মসজিদ-মন্দির থেকে হোক করোনা প্রতিরোধে প্রচারণা

মানস মেহেদী

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ২০:৩৯,  আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০, ২১:২৮

আগুনে হাত দিলে ছ্যাঁকা লাগবে জানি, তবুও আমরা আগুনেই হাত দিয়েছি। করোনায় যখন বিশ্বের নামজাদা দেশগুলো অস্থির, তখন কেবল আমাদের দেশে প্রবেশ করছে। প্রবেশ পথেই ব্যবস্থা নিলে আজ পুরো দেশ যে পরিমাণ আতঙ্কিত কখনোই সেটা হতো না। উপরি আমাদের মন্ত্রী মহাদয়রা হাস্যকর এবং একই সাথে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সাধারণ জনগণকে তাই আতঙ্ক ও অসচেতনতার জন্য অবিবেচকের মতো দোষ দিতে পারি না।

আমাদের সাধারণ জনগণের সচেতনতা উন্নত বিশ্বের সাথে তুলনা করাও বোকামি। এখন পর্যন্ত সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে ব্যর্থ হয়েছি। ভাইরাসটি যদি তাঁর শরীরে প্রবেশ করে সেটা থেকে তাঁর ষাট বছরের বাবা-মা, তাঁর পরিবার আক্রান্ত হতে পারে। সেই সচেতনতা আমরা তৈরি করতে পারিনি। সবাই আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ছুটছে। সাথে যোগ হয়েছে কাজ না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর আর্থিক সমস্যা। ঢাকায় এমন মানুষের অভাব নেই যারা দিন আনে দিন খায়। একদিন কাজ না হলে অনাহার বা অল্প আহারে দিন পার করতে হয়। সেই সকল মানুষগুলো এই পরিস্থিতিতে কীভাবে ঢাকায় থাকতে পারে?

আরও পড়তে ক্লিক করুন- প্রসঙ্গ : নারীবাদী বিজ্ঞাপন

করোনা-ভাইরাস : মানস মেহেদী

আমাদের সরকার প্রধান যদি এই সময়টার জন্য তাদের খাবারের দ্বায়িত্ব নিত তবে মানুষ আপনা থেকেই বের হওয়া কমিয়ে দিতো। কাজটা সহজ নয় কিন্তু পরিকল্পনা মতো করলে এক মাসের আহারের ব্যবস্থা করার অর্থ সরকারের নিশ্চয় আছে। দুর্যোগের সময় একটা দেশের সরকার কতটা বুদ্ধির পরিচয় দিতে পারে তাঁর উপরে জনগণ বিবেচনা করে সরকার কতটা শক্তিশালী এবং কল্যাণমুখী। সরকার সহৃদয় ও সচেতন হলেই সবাই নিয়ম মানবে সেটা সম্পূর্ণভাবে বলা যায় না। তাদের জন্য প্রয়োগ করা উচিত স্বচ্ছ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা। বাংলাদেশের শক্তিশালী বাহিনীগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা এখন খুব জরুরি।

গত তিনদিনে লক্ষ লক্ষ লোক ঢাকা ছেড়েছে। ঢাকা ছাড়ার কারণ কি কেবল নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা? কখনোই না, জনগণ ভরসার করতে পারেনি। সরকার এখন পর্যন্ত সেই ভরসা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ছুটি ঘোষণার আগে কেন লঞ্চ, বাস, ট্রেন বন্ধ করলেন না? এই খুব সহজ হিসাব কষার মত কেউ ছিল না, নাকি মনে হয়েছে গ্রামে ঝুঁকি কম? এই প্রশ্নটাও থেকে যায়।

একটা কথা আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। চিকিৎসকের চিকিৎসা সামগ্রীর পেছনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে, প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। অথচ শুরু থেকে ব্যবস্থা নিলে এই চিকিৎসার জন্য ব্যয় অনেক কমে যেতো। আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি সব সময় দেরিতে। আশা করলেও যার ফলাফল ভালো কিছু হবে বলে বলে মনে হচ্ছে না। তবে এখনো আশা করছি আমরা খুব দ্রুত আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবো।

সেজন্য প্রথম প্রয়োজন খুব গুরত্ব সহকারে পরিকল্পনা করে সচেতনতা তৈরি করা। সচেতন না হলে ভাইরাসকে আমরা আটকাতে পারবো না। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটা মানুষের কাছে সচেতনতার বাণী প্রচার করার বড় মাধ্যম মসজিদ এবং মন্দির। একযোগে প্রত্যেকটা মসজিদ এবং মন্দির থেকে সচেতনতার বাণী প্রচার করতে পারি। আর সেটা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী পদক্ষেপ।

সকল মুসলাম জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে বলা প্রয়োজন, এই পরিস্থিতিতে অর্ধেক হাদিস জেনে গোঁড়ামি করে মসজিদে যাবেন না। যারা এখনো মসজিদে যাবার কথা বলছে তারা কখনোই ইসলামের আপনজন বা বিজ্ঞ নন। আপনি আপনার ধর্ম আপনার ঘরেই পালন করুন। শুধু আপনি আক্রান্ত হচ্ছেন না, এই ভাইরাসের আক্রমণ আপনার পুরো পরিবারকে বিপদ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আপনাদের উদ্দেশ্যে নবীজির হাদিস নিচে উল্লেখ করা হলো-

“আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার উটগুলো হরিণীর ন্যায় সুস্থ থাকে। এরপর একটি চর্মরোগে আক্রান্ত উট এগুলোর মধ্যে প্রবেশ করার পরে অন্যান্য উটও আক্রান্ত হয়ে যায়।
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাহলে প্রথম উটটিকে কে সংক্রমিত করল? (বুখারী, আস-সহীহ ৫/২১৬১, ২১৭৭; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৪২।

পাশাপাশি সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক হতেও রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অসুস্থকে সুস্থের মধ্যে নেয়া হবে না (রুগ্ন উট সুস্থ উটের কাছে নেবে না)। (বুখারী, আস-সহীহ ৫/২১৭৭; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৪২-১৭৪৩)”

এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলি, ভাইরাসটি আরো ছড়িয়ে যাবার আগেই সচেতনতা জন্য প্রচারণা বাড়ান। কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় কোয়ারেন্টিন সেন্টার গড়ে তুলুন। তা না হলে আক্রান্তের সংখ্যা গুণিতক হারে বৃদ্ধি পাবে। নিম্ন আয়ের মানুষগুলো যেন ঠিকঠাক অর্থ সহায়তা পায় সেদিকেও খেয়াল করুন।

সবাইকে সবাই সহায়তা করুন, ঘরে থাকুন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন। খুব বেশি দরকার ছাড়া বের হবে না। বেঁচে থাকলে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মেলামেশার অনেক সময় পাওয়া যাবে।

লেখক : মানস মেহেদী 

মানবকণ্ঠ/এইচকে/জেএস




Loading...
ads






Loading...