পোড়া লাশের ধারাবাহিকতা ও আমাদের দায়


  • অনিল মো. মোমিন
  • ১৮ জুলাই ২০২১, ২৩:২৫

শিমু আক্তার অত্যন্ত দরিদ্র এক নারী। করোনা পরিস্থিতিতে ভয়ংকর অভাব চেপে বসেছিল তার সংসারে। মহামারীতে নিরাপদ থাকার অন্যতম উপায় ঘরে থাকা হলেও পেটে ভাত না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সে। শিমুর ১২ বছর বয়সী মেয়ে শান্তা সংসারে সচ্ছলতা আনতে তাই কাজের খোঁজে ছোটে।

রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডির আগেরদিন সেজান জুসের কারখানাটিতে শ্রমিক হিসেবে নাম লেখায় মেয়েটি। একদিন পর মেয়েটির নাম ওঠে নিখোঁজ শ্রমিকদের তালিকায়। শান্তার মতো বহুসংখ্যক অভাবীরা কাজ করতো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের এই সেজান জুসের কারখানায়।

বেচারা শ্রমিক এখানে গাধার মতো খেটে মাস শেষে বেতন পায় সর্বসাকুল্যে পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। এই শ্রমিকরা জানে না দেশের অর্থনীতিতে তার ভ‚মিকা কত। তারা শুধু বোঝে তাদের পরিবারসহ কোনোরকম খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু তাদের বাঁচার সে যাত্রা দীর্ঘ হয় না। বরং মুখোমুখি হতে হয় নির্মম মৃত্যুর।

এতটাই নির্মম যে নিজের মৃত দেহটাও ?স্বজনকে দিয়ে যেতে পারে না। কেউ শান্তার মতো নিখোঁজ আর যার খোঁজ আছে স্বজনরা তাদের লাশ নিতে এসে দেখে লাশের ব্যাগে লাশের পরিবর্তে আসছে কয়লা আর কিছু হাড়গোড়। দেশের অর্থনীতি মজবুতে খেটে যাওয়া মানুষের পরিণতি এই! দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আগুন আর ধোঁয়া বন্দি থেকে ৫২টা সম্ভাবনাময় তাজাপ্রাণ লাশে পরিণত হলো।

যার অধিকাংশই বয়সে শান্তার মতো কিশোরী-তরুণী। যারা জুস তৈরি করে আমাদের আত্মা শান্তি করতো তাদের আত্মা পুড়ে অঙ্গার হলো। আহা মৃত্যু! কারখানা যেন মৃত্যুপুরী। পণ্য উৎপাদনের সাথে বুঝি মাঝে মাঝে তাকে মৃত্যুও উৎপাদন করতে হয়। এদেশটা বুঝি মানুষখেকো কারখানার অভয়ারণ্য। শুনেছি কারখানার ইন্সুরেন্স করা আছে। কারখানা আবার দাঁড়াবে। কিন্তু মানুষের জীবন ফিরে পাবার ইন্সুরেন্স কই? শ্রমিকদের পরিবার ও তাদের ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে ?

নিমতলী থেকে রূপগঞ্জ। একের পর এক বড় বড় দুর্ঘটনা জাতিকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিবার পোড়া লাশের মিছিলে পুড়ছে আমাদের মন। মিছিল দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর হচ্ছে। পুরোনো ক্ষত না সারতে নতুন ক্ষত বিক্ষত করে আমাদেরকে। চোখ বুজলেই ভয়ংকর যন্তণা মানসপটে। ২০১৯ সালে চকবাজারে চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটনাস্থলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৭৮ জন মারা যান।

একই বছরের ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীতে বহুতল বাণ্যিজিক ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০ জন আহত হন। ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বরে রাজধানীর অদূরে টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখায় কারখানার মধ্যে পুড়ে মারা যান ৪১ জন।

২০১২ সালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তাজরীন ফ্যাশন কারখানায় একটি মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১১৭ জন পোশাকশ্রমিক নিহত হয় ও ২০০ জনের অধিক আহত হয়। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুন পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলী ট্র্যাজেডিতে সরকারি হিসেবেই মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৪ জনে।

বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনাটিও বাংলাদেশে হয়েছিল যা ছিল সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি। তখন মৃত্যু হয়েছিল এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিকের এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়। আমরা এই পরিসংখ্যান গুনি আর মানসিকভাবে দুমড়েমুচড়ে মরি! এখানেই শেষ নয়। মৃত্যুর মিছিলের এ দীর্ঘ যাত্রা যেন থামারই নয়।

বড় বড় এসব দুর্ঘটনাসহ সারা বছরে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান আমাদের রীতিমতো আঁতকে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১৫ , ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে সারাদেশে শিল্প কলকারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছিল যথাক্রমে ১০১৩, ১১৬৫, ১০১৯ ও ১১৩১টি। পরবর্তী দুই বছর ঘটে ১৭৫৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।

অতীতের মতো বর্তমানে যেসব কারখানা আছে সেগুলোও শ্রমবান্ধব পরিবেশ সম্পন্ন নয়। সেজান জুসের বৃহৎ কারখানায় মাত্র দুটো সিঁড়ি ছিল তার আবার একটি বন্ধ। কারখানার ভেতরে ছিল জেলখানার প্রকোষ্ঠের মতো ছোট ছোট রুম। এমন বা ভিন্ন ভিন্ন ধরনে শ্রমিকরা কারখানায় অনেকটা কয়েদিদের মতো।

সকালে একটা নির্দিষ্ট সময়ে কারখানায় প্রবেশ করে আর নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষে বের হয়। এর মধ্যে কোন অবস্থাতেই বের হওয়ার সুযোগ থাকে না। কোন দুর্ঘটনা ঘটলেও শ্রমিকদের বের হতে দেয়না মালিকপক্ষ। এটা প্রায় সকল উৎপাদন কারখানায় দেখা যায়। তাই অগ্নিকাøের সময় শ্রমিকদের বের হতে দেয়নি সেজান জুস কারখানা কর্তৃপক্ষ, দেয়নি তাজরীন ফ্যাশনও।

ফলে যত দিন যাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বা মৃতের পরিসংখ্যানের উপাত্ত তত বৃদ্ধি পাবে। বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা নয় বরং কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ড কেন বলছি তার ব্যাখ্যায় আসা প্রয়োজন। বারবার একই ধরনের ঘটনাকে আপনি দুর্ঘটনা বলবেন?

এসব ঘটনার প্রায় প্রতিটির বেলায় আমরা শুনি অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানা থেকে বের হওয়ার সিড়ি পর্যাপ্ত ছিলো না বা বন্ধ ছিল। তারপর শোনা যায় ফায়ার সেফটি সামগ্রী যথাযথভাবে ছিল না। আরও পরে জানা যায় ভবনটা নিরাপদ ছিল না। একসময় শোনা যায় কারখানাটির বহু ধরনের অনুমোদনই ছিল না।

একই দুর্ঘটনা একবার দুইবার বা সর্বোচ্চ তিনবার হতে পারে। তারপর সেখান থেকে মানুষ শিক্ষা নিয়ে সেই সমস্যাটি সমাধান করে ফেলে। কিন্তু সমাধান না করে সে ঘটনা ঘটতে দিয়ে তাকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। সেটা স্পটতই একটা হত্যাকাণ্ড। অতীতের মতো নারায়ণগঞ্জের এই ঘটনায়ও ফায়ার সার্ভিস বলছে ভবন নির্মাণ বিধিমালা মেনে কারখানাটি নির্মিত হয়নি।

কেমিক্যালও বিশৃঙ্খলভাবে ব্যবহূত হচ্ছিল। অথচ একটা কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে বহু অনুমোদন নিতে হয়। শুধু অনুমোদনেই শেষ না এই দেশে সরকারের নানা দপ্তর আছে যাদের কাজ নিয়মিত এগুলো তদারকি করা। দায়িত্বপ্রাপ্তরা এসব না করে যখন পা গুটিয়ে বসে থাকে তখন এটি দুর্ঘটনা নয়, স্রেপ হত্যাকাণ্ড। কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।

এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে মালিকপক্ষের বৃহৎ স্বার্থ জড়িত থাকে। এরা ঋণগ্রস্ত হলে, দেউলিয়া হতে চললে কিংবা বড় কোন স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে বা কম খরচে অধিক মুনাফা লাভে কারখানা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় উদাসীন থাকে। এদের কাছে শ্রমিকরা মানুষ নয় বরং তাদের মূলধন তৈরির একটা উপকরণ। এই শ্রমিক আর কারখানা দেখিয়ে এরা প্রণোদনা নেয়, বিশেষ সুবিধা ভোগ করে।

ক্ষেত্র বিশেষ ব্যাংকের ঋণও মওকুফ করে। এভাবে পুঁজিপতি হয়ে বিশাল ক্ষমতাধর বনে যায়। তারপর রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে চলে যায় ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে। তখন শ্রমিক শোষণের চ‚ড়ান্ত মিশন শুরু করে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার ব্যবহার বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যা করে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে আগুনে পুড়িয়ে মেরে দম্ভের সাথে সে হত্যার দায় অস্বীকার করতে পারে।

বলতে পারে, ‘ইন্ডাস্টি করলে শ্রমিক থাকবে। শ্রমিক থাকলে কাজ হবে। কাজ হলে আগুন লাগতেই পারে।.. এর দায় আমার নয়।’ কিংবা তাজরীন ফ্যাশনের মালিক বলতে পেরেছিল, ‘আমার কিচ্ছু করতে পারবে না।’ তবে এরা এমন বেপরোয়া হওয়ার জন্য টাকা আর রাজনৈতিক ক্ষমতা যতটা দায়ী তার চেয়ে কম দায়ী নয় রাষ্ট্রের আশ্রয়প্রশয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নির্লিপ্ততা।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অগ্নিদুর্ঘটনার শেষে আমরা দেখি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু আর্থিক সহায়তার ঘোষণা আর কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তারপর অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় পোড়া লাশের তরতাজা গন্ধ যতদিন থাকে ততদিন সেই কমিটি নড়াচড়া করে, শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের একটু তর্জন গর্জন চলে। পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশ কমিটির রিপোর্ট আলোর দেখা পায় না।

দু-একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া লেগেও সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। যা চোখে পড়ে তা হলো আবার নতুন একটি দুর্ঘটনা। ২০১৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীতে টাম্পাকো কারখানায় দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির অভিজ্ঞতা ও রিপোর্টের আলোকে শিল্পকারখানাগুলোতে অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনা রোধে ১২ দফা সুপারিশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

তারপর কয়েকবার বৈঠক হলেও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে জড়িত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় হয়নি বিধায় সেগুলো আর বাস্তবায়িত হয়নি। একটা শিল্পের সাথে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তিতাস গ্যাস, বিস্ফোরক অধিদফতর ও বয়লার পরিদর্শন অধিদফতরের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে কার্যকর করা রাষ্ট্রের কাজ।

এভাবে প্রতিরোধযোগ্য ঘটনাকে অবহেলার জন্য ঘটতে দেয়া হয়েছে। যারা কারখানা মালিকদের এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটতে দিচ্ছেন তারা কি কারখানা মালিকের চাইতে কম অপরাধী? তারা কি কারখানা মালিকের চাইতে বেশি অপরাধী নন? শ্রম আইন কার্যকর করার আইনসঙ্গত দায় সরকারের।

তাদের অনেক দফতর, অধিদফতর আছে, মন্ত্রণালয় আছে যাদের দেখভাল করার কথা কারখানা ভবন স্থাপত্যগত দিক দিয়ে নিরাপদ কি না, সেখানে আগুন বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি রোধ করার বন্দোবস্ত যথাযথভাবে আছে কি না, বিপদের মূহূর্তে দ্রুত বেরিয়ে আসার পথ আছে কি না এইসব।

এগুলো কেন নিশ্চিত হয় না, কেন সংশ্লিষ্টদের ও মালিকপক্ষকে শাস্তির আওতায় আনা হয় না তাও জনগণের অজানা নয়। একদিকে সরকার আমলাতন্ত্রের কাছে জিম্মি অন্যদিকে শিল্প কারখানার মালিকগণ সরকারের ছত্রছায়ার লোক। ফলে সরকার শাস্তির পথে না হেঁটে জনগণের চোখে ধুলো দেয়ার চেষ্টায় লাশের মূল্য নির্ধারণ করে আর একটার পর একটা তদন্ত কমিটি দেয়। কিন্তু যতই চেষ্টা করুক সরকার এগুলোর দায় এড়াতে পারে না।

জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান এখন ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তাই লাশের মূল্য নির্ধারণ না করে শ্রমবান্ধব শিল্প-কারখানা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এই খাতে। ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কারখানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করতে হবে যাতে সেগুলো সবাই ব্যবহার করতে পারে।

অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিকভাবে নির্মিত প্রতিষ্ঠানের মালিকদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এছাড়া কারখানায় শিশুশ্রমিক যেন নিয়োগ না হয় তা খাতা কলমে নয় বরং বাস্তবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আবার শুনতে চাই না ভুক্তভোগীর আহাজারি-‘ও স্যার, আমার মায়ের হাড্ডিগুলা খুইজ্জা দেন স্যার’ কিংবা প্রিয়জনের ‘লাশ নয়, হাড্ডি খুঁজি।’

আবার যেন আমাদের ভবন মালিক, কারখানা মালিক, গুদাম মালিকের শাস্তি দাবি করে রাজপথ বা মিডিয়া কাঁপাতে না হয়। কেননা এই শাস্তি নিশ্চিত করাটা একটা স্বাভাবিক প্রকিয়া হওয়ার কথা ছিলো। মোদ্দাকথা সরকার বিভিন্ন সংস্থার যথার্থ ভ‚মিকা ও আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ এমন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা রোধ করতে পারে। এসব করতে ধারাবাহিক বর্থ হলে জনগণ বাধ্য হবে রাষ্ট্রের কলাপসিবল গেট খুলে সিদ্ধান্ত নিতে- তারা পুড়বে, পোড়াবে নাকি নেভাবে!!!

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।



poisha bazar

ads
ads