করোনাকাল: গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনের সময়

অনিল মো. মমিন

মানবকণ্ঠ
- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০৭ জুলাই ২০২০, ১৩:৪৮

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস মানুষের জীবনের সাথে জীবিকার ওপর চরম আঘাত হেনেছে। কোনোরকম খেয়ে-পরে দিনযাপনের সুযোগ করেছে সংকুচিত। বাদ সেধেছে দু’মুঠো মুখে তোলার রুটি-রোজগারেও। প্রায় থামিয়ে দিয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। অর্থসংকটে মানুষের সার্বিক ভোগ কমে যাওয়ায় কাক্সিক্ষত মাত্রায় উৎপাদন হচ্ছে না। সরকার লকডাউন প্রত্যাহার করে নিলেও কোনোটি এখনো বন্ধ, কোনোটি চালু হলেও হয়েছে অনেক ছোট পরিসরে। ফলে অনেক কর্মীকেই চাকরি হারাতে হয়েছে বা হচ্ছে।

রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২ হাজার ৩৭১ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্র্যাক মে মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি বলছে, ৩৬ শতাংশ লোক চাকরি বা কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। ৩ শতাংশ লোক চাকরি থাকলেও বেতন পাননি। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করেন, তাদের ৬২ ভাগই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। ঢাকা জেলার মানুষের আয় কমেছে ৬০ ভাগ। চাকরি বাজারে কোভিডের প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগ ও হতাশাজনক। বিভিন্ন পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, করোনা পরিস্থিতিতে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে দেড় কোটি মানুষ কর্মহীন হয়েছে। ব্র্যাক, ডাটাসেন্স ও উন্নয়ন সমুন্নয়ের যৌথভাবে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ১০ কোটি ২২ লাখ মানুষ রয়েছে আর্থিক ঝুঁকিতে। অন্যদিকে শহরের পথে-প্রান্তরে, ফুটপাতে ভাসমান বিভিন্ন দোকানি ও ছোটখাটো ব্যবসা যারা করতেন তারাও গত তিন মাসের লোকসান সামলে উঠতে পারছেন না। ফলে শহরে কর্মহীন নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের মূল সংকট এখন বাসা ভাড়া সামলানো। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও এদের বেশিরভাগেরই প্রতি মাসের বাসা ভাড়া ও বাজার খরচের অর্থ উপার্জনে বেগ পেতে হতো। আর এখন তা চরম সংকটের চূড়ায় পৌঁছেছে। আর তাই এই মানুষগুলো এখন শহর ছাড়ছে।

এদের কেউ সপরিবারে ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়ি, কেউ স্ত্রী-সন্তানকে পাঠিয়ে শুধু নিজে রয়ে গেছেন। আবার কেউ খুঁজছেন ঢাকা বা নগরীর উপকণ্ঠের বিভিন্ন এলাকার ভাড়া বাসা। ভাড়াটিয়া পরিষদ একটি গড় হিসাব করে বলছে, অন্তত ৫০ হাজার ভাড়াটে ঢাকা শহর ছেড়েছে। সময়ের সাথে এই সংখ্যা নিঃসন্দেহে আরো বাড়বে। সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকায় জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আনন্দ-আয়েশ, ভোগবিলাস শহরে বেশি। বাড়ি, গাড়ি ও রাস্তাঘাট শহরে ভালো। খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার মান শহরে উন্নত। তবু ছেড়ে যেতে হচ্ছে প্রিয় শহর। করোনা দাঁড় করিয়েছে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। এভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপনে আমূল এক পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে।

অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব এখন শহর নগর ছাড়িয়ে লোকালয় পর্যন্ত। তবু শহরের তুলনায় গ্রামের অর্থনীতি এখনো অনেকটা সচল। গ্রামের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কারণে তা চলমান রয়েছে। গ্রাম এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। আবার শ্রমশক্তির শতকরা ৬০% ভাগ এ সেক্টরে নিয়োজিত। স্পটতই এ খাতে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাটের সংখ্যা বেড়েছে। যোগাযোগ, অর্থনীতি, শিক্ষা চিকিৎসায় পূর্বের তুলনায় উন্নতি করেছে। এমন অবস্থায় শহর থেকে ফিরে আসা মানুষগুলো নিজেদের গ্রাম অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে। তারা নিজ প্রয়োজনের তাগিদেই গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে। শহর ফেরত মানুষ তুলনামূলক সচেতন, বিচক্ষণ আবার শিক্ষিত। এতে গ্রামে উচ্চশিক্ষিত লোকের হার বৃদ্ধি পাবে। এরা কেউ উদ্যোক্তা হবে। কেউ ব্যবসায়ী হবে। ব্যবসার নতুন নতুন ক্ষেত্র বের করবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সার্বিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা ও চিকিৎসার সম্প্রসারণ ঘটবে। অকৃষি খাতের বিকাশ ও আর্থিক সেবা খাতের বিস্তার করবে। মোদ্দাকথা গাঁয়ে নতুন এক গতিশীলতা আসবে। এ গতিশীলতা বলতে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও কুটির শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও পরিবেশ-সবকিছুরই উন্নয়ন বোঝায়।

ক্রমবর্ধমান শহরমুখী মানুষের দৌড় থামাতে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামকে এক-একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি দীর্ঘদিনের। এ লক্ষ্যে গ্রামীণ গতিশীলতা আনয়নে আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ শীর্ষক ইশতেহার এনেছিল। যেখানে বলা হয়েছিল, ‘প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারন করে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। পাকা সড়কের মাধ্যমে সব গ্রামকে জেলা-উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ছেলেমেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থানের জন্য জেলা-উপজেলায় কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে।’ অন্যদিকে সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকীকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অঙ্গীকার করা হয়েছে। নির্মম সত্য হলো সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদ বা ‘গ্রাম হবে শহর’ বাস্তবায়নে সরকারের শতভাগ সফলতার কোনো পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি। তবে করোনাকালীন সংকট এই কাজটিকে বেগবান করতে পারে। গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অটুট রেখে শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়া এখন অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।

গ্রাম উন্নয়নে প্রথমে নজর দিতে হবে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। গ্রামে পর্যাপ্ত রাস্তাঘাটের সংকট রয়েছে। যা আছে সেগুলোর সংস্কারও জরুরি। উন্নত রাস্তাঘাট বাড়াতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো পাকা করতে হবে। কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। সুপেয় পানি ও উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন একটি বড় সমস্যা গ্রামে। স্থানীয় প্রশাসনকে এটি নিশ্চিতকরণে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামগুলোতে এখনো শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা যায়নি। যতটুকু হয়েছে তাতে নিত্য লোডশেডিং। একটু ঝড় বৃষ্টিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। জরুরিভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে জ্বালানি সরবরাহও করা দরকার। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি সারাদেশে বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সেবার মান ও পরিধি বাড়িয়ে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়। এরপর শিক্ষার মান উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। গ্রামে স্কুল-কলেজগুলোতে খোলামেলা আর নিরিবিলি শিক্ষার চমৎকার পরিবেশ আছে। শুধু মানসম্পন্ন শিক্ষক নেই। ভালো মানের শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হলে স্বল্পব্যয়ে উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এক টুকরো জমিও যেন পতিত না থাকে। কৃষি উপকরণের দাম সীমিত রাখা, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাসহ কৃষিতে বহুমুখী উৎপাদনে জোর দিতে হবে। এজন্য গ্রামে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করতে হবে। গ্রামপর্যায়ে কৃষিযন্ত্র সেবা কেন্দ্র, ওয়ার্কশপ স্থাপন করে যন্ত্রপাতি মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষির পাশাপাশি নতুন কর্মস্থান সৃষ্টিতে মনোযোগ দিতে হবে। গ্রামে মৌসুমি বেকারত্বের প্রভাব জীবনযাত্রায় মন্থরগতি এনে দেয়। তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন অতীব জরুরি। কুটির শিল্প, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, হোসিয়ারী শিল্প, হস্তশিল্প এসব গুরুত্বারোপ করে ঢেলে সাজাতে হবে। শহর ও বিদেশ ফেরতদের কর্মসংস্থানে ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা বড় ভ‚মিকা রাখবে। গ্রামীণ যান্ত্রিকায়ন সেবা সম্প্রসারণ করে গ্রামীণ যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অকৃষি সেবা খাতের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা হলে কর্মক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হবে।

জীবনমানকে সহজ ও আরামদায়ক করতে ডিজিটালাইজেশনের জুরি নেই। ‘গ্লোবাল ভিলেজ’র যুগে গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন অতি গুরুত্বপূর্ণ। শহরের ন্যায় গ্রামীণ জীবনে ডিজিটাল বিপ্লব বেগবান করতে হবে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এখন জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লীবিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ, মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিংসহ ১৫০ ধরনের সেবা প্রদান করছে। এর ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত ও গুণগত মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিতে জোর দিতে হবে। স্মার্টফোন প্রযুক্তি হাতে হাতে থাকায় গ্রামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা সরবরাহ করাও জরুরি।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা অর্থনীতির জন্য বড় আশীর্বাদ। তাই গ্রামপর্যায়ে ব্যাংক শাখার দ্রুত স¤প্রসারণ দরকার। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং, কমিউনিটি ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিতে জোর দিতে হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার ভিডিপি ব্যাংক, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংককে গ্রামীণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য কাজ করার নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে।

জনসংখ্যার চাপে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ০.৭৪ শতাংশ কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে। একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ায় নতুন বাড়িঘর নির্মাণ ও রাস্তাঘাট উন্নয়নের অনেক জমি চলে যাচ্ছে চাষের বাইরে। কৃষিজমি কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করা যাবে না। তাই এক পরিবারের একটি বাড়ির মনোভাব থেকে সরে এসে একাধিক পরিবার নিয়ে পরিকল্পিত আবাসনের পদক্ষেপ নেয়া যায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মতামতের আলোকে গ্রামে গ্রামে নির্মাণ করা যেতে পারে বহুতল পাকা ভবন, যেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগসহ শহুরে জীবনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এটি বাস্তবায়নে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

গ্রাম পুনর্গঠনে বিচারব্যবস্থায় গুরুত্ব দিতে হবে। শহরের তুলনায় গ্রামে বিচার বৈষম্য বেশি। মোড়ল-মাতবর আর রাজনৈতিক নেতাদের বিচার-আচারে বরাবরই পক্ষপাত আর স্বজনপ্রীতি লক্ষ্য করা যায়। তাই গ্রাম আদালত পুনর্গঠন করে শক্তিশালী করতে হবে। এতে গ্রামীণ বিচারব্যবস্থায় আস্থা ফেরানো সম্ভব। সর্বোপরি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে গ্রাম ও গ্রাম অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে। সরকারের ‘গ্রাম হবে শহর’ যথাযথ বাস্তবায়নে করোনাকাল একটি উপযুক্ত সময়। তাই কার্যকর পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে।

লেখক-অনিল মো. মমিন : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। 

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...