প্রসঙ্গ ধর্ষণ : প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক নারীর খোলা চিঠি

ফারহানা রহমান মিতু

ফারহানা রহমান মিতু
ফারহানা রহমান মিতু

poisha bazar

  • ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৩৭

দেশরত্ন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,
আপনি জাতীর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা। আপনার কাছে আমাদের চাওয়া সবসময় একটু বেশিই থাকে। তাই একবুক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনেক আশা নিয়ে আপনার কাছে লিখছি। জানি না এ লেখা আপনার কাছে আদৌ পৌঁছবে কি না!

আপনি জানেন, সম্প্রতি দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মহামারীর মতো দেশটাকে গ্রাস করছে ঘৃণ্য এ অপরাধ। ঘরে, বাইরে; অফিসে কি পথে- কোথাও নারী নিরাপদে নির্ভয়ে পথ চলতে পারছে না। ধর্ষিতাদের অনেকেই লজ্জায়, দুঃখে, ক্ষোভে, বিচার পর্যন্ত না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। অথচ অনেক ধর্ষককেই দেখা যায় বুক উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এই যখন পরিস্থিতি তখন দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করায় আমাদের আশীর্বাদ আপনার সঙ্গে থাকবে। সে সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা যেন দ্রুত ও স্বচ্ছ হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। কারণ, শুধু আইনই তো শেষ কথা নয়। আসল হচ্ছে এর প্রয়োগ। আপনার শাসনামলে নারীরা নিরাপদে বিচরণ করুক, দেশকে এগিয়ে নিতে নির্ভয়ে হাত ধরুক- এই আমাদের কামনা।

আমি আপনার প্রিয় তথ্য আপা প্রকল্পের তথ্য সেবা কর্মকর্তা। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কর্মরত আছি। মহিলাদের ডিজিটালায়নের জন্য তথ্যসেবামূলক কাজে আমাকে ছুটতে হয় গ্রাম থেকে গ্রামে। ভয়ে থাকতাম নিজের নিরাপত্তা নিয়ে। আমাদের কাজ নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর সুবিধা-অসুবিধা দেখা। তথ্যসেবা প্রকল্পে সেবা নিতে আসা নারীরা যদি প্রশ্ন করে তারা কি সুরক্ষিত? ধর্ষক নামক মানুষরূপী হায়েনার হাত থেকে তাদেরকে কে বাঁচাবে? প্রায়ই নিরুত্তর থাকতে হতো। কিন্তু এবার আর নিশ্চুপ থাকতে হবে না। নারীরা দেশের হাল ধরে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে এই আশ্বাস আপনি দিয়েছেন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার মধ্য দিয়ে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও নারীরা আজও প্রচণ্ড ভয় নিয়ে বাঁচে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি নারী নির্যাতনের ঘটনা শুনে রীতিমতো আঁতকে উঠেছি আমরা। এর দ্রুতই শেষ হোক। আমি নারী, আমার বোন নারী, আমার মা নারী। তারা কি আজ সত্যি সুরক্ষিত? আপনি নিশ্চয় নারীদের এমন প্রশ্নগুলো মাথায় রাখবেন।

আপনি জানেন, দৈনিক খবরের কাগজ আর টেলিভিশন খুললেই ধর্ষণের খবরের ছড়াছড়ি। এগুলো শুনতে শুনতে আমরা দিনকে দিন নারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছি। আপনি আমাদের মা। মা হয়ে দেশের জন্য, আমাদের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য এখনো লড়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। আপনার সাহসীকতা ও বিচক্ষণতা থেকে আমরা নারীরা অনুপ্রাণিত হই। কিন্তু বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষের ভিড়ে মানুষরূপী কিছু হায়েনারা ওঁত পেতে থাকে। যাদের ভয়ে নারীরা আজ ঠিক মতো ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে আবার বাড়ি ফিরতে পারবে কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে।

তাই, ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতেই হবে। তা না হলে আপনার সকল নারীবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার স্বপ্ন বৃথা হয়ে যাবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নারীর নিরাপত্তার দিকে আপনি মমতাময়ীর ভূমিকায় থাকবেন- এই আমাদের বিশ্বাস।

ইতি,
ফারহানা রহমান মিতু,
তথ্য সেবা কর্মকর্তা,
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads