নির্বাচনী সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৯,  আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৮:৪৯

বাংলাদেশের নির্বাচন মানেই অনিয়ম-সহিংসতা। স্থানীয় নির্বাচনেও অনিয়ম-সহিংসতা-রক্তপাত! অথচ স্থানীয় সরকার সংস্থা তথা তৃণমূলের নির্বাচন রাষ্ট্র ও সমাজে গণতন্ত্র চর্চার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। নির্বাচনে কম-বেশি অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতা উন্নয়নশীল অনেক দেশে ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র একেবারে ভিন্ন। নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতা যেভাবে গেড়ে বসেছেন সহনশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। অনেকটা নির্বাচন ও সহিংসতা একে অপরের পরিপূরক।

নির্বাচন মানেই অনিয়ম-সহিংসতা! সরকারে পূর্ব ঘোষণার প্রেক্ষিত ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন তারিখে বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এরই অংশ হিসেবে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হতাহতের ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হল স্থানীয় সরকারের তৃণমূলের ভিত্তি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থগিত ভোট। ১৬১টি ইউপি ও ৯ পৌরসভায় গত সোমবার অনুষ্ঠিত এ ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। তবে কক্সবাজারের মহেশাখালী, কুতুবদিয়া, বাগেরহাট, মোংলা, সন্দ্বীপসহ বেশকিছু স্থানে হতাহতের ঘটনা শান্তিপূর্ণ ভোটকে সহিংস করে তোলে।

এসব ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। শুধু তাই নয় নির্বাচনের পিছু ছাড়ছে না সহিংসতা, তেমনি অনিয়মও। অনিয়মের অভিযোগে বেশকিছু এলাকায় নির্বাচন বর্জনের ঘটনা যেমন ঘটেছে তেমনি জাল ভোট প্রদানের প্রচেষ্টাও হয়েছে অনেক জায়গায়। নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে ভোটের দিন এবং এর পূর্বাপর সময়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এখনো তা ঘটছে।

এটা যেন এই নির্বাচনী সংস্কৃতিরই অংশ। অতীত অভিজ্ঞতা থেকেও বলা যায়, এ দেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের কারণে সহিংসতার আশঙ্কা বরাবরই থেকে যায়। জনবল সঙ্কটজনিত কারণে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা যায় না। একসঙ্গে সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হলে পরিস্থিতি যে ভয়াবহ হতো তা সহজেই অনুমেয়।

ধাপে ধাপে নির্বাচন হচ্ছে, অথচ পরিস্থিতি সামাল দিতে পেতে হচ্ছে বেগ। কারণ মূলত পুলিশের স্বল্পতা। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়া, কোথাওবা ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না দেয়ার ঘটনা এবারের দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও ঘটেছে। সংঘাতহীনভাবে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের শক্ত অবস্থান ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীল মনোভাবের ঘাটতি এবারো দেখা গেছে।

এভাবে চলতে থাকলে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের হালহকিকত কোন্ পর্যায়ে তার একটা চিত্র এই নির্বাচনে পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরনের সহিংসতার নজির বিরল নয় অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে, এখনো তার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রেই সহিংসতা কাম্য নয়। দেশের নির্বাচনী সহিংসতা যেন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সব নির্বাচনই উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এটাই সুনাগরিকদের চাওয়া ও প্রত্যাশা।

নির্বিঘ্ন পরিবেশে নিশ্চিন্ত মনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারলে তা গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকেই প্রকাশ করে। একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব প্রতিপালনের মাধ্যমে যেমনি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়, তেমনি সমগ্র প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে। অন্যথায় আস্থার সংকটের কারণে ভোটাররা ভোটদান থেকে বিমুখ হতে পারেন, কিন্তু সেটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মোটেই কাম্য নয়।

নিরপেক্ষ পরিবেশে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, রক্তপাতহীন নির্বাচন ও গণতন্ত্র চর্চার আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সদিচ্ছা থাকলে নির্বাচনী সংস্কৃতির অধঃপতনের কারণগুলো দূর করে আকাক্সিক্ষত নির্বাচনী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা অবশ্যই সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে একটি সুষ্ঠু ও বিতর্কমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। বস্তুত সবাইকে উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচয় দিতে হবে।

তাই সামনের দিনগুলোয় অনুষ্ঠেয় স্থানীয় পর্যায়ের বাকি ধাপের নির্বাচনগুলো যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেদিকেও রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সবার প্রত্যাশা আমাদের দেশের পরবর্তী নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষ ও শতভাগ সহিংসতামুক্ত হোক।

মানবকণ্ঠ/এমএ


poisha bazar

ads
ads