ঈদের ‘ইদ আবেগ’


poisha bazar

  • ০১ আগস্ট ২০২০, ০১:২৭

মো.মহিউদ্দীন শুভ: আপেক্ষিকতার এই সমাজে প্রতিনিয়ত কত সংস্করণ। দিনদিন পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের চাহিদা, পরিবর্ধন পরিমার্জিত হচ্ছে কতকিছু। এই তো কিছুদিন হলো আবেগমাখা প্রতীক্ষমাণ ‘ঈদ’ শব্দটির বানানে আর ‘ঈ’ ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলা একাডেমির প্রমিতকরণে পরিবর্তন হয়ে গেল ‘ঈদ’ শব্দটির বানান। ঈ এর স্থলে ই দিয়ে লিখতে হবে ইদ। এবারের ইদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে অতি পরিচিত শুভেচ্ছা-বাণী ‘ঈদ’ মোবারক’ লিখতে আর কেউ হয়তো ঈ দিয়ে লিখবে না। চিরচেনা ঈদের বানানে ‘ই’ দিয়ে ‘ইদ’ হঠাৎ করেই কত বেমানান, অপরিচিতি হয়ে গেল।

আপাতদৃষ্টিতে কি বা যায় আসে এই অক্ষরের পরিবর্তনে। কিন্তু আবেগ মুছে যায় না অত সহজ নিয়মে। এই এক অক্ষরের পরিবর্তনই অবচেতন-আবেগ আর ভালোবাসাকে আজ শুদ্ধতার বিচারে বিঁধে দিয়েছে। আবেগপরায়ণ বাঙালির মননে এই এক অক্ষরের জন্য যে ভালোবাসা রচিত হয়েছিল কত অবলীলায় নিয়মের কাছে তা হেরে গেল।

বিশ্বায়নের প্রযুক্তির চাদরে আচ্ছাদিত আমাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্র। এমনকি স্থান করে নিয়েছে আমাদের উৎসব- আমেজের মাঝেও। একটা সময় নানা ধরনের আবেগ ভালোবাসার বার্তায় ইদ কার্ডের মাধ্যমে প্রিয়জনদের শুভেচ্ছা জানানো হতো। সময়ের বিবর্তনে এখন আমরা এনালগের সীমানা পেরিয়ে ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি।

সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে আমাদের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা প্রকাশের অভিব্যক্তি। হারিয়ে গেছে প্রিয়মানুষের জন্য রঙিন কার্ডে ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের গল্প। যেই কার্ডের প্রতিটা অণুতে লুকিয়ে থাকত প্রিয় মানুষের জন্য নিখাদ ভালোবাসা। আবেগ এখন সামাজিক মাধ্যমগুলোর অলিতে-গলিতে।

ফেসবুক আর হোয়াটস অ্যাপের ভিড়ে এখন আর কেউ প্রিয়জনদের জন্য ইদ কার্ড কিনে জমিয়ে রাখে না। ইনবক্সে প্রাপ্ত ইদ শুভেচ্ছার বার্তাটুকুর অনুলিপিই আংগুলের ঈষৎ ছোঁয়ায় পৌঁছে যায় অপর প্রান্তের মানুষটার কাছে। শত ব্যস্ততার ভিড়ে আমাদের শুভেচ্ছা জানানোর ভাষাটুকুও আজ প্রাপ্ত ক্ষুদে বার্তার ফরওয়ার্ডে সীমাবদ্ধ।

বর্তমান প্রজন্মের কাছে ইদ কার্ডের আবেদন হারিয়ে গেছে। ইদ কার্ডে প্রিয় মানুষের জন্য লুকানো ভালোবাসার কথা কিংবা প্রিয় মানুষটার কাছ থেকে ইদ কার্ড না পাওয়ার অভিমানটুকু এখন অতীত গল্প। আধুনিকতা আর যোগাযোগ প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে নিজেদের ঐতিহ্য।

ইদ কার্ড যেভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে তাতে আর আগামী প্রজন্ম জানবেই না ইদ কার্ড কি! সেইদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয় যেদিন ইদ কার্ড দেখতে হলে মানুষকে জাদুঘরে যেতে হবে। শুধু ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিবে আবহমান গ্রাম বাংলার সুদীর্ঘ এই সংস্কৃতিটি।

লেখক: শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়






ads