বিসিএস থেকে নিয়োগ : কিছু বিকল্প চিন্তা

মো. আনারুল ইসলাম

বিসিএস থেকে নিয়োগ : কিছু বিকল্প চিন্তা
ছবি- মো. আনারুল ইসলাম - সংগৃহীত

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০ আগস্ট ২০২১, ১১:৩৪

৩৫তম বিসিএস থেকে ৪০তম বিসিএস পর্যন্ত চিকিৎসক নিয়োগের স্পেশাল বিসিএস বাদে প্রতিটি বিসিএস’র প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যারা পাশ করেছে, তাদের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে তাদের মধ্যে গড়ে প্রতি ৮ জন থেকে ১ জন ক্যাডার পদ পেয়েছেন এবং ৭ জন ক্যাডার পদ থেকে বাদ পড়েছেন।

চলমান ৪১তম বিসিএসের প্রিলিতে যারা পাশ করেছেন তাদের মধ্য থেকেও প্রতি ১০ জনের ১ জন ক্যাডার পদ পাবেন আর অবশিষ্টাংশ ক্যাডার পদ থেকে বাদ পড়বেন। যারা প্রিলিতে পাশ করেছেন তাদের মধ্য থেকে যারা ক্যাডার পদ পাবেন আর যারা পাবেন না তাদের মেধার ব্যবধান ১৯-২০ বা ১৮-২০ বা তার কাছাকাছি।

তবে, এটাই নিয়ম যে যোগ্যরা প্রতিযোগিতা করে তাদের অবস্থান দখল করবেন এবং এটি একটি স্বীকৃত, গ্রহণযোগ্য ও আইনি প্রতিযোগিতা। ফলে কেউ চাইলেই এটা বলতে পারে না যে আমরা যেহেতু প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হয়েছি তাই আমাদেরকেও চাকরি দেওয়া হোক এবং তা বলার কোনও গ্রাউন্ড নেই। কিন্তু একটা বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট যে যারা পাশ করেছেন তারা একেবারে বাদ পড়াদের চেয়ে ওপরে আছেন।

গত কয়েক বছর আগে ড. সা’দত হোসেইন স্যারের আমলে একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে যারা বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে ভাইভা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে তাদের মধ্য থেকে যারা ভাইভা পাশ করবে, তারা নন ক্যাডার ১ম ও ২য় শ্রেণির পদ খালি থাকা সাপেক্ষে শূন্য পদের শতকরা ৫০ ভাগ তাদের মধ্য হতে পূরণ করা হবে। বিষয়টি অনেক চমৎকার ছিল এবং অনেকের জন্য একটা সুযোগ তৈরিও হয়েছিল। ফলে এটা ছিল সাধুবাদ জানানোর মত একটি সিদ্ধান্ত।

তারপরও দেখা গেলো, অনেক প্রার্থী কোনও পদ লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এবার থেকে তারা যেন বঞ্চিত না হয় সেজন্য আরেকটা ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে লক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

প্রস্তাবটি হলো- যারা ক্যাডার বা নন-ক্যাডার কোনও পদই লাভ করবেন না, তাদের মধ্য হতে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এমপিওভুক্ত কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে তাদের খালি থাকা সাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এতে করে করোনার সময় আর যাই হোক; সময়ের অপচয় যেমন বাঁচবে তেমনি ভাইভা পর্যন্ত পাশ করে আসা প্রার্থীরা একটা সম্মানজনক পদে যদি তারা আবেদন করেন, তাহলে লাভ করতে পারবেন। এটা নিবন্ধন পরীক্ষার মান, পরীক্ষার নম্বর এবং সার্বিক বিবেচনায় সব দিক দিয়েই ভালো। এতে একদিকে যোগ্য মানুষ যোগ্য পদে আসার ন্যায্য সুযোগ তৈরি হবে; অপরদিকে, এসব পদে নিয়োগ পরীক্ষার জটিলতা কমে আসবে।

আবার যারা ভাইভা পাশ করবে না, লিখিত পাশ করবে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি হাইস্কুল ও এমপিওভুক্ত হাইস্কুলে আলাদা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভাইভা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তাতেও সময় বাঁচবে।

একইভাবে যারা যারা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ করবে তাদের মধ্য থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়োগের জন্য জেলাভিত্তিক ভাইভা নিয়ে ভাইভা ও প্রিলির প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

যেহেতু এখন পর্যন্ত বিসিএস হলো এদেশে একটি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত পরীক্ষা। ফলে এর প্রতিটি ধাপ থেকেই চাইলে সরকার প্রার্থী বাছাই করতে পারে।

এর একটি অসুবিধাও আছে। অনেকেই পুনরায় বিসিএস দিয়ে আরও ভালো স্থানে যাওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত বেশকিছু পদ খালি হবে যা আবার পরবর্তী বিসিএস থেকে পূর্ণ করতে হবে। তবে, তার অর্থ এই নয় যে এখন এ সমস্যাটি নেই। কিন্তু এর একটা সুফলও আছে, এক বিসিএসের কারণে পদ খালি হলেও পরের বিসিএস থেকেই আবার তা পূরণ করা যাবে। তা ছাড়া, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরে যেহেতু আবেদনের সুযোগ নেই সেহেতু কিছু সমস্যাতো সবসময়ই থেকে যায়। যেগুলো পর্যায়ক্রমে গবেষণার মাধ্যমে উপায় বের করা যাবে।

প্রস্তাবটির পক্ষে ও বিপক্ষে অনেক মতামত থাকতে পারে। সকল মতামতকেই স্বাগতম। কিন্তু এটা বলা যায় যে, এর মাধ্যমে যারা বাছাই হয়ে আসবে তারা অনেকভাবেই যোগ্য। পর্যায়ভেদে তারা সকলেই তাদের সে পদের যোগ্যতা রেখেই আসবেন।

আশা করি বিষয়টি সিদ্ধান্ত প্রণয়নকারীদের নজরে আসলে সুবিবেচনা করবেন ও ভেবে দেখবেন।

লেখক: প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ



poisha bazar

ads
ads