নতুন প্রজন্মের জন্য চাই বাসযোগ্য পরিবেশ


poisha bazar

  • রূপম চক্রবর্ত্তী
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪৩

একটি বাসযোগ্য পৃথিবী আমাদের সবার কাম্য হলেও বিবিধ কারণে আজকে সেই পৃথিবী থেকে আমরা বঞ্চিত। সবাই যে পরিবেশে গড়ে উঠছে সেই পরিবেশকে আমাদের মতো কিছু মানুষ দিনদিন বিষাক্ত করে তুলেছে। আকাশ, বাতাস, জল, উদ্ভিদজগত, প্রাণিজগত সবকিছু নিয়ে আমাদের পরিবেশ । এগুলোর কোনোটিকে বাদ দিয়ে আমরা বাঁচতে পারি না।

মানুষ তার বিদ্যা, বুদ্ধি দিয়ে এবং অনলস পরিশ্রমে তার চারপাশের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে সাজিয়েছে। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আর স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষের লোভে প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। যেমন বায়ু, জল, মাটি, শব্দ প্রভৃতি দূষণের ফলে মানুষের জীবনেও এসেছে নানা রকম দুরারোগ্য ব্যাধি।

জলের স্বাভাবিকতা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের জলজ সম্পদ ও জলজ প্রাণীর সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বৃক্ষচ্ছেদন ও অতিরিক্ত হারে পরিবেশবিরোধী জিনিসপত্র ব্যবহারের কারণে, পরিবেশের জলবায়ু এবং তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। বৃক্ষচ্ছেদন এবং মানুষের অবৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ এর জন্য ধীরে ধীরে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করছে, এর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটে চলেছে, যা পরিবেশের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর এবং মারাত্মক।

কোন একটি জীবের অস্তিত্ব বা বিকাশের ওপর ক্রিয়াশীল সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা, যেমন চারপাশের ভৌত অবস্থা, জলবায়ু ও প্রভাববিস্তারকারী অন্যান্য জীব ও জৈব উপাদান। বিশ্ব পরিবেশের দ্রুত অবনতি হচ্ছে, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে এ অবনতি হয়েছে আরো দ্রুত। বাংলাদেশে ১৯৯৫ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন পাস হয়েছে। কিন্তু জনবিস্ফোরণ, বনাঞ্চলের অবক্ষয় ও ঘাটতি এবং শিল্প ও পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবের দরুন দেশের পরিবেশ এক জটিল অবস্থার দিকে পৌঁছতে শুরু করেছে।

পরিবেশ দূষণ একটা গুরুতর সমস্যা। আজ মানব সভ্যতার অস্তিত্ব বিঘ্নিত। এই গভীর পরিবেশের প্রতিটা উপাদানের সুসমন্বিত রূপই হলো সুস্থ পরিবেশ। এই সুসমন্বিত রূপের ব্যত্যয়ই পরিবেশের দূষণ ঘটায় এবং পরিবেশের স্বাভাবিক মাত্রার অবক্ষয় দেখা দেয়। পরিবেশ বিভিন্ন কারণে দূষিত হতে পারে। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণও এর সঙ্গে দায়ী।

পরিবেশ দূষণের জন্য বিশেষভাবে দায়ী ১২টি মারাত্মক রাসায়নিক দ্রব্যকে একত্রে ডার্টি ডজন বা নোংরা ডজন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই ১২টি রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যে ৮টি কীটনাশক অলড্রিন, ডায়েলড্রিন, ক্লোরডেন, এনড্রিন, হেপ্টাক্লোর, ডিডিটি, মিরেক্স, এবং টক্সাফেন; দুটি শিল্পজাত রাসায়নিক দ্রব্য পিসিবি এবং হেক্সাক্লোরোবেনজিন; এবং অন্য দুটো হলো কারখানায় উৎপন্ন অনাকাক্সিক্ষত উপজাত: ডাইওক্সিন এবং ফিউরান ।

খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে পৃথিবীব্যাপী সব পরিবেশের সব ধরনের জীবজন্তুর ওপর তীব্র প্রতিক্রিয়া ঘটায় এই বিষাক্ত পদার্থগুলো। ত্রুটিপূর্ণ শিশুর জন্ম, ক্যান্সার উৎপাদন, ভ্রুণ বিকাশের নানাবিধ সমস্যার মূলেই দায়ী থাকে এই ডার্টি ডজন। এই সব রাসায়নিক পদার্থ থেকে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

আপনি যখন শহরের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকবেন কি পরিমাণ কালো ধোঁয়া আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম ও প্রধান হলো বায়ু বা বাতাস যা ছাড়া প্রাণিজগত এক মুহূর্তও বাঁচতে পারে না। বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হলো নিউক্লীয় আবর্জনা, কয়লা পুড়িয়ে কার্বন-ডাই অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া, কলকারখানার দূষিত গ্যাস, যানবাহনের জ্বালানি পোড়া গন্ধ বাতাসে মিশে বাতাস দূষিত হচ্ছে।

দূষণের ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য রোগ। বাংলাদেশের কোন কোন শিল্প কারখানা হাইড্রোজেন সালফাইড, অ্যামোনিয়া, ক্লোরিন এবং আরও কিছু দুর্গন্ধযুক্ত, বিষাক্ত বা বিরক্তিকর রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন করে যেগুলো সর্বসাধারণের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঢাকা ও অন্যান্য শহরের মানুষ কখনো কখনো এ ধরনের গন্ধের ব্যাপারে এতটা অভ্যস্ত যে, তারা এগুলোকে আর অনেক সময় বায়ুদূষক হিসেবে বিবেচনা করে না।

উদাহরণ হিসেবে ঢাকার চামড়ার কারখানাগুলোর কথা বলা যায়। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্লোরিন ও অ্যামোনিয়ার মতো বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। কোন কোন ভবন তৈরির পরিকল্পনা নিম্নমানের এবং সেগুলোতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা না থাকায় তামাকের ধোঁয়া, চুল্লি ও উনুনের গ্যাস, প্রাত্যহিক গৃহস্থালির কর্মকাণ্ডে তৈরি বিভিন্ন গ্যাসীয় বর্জ্য বেরিয়ে আসতে পারে না।

এভাবে অনেক সময় বাইরের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর তুলনায় ঘরে অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ ৫-১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে মাথা ব্যথা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেয়। সেই কলকারখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত পানি নদীর পানিতে মিশে নদীকে দূষিত করছে। এছাড়া শহরের সমস্ত নর্দমার জল ও নদীতে পড়ে নদীর পানি দূষিত করছে। ফলে জলবাহিত রোগের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানিবাহিত রোগে আজ মানুষ বড় বিপন্ন।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অনেক ছোট বড় শিল্প-কারখানা রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত এবং ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি হয় এবং পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটায়। ঢাকায় অনেক চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৮,০০০ লিটার তরল এবং ১১৫ মে টন কঠিন বর্জ্য জমা হয় এবং এসব বর্জ্য নিকটবর্তী নালা-নর্দমা ও নদীতে নিক্ষেপ করা হয়।

এসব বর্জ্যের মধ্যে সালফিউরিক এসিড, ক্রোমিয়াম, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, অ্যামোনিয়াম সালফেট, ক্যালসিয়াম অক্সাইড ইত্যাদি রয়েছে। এগুলো মাটিতে শোষিত হয়ে ভ‚-গর্ভস্থ পানির দূষণ ঘটাতে পারে। এছাড়াও তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরিবেশের অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো পৃথিবীতে নিরাপদ পানির সংস্থানের নিঃশেষণ।

পৃথিবীর প্রায় সমস্ত পানির শুধুমাত্র ২.৫% নিরাপদ, বাকিগুলো লবণাক্ত। সুপেয় পানির ৬৯% এন্টার্কটিকা এবং গ্রীনল্যান্ডে বরফ আকারে সঞ্চিত আছে। তাই সুপেয় পানির ২.৫% এর মাত্র ৩০% পান করার উপযুক্ত। সুপেয় পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ, কারণ পৃথিবীতে জীবনধারণের জন্য সবাই এর ওপর নির্ভরশীল। পানি জীবমণ্ডলের সকল জীবের মধ্যে পুষ্টি ও রাসায়নিকের সঞ্চালন করে, উদ্ভিদ এবং প্রাণীর জীবন রক্ষা করে এবং অবক্ষেপ পরিবহন ও সঞ্চয়নের মাধ্যমে পৃথিবীর পৃষ্ঠ গঠনে সহায়তা করে।

শব্দ দূষণ এখানে আরেকটি সমস্যা। কলকারখানা, গাড়ির শব্দতো আছেই এছাড়াও দেশে এক ধরনের অসুস্থ সংস্কতির চর্চা। গভীরাতে হেভি মেটালের আওয়াজ আর উচ্চস্বরে চিৎকার। ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশুনা, অসুস্থ রোগীসসি পরীক্ষা আমলে না নিয়ে এসব চলছেই। শব্দদূষণের কারনে মানুষের শ্রবণক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে । মানসিক বিপর্যয়, রক্তচাপ বৃদ্ধি, স্নায়বিক অস্থিরতা প্রভৃতি নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি করছে।

১৯৯৯ সালের মে মাসে পরিবেশ অধিদফতর আরো একটি জরিপ পরিচালনা করে শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায়। এ জরিপে তেজগাঁও এবং হাজারীবাগ এলাকায় ৭৫ ডিবি শব্দমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে ফার্মগেট, শাপলা চত্বর, মহাখালী ও বাংলামটর এলাকায় রেকর্ডকৃত শব্দমাত্রা ছিল ৮৫ ডিবি থেকে ৯০ ডিবি। ধানমন্ডি, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী এবং গুলশান আবাসিক এলাকাসমূহে পরিমাপকৃত গড় শব্দমাত্রা ৬৫ ডিবি। মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ৬০ ডিবির সামান্য বেশি শব্দমাত্রা ধরা পড়ে। টিকাটুলি ও শাখারিপট্টিতে সর্বোচ্চ ৯০ ডিবি শব্দমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

বিভিন্ন ধরনের ফসলে সজ্জিত হচ্ছে আমাদের দেশ। আধুনিকতার প্রেক্ষিতে বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে সবুজবিপ্লব এসেছে। কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধি করতে গিয়ে জমিতে নানা প্রকারের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, এর ফলে মাটি দূষিত হচ্ছে। সারা বছর জমিতে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বহু নদীতে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, এতে একদিকে যেমন নদীর জল দূষিত হচ্ছে অপরদিকে মৃত্তিকা দূষণও হচ্ছে। রাসায়নিক সার দ্বারা প্রস্তুত কৃষিজাত সামগ্রী থেকে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়াও ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তার অধিকাংশ বিকরিত হয় বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ, বিশেষত পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরণ (তেজস্ক্রিয় ভস্ম বা ধূলিকণা), পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী থেকে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য লেজার রশ্মি, এক্সরে মেশিন, রঙিন টেলিভিশন সেট, মাইক্রো-ওয়েভ ওভেন ইত্যাদি।

স্বল্পমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা মানবদেহের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে তা এখনও জানা যায়নি। তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা রেম (ৎবস) একক দ্বারা পরিমাপ করা হয়: ১ রেম = ১০,০০০ জনের মধ্যে ১ জনের সম্ভাব্য ক্যান্সারজনিত মৃত্যু; শূন্য থেকে ২০০ রেম = ক্যান্সারের ঝুঁকি অধিক; ৩০০ থেকে ৫০০ রেম = তেজস্ক্রিয়তাজনিত রোগে মৃত্যু। তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব ভালোভাবে লক্ষ্য করা যায় কোষ গঠনের ক্ষেত্রে।

তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত কোষ মরে গেলে বা আপনা আপনি সুস্থ হয়ে উঠলে পরবর্তী সময়ে কোন সমস্যা ঘটে না। কিন্তু একটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পরবর্তী পর্যায়ে ক্যানসার প্রবণ হয়ে ওঠে। মানুষের জননকোষ তেজস্ক্রিয়তায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো বন্ধ্যা হয়ে পড়ে, নবজাতক বিকলাঙ্গ বা মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিশ্বজুড়ে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য অপসারণের সমস্যা জনসমাজে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তেজস্ক্রিয় বর্জ্য গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যা সমুদ্রের চারপাশে বসবাসরতদের জন্য একটি বড় আতঙ্কের বিষয়। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিক্ষেপের ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়াসহ ভারত উপমহাদেশের জনগণের উদ্বেগ বেড়েছে। অধুনা পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের ফলে সৃষ্ট দূষণ বিশ্বব্যাপী মানুষের আতঙ্ক ও উদ্বেগের কারণ হয়েছে এবং মানবজাতি ও সামগ্রিকভাবে প্রাণিজগতের নিরাপত্তার স্বার্থে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

পরিবেশ দূষণ সারা পৃথিবীর একটি বিরাট সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। সব রকম দূষণ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে একমাত্র উদ্ভিদ। সবুজ উদ্ভিদ বা গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় গাছ বাতাস থেকে কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে আর বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। যে অক্সিজেন প্রাণিজগতের বাঁচার জন্য অপরিহার্য।

তাই বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকবে। কলকারখানা থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের ব্যবস্থা গ্রহণ, যথা কলকারখানার বা নর্দমার তরল যাতে নদীর জলে না মেশে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শব্দদূষণ কমানোর জন্য শব্দ নিরোধক যন্ত্রের ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে।

রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের প্রয়োগ বেশি করে এবং কীটনাশকের পরিমাণ কমিয়ে মৃত্তিকা দূষণ রোধ সম্ভব। সর্বোপরি যানবাহনে পেট্রল বা ডিজেল পোড়ানোর পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত গাড়ির ব্যবহার করতে পারলে দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সংকটের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের প্রত্যেকেই সচেতন হতে হবে এবং নজর দিতে হবে যাতে পরিবেশের দূষণের মাত্রা না বাড়ে।

কারণ বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক বা প্রযুক্তিবিজ্ঞান যতই আমাদের উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যাক না কেন মানুষের জন্যে সভ্যতা মানুষের হাতেই যদি বিনাশ হয় তাহলে কি লাভ- কারণ বনে আগুন লাগলে দেবালয় কি এড়ায়? এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্যে আমাদের সবাইকেই হাত মিলিয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়তে হবে। তাই চলুন আমরা সবাই মিলে সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করি যাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।






ads
ads