ঈদের খোঁজ


poisha bazar

  • ০১ আগস্ট ২০২০, ০৯:৫৯,  আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২০, ১০:১২

সাজ্জাক হোসেন শিহাব : আমার জন্ম গ্রামে। বেড়েও উঠেছি গ্রামের ধুলো গায়ে মেখে। আমার জীবনে ঈদের স্মৃতি মানে, গ্রামের স্মৃতি। বলতে গেলে গ্রামের মানুষের স্মৃতি। এই ঈদ এলেই স্মৃতির পথ বেয়ে ছুটে আসে কতো ঘটনা!

মনে পড়ে, ঈদের আগের রাতে ভাইবোন মিলে হাতে মেন্দি দেয়ার উৎসব। যেন আগের রাতে ঈদকে আমন্ত্রণ জানানোর মহাব্যস্ততা ছিল আমাদের মাঝে। মনে পড়ে, বন্ধুরা মিলে হইহুল্লোড় করে হাতে মেন্দি দেবার ক্ষণ! হাতে মেহেদি দিয়ে আমরা সেকি আহ্লাদে মেতে উঠতাম! কার মেহেদির রঙ বেশি হয়েছে এ নিয়ে সরগরম থাকতো বন্ধু মহল।

ঈদের দিনে পুবের আলো ফোটার আগেই ঘুম থেকে ডেকে তুলতো মা। এই উঠছি, উঠছি বলে দেরি করতে চাইতাম বারবার। কারণ, আগের রাতে মজা করেছি সবাই। তাই ঘুম থেকে উঠতে চাইতাম না। আলসেমি দেখে, মা ঈদের নামাজের তাড়া দিতেন। ঈদের নামাজ মিস হবার ভয়ে লাফ দিয়ে উঠতাম।

ঘুম থেকে উঠে বাসার মুরব্বিদের সালাম দিতাম। আর আমার কাছে হাজির হতো ছোটরা। সালামি পকেটে গুঁজে আনন্দে মেতে উঠত তারা। আমরা গোসল করে একসাথে ঈদগাহে যেতাম। নামাজ শেষে সবাই হাসিমুখে কোলাকুলি করতাম। সেকি আনন্দ দেখতাম সবার চোখেমুখে।

ঈদগাহ থেকে ফিরে আমরা যেতাম পারিবারিক গোরস্থানে। দোয়া করতাম সবার জন্য। এরপর আসতাম কোরবানির স্থানে। কোরবানির পশুকে আগে থেকেই গোসল করিয়ে রাখা হতো। পশু কোরবানি থেকে শুরু করে গোস্ত বণ্টন সবই ছিল আমাদের আগ্রহের জায়গা। এক সময় গোশত বণ্টন শেষে সবাই ঘরে ফিরতাম। এরপর মা সেই গোস্তকে আবার ভাগ করতেন। আমাদের হাতে দেয়া হতো একেকটি ভাগ। অমুককে দিয়ে আসো, তমুককে দিয়ে আসো। আমরা আনন্দের সাথে সেই হুকুম পালন করতাম।

এক ঈদে এলাকায় অনেক বন্যা হলো। একজনের বাসায় গোস্ত দিতে গেলাম। তারা লজ্জায় বাইরে যায়নি। কাউকে কিছু বলতেও পারেনি। মা’র কাছে যেন সেই হিসেব লেখা ছিল। বন্যায় তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার হাতে গোশতের ব্যাগ দেখে তাদের চোখ ভিজে গেলো।

ভাবলাম, হয়তো আবেগে এমন করছে। কিন্তু পরে জানলাম, ঘরে চাল নেই! আমাকে মুখ ফসকে বলে ফেলল-গোশত দিয়ে কী করব! ঘরে চাল নেই, গোস্ত রান্না করার মসলাও নেই। বাসায় ফিরে মাকে বলতেই, ব্যবস্থা হলো সেসবের।

এবার চারিদিকে করোনার ভয়ঙ্কর প্রকোপ। তার সাথে যুক্ত হয়েছে বন্যা। চারদিকে মানুষের অভাব, অনটন, হাহাকার বেড়েই চলেছে। কেউ কেউ আছে দারুণ খাদ্য সংকটে। না খেয়ে থাকলেও হয়তো বলবে না কাউকে! কিন্তু আমরা কি তাদের খোঁজ নেব না!

লেখক: কবি ও সাহিত্যিক





ads






Loading...