প্রসঙ্গ দেড়শ' কোটি টাকার বই ক্রয় : প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ জুলাই ২০২০, ১১:০৮

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৫০ কোটি টাকার বই ক্রয় সংক্রান্ত ইস্যুতে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছেন প্রকাশকরা।

তাদের পক্ষে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ রোববার (০৫ জুলাই) গণমাধ্যমে এ চিঠিটি পাঠান।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিটি হুবুহু তুলে দেওয়া হলো-

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, করোনাকালে সৃজনশীল প্রকাশকদের জন্য সময়টা ভালো যাচ্ছে না। দেশব্যাপী লকডাউন শুরুর প্রথম দিকে এপ্রিলের ১ম সপ্তাহে সৃজনশীল প্রকাশনার অবস্থা জানিয়ে আপনার নিকট ইমেইলে (সীমিত আকারে অফিস খোলার পর ওই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে রিসিভ করানো হয়েছিল) পত্র প্রেরণ করেছিলাম। আবেদন জানিয়েছিলাম, সৃজনশীল প্রকাশকদের প্রণোদনার জন্যে। সাহায্য নয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট মাধ্যমগুলোতে বই কিনে প্রকাশকদের সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। আমার আবেদন আপনার হাতে পৌঁছে ছিল কী না, তা জানার সৌভাগ্য হয়নি।

এর মধ্যেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৃহৎ পরিসরে বই কেনার কর্মসূচি আসে। এটা হতে পারত সৃজনশীল প্রকাশকদের জন্য আশীর্বাদ, কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, গুটি কয়েক প্রকাশক এ আশীর্বাদের ফল ভোগ করছে আর বৃহৎ সংখ্যক প্রকাশক বঞ্চিত হয়েছে মন্ত্রণালয়ের বই কেরার সুফল থেকে। বই ক্রয় প্রক্রিয়ার সংবাদ অবগত হওয়ার পর পরই বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়। কেনার জন্য তৈরি করা তালিকার পুনর্বিন্যাস, সর্বজনীন অংশগ্রহণে প্রতিনিধিত্বশীল কমিটির মাধ্যমে বই বাছাই করে তালিকা তৈরি করে বই কেনার আবেদন জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং সচিব বরাবর একাধিক পত্র দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে আমাদের ভরসার শেষ স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নিকট আবেদন জানাই। দেশের বিশিষ্ট ১৫ জন লেখক পত্রিকায় বিবৃতি দেন।

জুন মাসের শেষের দিকে পত্রিকা মাধ্যম জানতে পারি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বই ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়, ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়নি। ২ জুলাই উক্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ ঘটে। আলোচনায় সমিতির প্রতিনিধিকে তিনি জানান যে, বই কেনার জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, এর মধ্যে ৩০ কোটি টাকার বই কেনা হয়ে গেছে। ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী নিশ্চয়তা দেন যে অবশিষ্ট ১২০ কোটি টাকা দিয়ে বই কেনা হবে এবং তালিকা আহ্বানের মাধ্যমে সব প্রকাশকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। একটি গ্রহণযোগ্য বই বাছাই কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী বই কেনা স্থগিত করার কথা বললেও জনশ্রুত আছে যে গত সপ্তাহের শেষ দিকেও কোনো কোনো সৌভাগ্যবান প্রকাশকের বই সরবরাহ হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিজে একজন সুলেখক। সরকার প্রধান হওয়ার আগে থেকেই আপনি লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। লেখক-প্রকাশকদের সাথে আপনার পরিচয় ও সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আপনি প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই সরকার থেকে এতো বিশাল অংকের টাকার বই কেনার পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। আপনার কাছে আমাদের দাবি ও অধিকার আছে। সেই অধিকার থেকে একজন সৃজনশীল প্রকাশক এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি হিসেবে সব প্রকাশকের পক্ষ থেকে আপনার কাছে আবেদন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বই ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিত করে নতুন তালিকা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করবেন। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব সৃজনশীল প্রকাশককে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের নির্বাচিত বই জমা দেওয়ার সুযোগ দান, লেখক, প্রকাশক, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বই বাছাই কমিটি গঠন এবং প্রতিনিধিত্বশীল লেখক ও প্রকাশকদের অন্ততঃ একটি শিরোনামের বই অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা তৈরিকরণ এবং দ্রুত বই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করে কৃতজ্ঞ করবেন।

প্রতি শিরোনামের বই ৬৭ হাজার কপি কেনার পরিবর্তে পাঁচ হাজার কপি বা এর কিছু কম-বেশি কিনলে বর্তমান বরাদ্দকৃত টাকাতেই চার/পাঁচশ’ শিরোনামের বই কেনা সম্ভব। এতে করে প্রতিনিধিত্বশীল লেখক ও প্রকাশকদের সবার বই অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে।

আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের এ আবেদন বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশনা প্রদান করে আমাদের কৃতজ্ঞ করবেন। এটাই হবে করোনাকালে সৃজনশীল প্রকাশনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য সরকারের উত্তম প্রণোদনা।”

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads






Loading...