বেসরকারি শিক্ষা

জাতীয়করণে কালক্ষেপণ কেন?


poisha bazar

  • ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৩

জিয়াউল হক: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পাক শাসক গোষ্ঠীর নিকট বাঙালিরা কতটা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আর তিনি এও জানতেন, বৈষম্যের এই চিত্র বাঙালিকে হাতে কলমে বুঝাতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সেজন্যই সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করেন।

পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর পূর্ব বাংলার জনগণের সঙ্গে এক চোখে নুন এক চোখে তেল বিক্রির ন্যায় দুই যুগ শাসনের নামে শোষণ করেছিল। জাতির পিতা তাদের পুঞ্জীভ‚ত শোষণের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার জন্য ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে টেলিভিশন ভাষণে শিক্ষার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগের চেয়ে উৎকৃষ্ট বিনিয়োগ আর কিছুই হতে পারে না’।

জাতির পিতার ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ১৯৭০ সালের শিক্ষানুরাগী ঐতিহাসিক নির্বাচনী ভাষণ যে শুধু প্রতিশ্রæতির ফুলঝুরি ছিল না, তা সদ্য স্বাধীন দেশের প্রথম অর্থনৈতিক বাজেটে শিক্ষা খাতে সামরিক খাতের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি বরাদ্দ দিয়ে তারই প্রমাণ। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে এক ঘোষণায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। একই সাথে ১২ হাজার নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, ৪৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম, পেন্সিল বিতরণ ও গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পোশাক বিতরণের ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন। ক্ষণজন্মা এই প্রবাদপ্রতিম পুরুষ মাত্র সাড়ে তিন বছরের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে বাঙালি জাতিকে আধুনিক ও কল্যাণমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ২৬ জুলাই বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ কুদরত ই খুদাকে প্রধান করে একটি যুগোপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়নের নিমিত্তে কমিশন গঠন করেন।

ইসলামী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে মাদ্রাসা এডুকেশন অর্ডিন্যান্স জারি করেন। ১৯৭৩ সালে ইউনিভার্সিটি গ্রান্ড কমিশন অব বাংলাদেশ আদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান আদেশ জারি করেন।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের প্রথম বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, ‘ক,খ শিখলেই শিক্ষিত হয় না। সত্যিকারের আলোকপ্রাপ্ত শিক্ষিত ইতে হবে’। একই বছরই দেশের প্রথম সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি বলেন-‘আমি সর্বত্রই একটি কথা বলি, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। সোনার মানুষ আকাশ থেকেও পড়বে না মাটি থেকেও গজাবে না। এই বাংলার সাত কোটি মানুষের মধ্য থেকেই তাদের সৃষ্টি করতে হবে’।

জাতির পিতা যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য নবজাতক বাংলাদেশকে ধ্বংসস্ত‚প হতে টেনে তুলে হাঁটি হাঁটি পা পা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই ৭১ এর পরাজিত শক্তি, মস্তিষ্কবিকৃত তৎকালীন সাবেক বর্তমান উচ্ছৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বাংলার ইতিহাসের ললাটে এঁকে দেয় কলঙ্কের কালিমা। তাকে ও তার পরিবার আত্মীয়স্বজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘাতকেরা জাতির ভাগ্য আকাশ ঢেকে দেয় অমানিশার কালো আঁধারে। সৌভাগ্যক্রমে দেশে অবস্থান না করায় প্রাণে বেঁচে যান তার দুই কন্যা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

ততদিনে উর্দি পরা জেনারেলরা মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। পাকিস্তানি জেনারেলদের খুশি করতে দেশকে ‘পাক সার জামিন সাদ বাদ’ ভাবধারায় ফিরে নিয়ে যায়। ৩০ লাখ শহীদ ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত দেশে স্বাধীনতার স্বীকৃত শত্রæ গোলাম আজমের মতো রাজাকারকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। শাহ আজিজুর রহমানের মতো কুখ্যাত রাজাকারকে লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী করা হয়। এবং জাতির পিতার খুনিদের প্রতি খুশি হয়ে পদোন্নতিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত করে পুরস্কৃত করা হয়।

এরপর কেটে যায় ২১টি বছর। ৭৫ পরবর্তী সময়ে যুগল জেনারেল স্বৈরশাসককেরা স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্যকে বুটের তলায় পিষ্ট করে দেশে স্বৈরাচারী শাসনের বিষবৃক্ষ রোপণ করে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বহু ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

পিতার মতো তিনিও উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, শিক্ষা ব্যতীত একটি জাতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি ২০১০ সালে যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। বছরের প্রথম দিন প্রথম শ্রেণি হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। এবং খ্রিস্টীয় নববর্ষের প্রথম দিনকে বই উৎসব ঘোষণা করেন। যা সারা বিশ্বের কাছে এক নজিরবিহীন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

দেশের সকল স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় পর্যায়ক্রমিকভাবে একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আধুনিক মাল্টিমিডিয়া শ্রেণি কক্ষ স্থাপন, তথ্যপ্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, এন টি আর সি এর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ।

গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষা সহায়তা তহবিল গঠন করে সহায়তা প্রদান। পিতার পরে কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে একঘোষণায় ২৬ হাজার ১ শত ৯৩টি বেসরকারি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ কমরন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ডিগ্রি কলেজ ও একটি করে হাইস্কুল জাতীয়করণ করেছেন। এছাড়াও বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের মাসিক বেতন দ্বিগুণ করা, বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি, মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা চালুসহ শিক্ষকদের মঙ্গলের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

বিখ্যাত সাংবাদিক মার্কটালী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা খাতসহ বদলে যাওয়া বাংলাদেশের মূল্যয়ন করতে গিয়ে বলেন- ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ পোড়া ছাই হতে উঠে ফিনিক্স পাখির মতো উড়ছে’। রক্তে বহমান পিতার নেতৃত্বগুণের বদৌলতে তার নেতৃত্বগুণ আজ বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন।

২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করার যে স্বপ্ন তিনি জাতিকে দেখিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে তার সেই স্বপ্ন ষোলোকলা পূর্ণ হবে। জাতির পিতা আগামী শিক্ষক সম্পর্কে বলেন- আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করছে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন তা হলো- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে সরকার বাহাদুরের অতিরিক্ত এক কানাকড়িও খরচ হবে না উপরন্তু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দুচার পয়সা জমা হবে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরাম ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিকট হতে সম্ভব্য প্রাপ্য আয়ের যে চিত্র তুলে ধরেছেন। তা পাঠকের সমীপে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো।

বর্তমানে দেশে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ। প্রতি শিক্ষার্থী মাসিক বেতন গড়ে ৫০ টাকা হারে হিসাব করলে প্রাপ্য আর্থিক পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সেশন ফি গড়ে ৩ শত ২২ টাকা হিসেবে ধরে ৫ শত ৭৩ কোটি টাকা হয়। শিক্ষার্থীদের নিকট হতে প্রাপ্য মাসিক বেতন ও সেশন ফি একসঙ্গে যোগ করলে বার্ষিক আয় হবে ১ হাজার ৬ শত ৪১ কোটি টাকা। মোট প্রাপ্য টাকা হতে সেশন ফি ৫ শত ৭৩ কোটি টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিবিধ খাতে খরচের জন্য রেখে দিলেও বাকি ১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা খাতে ব্যয় করা যাবে।

এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার ৮ হাজার ২ শত কোটি প্রদান করে থাকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই ৮ হাজার ২ শত কোটি টাকার সঙ্গে আরও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যোগ দুটি উৎসব ভাতা যোগ করলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ হাজার ১ শত কোটি টাকা। আর যদি জাতীয়করণ করা হয় তাহলে ৮ হাজার ৬ শত কোটি টাকা সঙ্গে সরকার নির্ধারিত হারে বাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা যোগ করলে ১৪ হাজার ১ শত ৪৫ লাখ টাকার প্রয়োজনে হবে।

জাতীয়করণ করা হলে বেতন ভাতা বাবদ খরচ হবে ৮ শত ৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। (১৪ হাজার ১ শত ৪৫ কোটি টাকার ৬০ শতাংশ। কারণ এখানে উচ্চ শিক্ষা খাতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ ৪০ শতাংশ বাদ দেওয়া হয়েছে)। তদ্রুপ জাতীয়করণ করা না হলে বেতন ভাতা বাবদ খরচ হবে ৫ শত ৪৬ কোটি টাকা।(৯ হাজার ১ শত কোটি টাকার ৬০ শতাংশ। এখানে উচ্চ শিক্ষা খাতের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ ৪০ শতাংশ বাদ দেওয়া হয়েছে)।

বাংলাদেশে বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৯ হাজার ৯২, শিক্ষক আছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৬ শত ৩৭ জন এবং শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ ৬৩ হাজার ৭ শত ২৪ জন। অতএব জাতীয়করণ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে ৩ শত ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ তো গেল সম্ভাব্য ব্যয়ের ফিরিস্তি। এবার আমরা দেখব কোন কোন খাত হতে কত টাকা আয় হতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিকট হতে মাসিক বেতন থেকে সরকারের আয় হবে ১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। শিক্ষকদের নিকট হতে ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট আদায় হবে ১ শত কোটি টাকা। জাতীয়করণকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ হতে সরকারের আয় হবে আরও ৫ শত কোটি টাকা। সর্বমোট সম্ভাব্য আয় হবে ১ হাজার ৬ শত ৬৮ কোটি টাকা। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি অথবা সমমান পর্যন্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সমমানের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হলে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে ১ হাজার ৩ শত ৫৯ কোটি টাকা।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমা আছে আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকা। অবসর ও কল্যাণ তহবিল হতে সরকার ফেরত নিতে পারবে অন্ততপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ জাতীয়করণ করা হলে প্রথম বছর সরকারের লাভ হবে (৪০০০ কোটি - ১৩৫৯ কোটি) = ২৪৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরাম এর উল্লেখিত সম্ভাব্য আর্থিক হিসাব অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে সরকারের কানাকড়িও খরচ হবে না। উপরন্তু এককালীন জমাসহ প্রতিবছর সরকারি কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা জমা করার সুযোগ তৈরি হবে।

অতএব, সরকার বাহাদুর তথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা মানবতার মা খ্যাত ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শিক্ষাবান্ধব উন্নয়নের রূপকার বিশ্বনেত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সমীপে বিনয়াবনতভাবে একটি আর্জি জানানো যেতে পারে- কইয়ের তেলেই যদি কই ভাজা যায়, তাহলে আর কালক্ষেপণ কেন?।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads
ads