‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’

মানবকণ্ঠ
ইমাউল হক - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫ মার্চ ২০২০, ১৫:৩৫

ইমাউল হক, পিপিএম : বিহারের শাসনকর্তা লর্ড সিংহ বাহাদুর ভয়ানক মুশকিলে পড়িয়া গিয়াছেন। ঠিক যেনো সাপের ছুঁচো গেলা। ছাড়িতেও পারেন না আবার গিলিতেও পারেন না। কেনো না তার ছোট শাসনকর্তারা রাগের বা ভয়ের চোটে যখন-তখন যা তা করিয়া বসিতেছেন।

লর্ড সিংহ বাহাদুর বড় অসময়ে লাট ও শাসনকর্তা হইয়াছেন। নিরবেই সহ্য করিতে হইতেছে। কেনো না আমরা ছেলেবেলার পদ্যপাঠে পড়িয়াছি, ‘অসহ্য জাতির বাক্য সহ্য নাহি হয়, সাপের মাথায় যেনো ব্যাঙে প্রহরায়!’ আর মানুষের চামড়া কিছু গণ্ডারের চামড়া নয়, অতএব দেশ-ভাই-এরও আঘাত হয়তো তাহার গায়ে দারুণ। এসব এবং এ রকম আরও নানা গতিকে লর্ড সিংহ বাহাদুর চুপ করিয়া ভাবিতেছেন, ‘শ্যাম রাখি কী কুল রাখি!’

তিনি এখন প্রাণপণে দু-নৌকায় পা দিয়া আছেন বলিলেই হয়। আর এ ‘ন যযৌ ন তস্থৌ’ ভাব চলিবে না। আমরা তাহাকে আক্রমণ করিতেছি না, বরং তাহার এ ত্রিশঙ্কুর মতো অবস্থা দেখিয়া স্পষ্টই দেখিতে পাইবেন— ‘এক যাত্রায় পৃথক ফল!’

কাজ দুই দিকে। বাদীর মিথ্যা মামলা না নিলে বলে ঘুষের অভাবে নেইনি। সত্য মামলা নিলে বলে ঘুষের বিনিময়ে মামলা নিছে। তদন্তে নির্দোষ হলে বলে ঘুষ দিয়ে পার পেলো। দোষী হলেও বলে ঘুষ না দেওয়ায় বাদীর টাকা নিয়ে মামলায় জড়িয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ীদের ধরলে বলে ঘুষ দেয়নি বলে ধরেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের না ধরলে বলে মাদকে সয়লাব। মাদকসেবীদের ওয়াস করিয়ে আইনে চালান দিলে বলে ঘুষ নিয়ে ছোট মামলা দিছে।আবার মামলা দিলে বলে সে সেবী, ব্যবসায়ী না, মামলা কেনো? আবার ফুল দিলে বলে তাদের তো মামলা দেওয়া উচিত।

কোনো মাদক উদ্ধার না হলে বলে পুলিশ নিষ্ক্রিয়। ২০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হলে তারা জানে ৪০০ বোতল আর ২০০ পুলিশ বিক্রি করছে। ইয়াবা ধরলে বলে আমার ছেলেকে মায়াবড়ি দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। যাকে আমি গ্রেফতার করবো মামলা দিবো সে কি মাইকিং করে বলবে পুলিশ খুব ভালো করেছে?

জঙ্গি ধরলে বলে জোর করে বানায়। জঙ্গি মরলে বলে নাটক। পুলিশ গুলি খেলে বলে দক্ষতা নাই।পাল্টা গুলিতে মারা গেলে বলে এনকাউন্টার নাটক। উপায় নেই গোলাম হোসেন। শুধু দেয়াল আর দেয়াল।

আমরা সমাজের মানুষ। ছাত্র ছিলাম, বেকার ছিলাম, সাংবাদিক ছিলাম। আমাদের স্বজনেরা এখনও সমাজে। তো আমাদের দেশে আমাদের কাজের অবস্থা কঠিন তরল না বায়বীয় তা বুঝতে জনপ্রিয়তা লাগবে? আসামির সমর্থন লাগবে? এ যেনো হুর রে হুয়া কেয়ামত বনের রাজা কুপোকাত।

বিশ্বের কোনো দেশেই শাসনের বাহিনীকে এত নাজুক অবস্থা অতিক্রম করতে হয় না। আর পুলিশ। রাষ্ট্রীয় আইনের জন্য সঠিক অবস্থান তারাই করে। যুগে যুগে এরা দেশকে, দেশের মানুষকে, দেশের পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবী, কলম সৈনিক, গণসত্তার জীবিত অংশকে বহুবার, বারবার ধরে রেখেছে।

এদের বিষয়ে যদি পাঁচ টাকা আটআনা ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ এনে সাড়ে বারো পয়সা কমিশন নেওয়ার চেষ্টা থাকে। আর তা অপরাধীরা ঈদের সময় না হলেও ঈদের আনন্দের সাথে হাত চাপড়ায়! তবে সে হাততালির দরকার কি? রীতিমতো ‌‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’।

লেখক-ইমাউল হক : পুলিশ কর্মকর্তা।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...