মানুষ আর উন্নতি চায় না; একটু শান্তিতে বাঁচতে চায়!

বেলায়েত হুসাইন

মানবকণ্ঠ
- ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬:৪৭,  আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৭:০৫

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার, কিন্তু তিনি পারেন নি; ঘাতকদের হাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর 'সোনার বাংলা'র মর্মার্থ কি ছিল দেশব্যাপী উন্নত রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট এবং প্রাসাদ-অট্টালিকা নির্মাণ নাকি এদেশের দুঃখী মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা? এটাই এখন প্রশ্ন। তাঁর মতো চৌকস ও জনদরদী একজন রাজনীতিবীদ জনগণের শান্তিকেই অগ্রাধিকার দিবেন। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পরও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হলো না!

কী শহর কী গ্রাম- সর্বত্রই আজ শান্তিতে বাঁচতে অসংখ্য মানুষের আকুতি, তারা শান্তিতে নেই। অথচ দেশব্যাপী সবক্ষেত্রেই বর্তমান সরকারের উন্নত পরিষেবা হাতের নাগালেই- এরপরও তাদের অভিযোগ জীবনে নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন তারা।

জনজীবনে নিরাপত্তার ঘাটতিতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের দুর্নীতি ও প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের সবচেয়ে বিপদের মুহূর্ত চিকিৎসা-ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে একশ্রেণির উচ্চাভিলাষী মানুষের দুর্নীতি, প্রভাব প্রতিষ্ঠা ও বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। এরা নিজেদের স্বার্থ ও ক্ষমতা রক্ষার্থে এবং অঢেল অর্থ-সম্পদের মালিক হতে যা ইচ্ছা তাই করছে- এখানে সমাজের সাধারণ মানুষের মানবিক স্বার্থ, সুবিধা-অসুবিধা ও সুখ-দুঃখের বিবেচনা একেবারেই গৌণ।

যারা এতোদিন দেশের মেধাবী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তারাও এমন এমন দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন যে, লিখতে গেলে কলম থেমে যায়; মানুষ যখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে তখন তারা স্বাস্থ্য পরিক্ষায় ভূয়া সনদ সরবরাহ করার মতো জঘন্য কাজও করতে পেরেছে।

ফরিদপুরের ডন খ্যাত দুই ভাই এখন একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক এক মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় শহরজুড়ে তারা যে ভোগ-দখলের রাজনীতি করেছেন তা এখন 'টক অব দ্যা টাউন'। অন্যায়ভাবে জোরজবরদস্তি করে কোটি টাকার জমি মাত্র ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, সরকারি প্রতিষ্ঠান জেলার এলজিইডিও তাদের করায়ত্বে ছিল। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের সাবেক একজন চেয়ারম্যান একাধিক মার্ডার কেসের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। সারাদেশে বিভাজনের রাজনীতিতে চলছে 'সালিশ বাণিজ্য' আর অবৈধ দখলদারিত্ব। ফলে বিনষ্ট হচ্ছে শান্তি। শান্তি ফেরাতে দুর্নীতি আর অপরাধ দমনের বিকল্প নাই।

দেশে গুটিকয়েক অপরাধী গ্রেফতার হলেও এখনও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তাদের ছত্রছায়ায় এমন অনেক অপকর্ম ঘটছে প্রতিনিয়ত। মূলত এসব ঘটনার সম্মুখীন হয়েই মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদে থেকে, অনিন্দ্য সুন্দর সড়কে চলে এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করেও তারা শান্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। কারণ, সমাজের সবখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে- এই ক্ষত কেটে ফেলা ছাড়া সমাজে আর শান্তি আসার ক্ষীণ সম্ভাবনা নেই, আর বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশও সোনার বাংলা হতে পারবে না। তাই সরকারের নিকট অনুরোধ- দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফপূর্ণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করুন এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করুন। কেননা, উন্নতির চেয়ে শান্তি জরুরি। সেটা নিশ্চিত করুন। বাস্তবায়িত করুন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। তাহলে আমরা পাবো একটি সোনার বাংলাদেশ।

লেখকের ইমেইল: [email protected]





ads







Loading...