বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট


  • ২১ আগস্ট ২০২১, ১০:১৩

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২১ আগস্ট এক কলঙ্কিত দিন। পৃথিবীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হটাতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর কোথাও কখনো ঘটেনি। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে জঙ্গি সহায়তায় তাকে ঘায়েল করতে চাওয়া ও নেতৃত্বশূন্য করতে চাওয়ার নজির আর কোথাও নেই। সেই নৃশংস ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আজ ১৭ বছর।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশের আয়োজন করে। বিকাল ৫ টা ২ মিনিটে শেখ হাসিনা বক্তব্য শুরু করেন ও ঠিক ২০ মিনিট পর ৫ টা ২২ মিনিটে "জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু" বলে বক্তব্য শেষ করার মুহূর্তে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারা হয়। সেখানে মূল লক্ষ্য ছিলো শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের সকল শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সেদিন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের হত্যা করতে সফল হলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা যেতো।

সেদিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মানবঢাল জীবন বাঁচিয়েছিলো আগস্টেই সব হারানো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। একের পর এক গ্রেনেডের স্প্রিন্টার নেত্রীর দিকে ছুটে আসছিলো কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের তৈরি মানবঢাল ভেদ করতে পারেনি।

শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার কান ও চোখ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেদিন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন নেত্রী। তবে আওয়ামী লীগ হারায় মহিলা লীগের সভাপতি আইভী রহমান, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী মাহবুবুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), সুফিয়া বেগম, মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, ইছহাক মিয়া সহ ২৪ জন নেতাকর্মীকে ।

আহতদের মধ্যে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মেয়র হানিফ, মায়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, পংকজ দেবনাথ ছাড়াও দলের প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী। এনাদের মধ্যে অনেকে এখনো শরীরে স্প্রিন্টারের আঘাত বয়ে চলেছেন।

মানবঢাল যখন শেখ হাসিনাকে ট্রাক থেকে নামিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে দিচ্ছিলো তখন শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহবুবুর রশীদ নিজের জীবন দিয়ে তাকে রক্ষা করেন।

ঘাতকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী ও একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে। যার সবটিই হয়েছিলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়।

এই ঘটনার কুশীলবদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তারেক জিয়া, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার, এনএসআই মহাপরিচালক আবদুর রহিম, জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারেক জিয়ার নির্দেশে হরকাতুল জিহাদ নেতা জঙ্গি মুফতি হান্নান এই আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। হামলার কিছুদিন আগে তারেক জিয়া, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে জঙ্গি হান্নানের বৈঠক হয় কুখ্যাত হাওয়া ভবনে।

১৫ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট মূলত একই সুতোয় গাঁথা। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য ছিলো ২১ আগস্টের হামলার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিঃশেষ করে দেশকে ধ্বংস করাই ছিলো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উদ্দেশ্য। সেই সময় নিরাপত্তার ভার যাদের ওপর ছিলো তারা কেউই সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, এনএসআই, ডিজিএফআই কেউই তাদের কাজ ঠিকভাবে করেনি। মামলা করতে গেলে গড়িমসি, জজ মিয়া নাটক, শেখ হাসিনা নিজেই ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে এসেছিলেন এমন অবান্তর নাটকেরও চিত্রায়ণ হয়েছিলো তখন।

এমনকি আহতদের সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি হাসপাতালগুলোতে। রাষ্ট্রযন্ত্র সরাসরি এমন জঙ্গি পৃষ্ঠপোষক হিসাবে কাজ করেছিলো যা বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক।

আজ ২০২১ সালে এসে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদকে সমূলে উৎপাটন করা হয়েছে। বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানানোর আশা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত যে অপরাজনীতি বাংলাদেশে করেছিলো তা চিরতরে শেষ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো সেদিকেই আজ আমরা এগিয়ে যাচ্ছি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে।

জয় বাংলা,
জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক:
কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
সহ-সভাপতি
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ।


poisha bazar

ads
ads