন্টিনার মতো দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছি। সেচ, সার, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং স¤প্রসারণ সেবার ক্ষেত্রে সরকারের বাড়তি বিনিয়োগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী নীতি সমর্থনের কারণেই সম্ভব হয়েছে। অর্থনীতির রক্ষাকবচ কৃষির ‘রেজিলিয়েন্স’ বা সহনীয়তা বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের পথ দেখাচ্ছে।

উন্নয়নের প্রধানতম সূচক হিসেবে ব্যবহƒত হয় বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্তি। বিদ্যুৎ মানেই সভ্যতা। বাংলাদেশে এখন প্রায় সব পরিবারই বিদ্যুৎ পাচ্ছে। যেখানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছাতে দেরি হয়েছে, সেখানকার নাগরিকদের কাছে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ৪.৫ মিলিয়ন পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া গেছে সোলার হোম সিস্টেম। এর ফলে বছরে ২২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের কেরোসিন বাঁচানো গেছে, ৪১ হাজার মেট্রিক টন কাঠের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। পাশাপাশি সোলার সেচের প্রসার ঘটেছে ‘নেট মিটারিং’ সুবিধা চালু হওয়ার কারণে। শিল্পাঞ্চলে ‘সোলার রুফটপ সলিউশন’, ‘সোলার স্ট্রিট লাইট’, বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ রূপান্তর তহবিল এ সবই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সবুজ বাংলাদেশ গড়ার নানা অনুষঙ্গ।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ফলে বিনিয়োগ পরিবেশেরও উন্নতি হয়েছে। এর পাশাপাশি বিডাসহ রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালা সহজীকরণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সা¤প্রতিক বছরগুলোতে যথেষ্ট সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। এর পেছনেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক সমর্থন বেশ স্পষ্ট। সম্প্র্রতি ঢাকায় নিয়োজিত জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি তাই বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি কর, কাস্টমস ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হ্রাসকরণের মাধ্যমে আসলেই বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্ক (মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল), আড়াইহাজার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেট্রো রেল, রূপপুর প্রকল্প, পায়রা বন্দর এখন দৃশ্যমান। এতগুলো মেগাপ্রকল্প একই সঙ্গে এগিয়ে নেয়ার সৎসাহস দেখাতে পেরেছেন বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সুদূরপ্রসারী রাষ্ট্রনায়ক বলা হয়।

মানবসম্পদ উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর জীবনঘন শিক্ষাদর্শনকে মূল জায়গায় রেখে বিগত এক দশকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করেছেন। গুণ-মানের অপূর্ণতা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার শিক্ষার বিস্তারে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। গত এক দশকে এ ক্ষেত্রে আমাদের অর্জনের খতিয়ান আশা-জাগানিয়া। প্রাথমিকে নেট এনরোলমেন্ট রেট ৯৮ শতাংশ, মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশ। উভয় ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সাম্য অর্জিত। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার চার লাখ থেকে বেড়ে ১০ লাখ। কারিগরিতে ভর্তির হার ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬ শতাংশ হয়েছে ছয় বছরে। প্রতিবন্ধীসহ সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে নানামুখী বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রণোদনা কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাই শুরু থেকেই এ বিষয়ে সচেতন থেকেছেন। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তার প্রমাণ। এ পরিকল্পনায় শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজšে§র জন্যও একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করে উন্নয়ন কৌশলের দিকনির্দেশনা রয়েছে। দ্রুত বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এমন সচেতন প্রতিশ্রুতি বাকি দেশগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত। তাই ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতৃত্বের মানসিকতায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে তিনি নিজে দ্য গার্ডিয়ানে লিখেছেন, ‘...আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি না। বরং সকলকে সতর্ক করছি।...সা¤প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সারা বিশ্বেই উপকূলীয় অঞ্চলের বহু মিলিয়ন অধিবাসীর নিজেদের আবাসস্থল ত্যাগ করতে হবে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেছিলেন, ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ তাঁর কন্যা সে কথা প্রমাণ করে চলেছেন অবিরত। আমাদের সীমিত সম্পদ আর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তিনি তৈরি করেছেন। করোনা মহামারীর মতো ধাক্কা সামাল দেয়ার সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি তাঁর নেতৃত্বগুণেই। তাঁর নেতৃত্বের বড় গুণ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সাহসিকতা। কবি সুফিয়া কামাল যথার্থই লিখেছিলেন‘...শেখ হাসিনা মৃত্যুর ভয়ে পশ্চাৎপদ হননি। সাহসের সাথে সংগ্রামে এগিয়ে অগ্রবর্তিনী হয়ে আমাদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।’ (আলী হাবিব সম্পাদিত ‘তিমির হননের নেত্রী’, ২০১৮, ‘সুফিয়া কামালের প্রার্থনা : শেখ হাসিনার জন্য’, পৃষ্ঠা ৯) একইভাবে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী মনে করতেন, ‘শেখ হাসিনার ওপর বিধাতার বিশেষ করুণা ও আশীর্বাদ আছে।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ১৪) তাই তিনি আশীর্বাদ করেছেন ওই লেখায়, ‘সামাজিক কিছু অসুবিধা হলেও ইতিহাসের পাতায় তোমার সুনাম স্থায়ী হবে। জাতিও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’ সেই আশাবাদ কিন্তু বাস্তবেও পূরণ হচ্ছে। বাংলাদেশ আসলেও এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে।

এমন আরো অসংখ্য শুভাকাক্সক্ষী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, সাহস ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসাকেই তাঁর পথচলার বড় শক্তি হিসেবে দেখেছেন। সেই শক্তিবলেই তিনি এগিয়ে চলেছেন ‘পথে পথে পাথর ছড়ানো’ ও ‘দুর্গম গিরি, কান্তার মরুপথ’ পাড়ি দিয়ে দিয়েই (নির্মলেন্দু গুণ)। জানি এ পথ মোটেও মসৃণ নয়। তবু তিনিই দিয়ে চলেছেন ‘মানুষের দেশে ফের মানুষের সংসার’। (সৈয়দ শামসুল হক, ঐ, পৃষ্ঠা ৫১৫) তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন ‘রেজিলিয়েন্স বিল্ডার’। তাঁকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নদর্শনের আলোকে দেশকে সব বাধা ডিঙিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জš§দিনে দীর্ঘায়ু কামনা করছি। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের জš§দিনে নিরন্তর শুভেচ্ছা।

লেখক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।


poisha bazar

ads
ads