করোনা থেকে সতর্ক থাকবেন কীভাবে?

এম এল গনি

মানবকণ্ঠ
এম এল গনি - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • ০৯ মার্চ ২০২০, ১৫:৪৪,  আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২০, ১৫:৫০

বাংলাদেশে করোনার রোগী পাওয়া গেছে বলে জানলাম। ভয় পাবেন না। করোনা ভাইরাসে (COVID-১৯) আক্রান্তদের শতকরা আশি ভাগই কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যান। মারা যান কেবল দুই শতাংশের মতো। তারপরও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিরোধক আবিষ্কার হয়নি বলে এ রোগের বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত।

সতর্ক থাকবেন কীভাবে?

- জনসমাগম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কেউ আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে তাঁর কাছ থেকে অন্তত ৩/৪ ফুট দূরত্বে থাকুন। যাতে তাঁর নিশ্বাস হতে নির্গত জলবিন্দু আপনার সংস্পর্শে না আসে, বা আপনার দেহে প্রবেশ করতে না পারে।

- অযথা ভ্রমণ/বিদেশ ভ্রমণ পরিহার করুন। কে জানে আপনার আশপাশের সিটে ভাইরাস আক্রান্ত কেউ বসেছেন কি না?

- বিদেশ ফেরত কারো সাথে মেলামেশার আগে (যেমন- হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি, ইত্যাদি) তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আনুন। ঠান্ডা-সর্দি-কাশি-গলাব্যথা-জ্বর-দুর্বলতা-শ্বাসকষ্ট-ডায়রিয়ার মতো কিছু লক্ষ করলে তাঁকে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান এবং বাসায় আলাদাভাবে (আইসোলেশন) রাখুন।

- ধূমপান শ্বাসকষ্টের অন্যতম কারণ। তাই ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা এ রোগের উপসর্গ দেখা দেবার সাথে সাথে বন্ধ করুন। না হয়, শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগী হউন। বিশেষ করে খাবার স্পর্শ করার আগে ভালোমতো হাত ধুয়ে ফেলুন। অধিকন্তু নাক, চোখ বা মুখে হাত দেবার আগে নিশ্চিত হউন আপনার হাত পরিষ্কার। সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধোবেন।

- বাইর হতে ঘরে প্রবেশ করলে সাথে সাথে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। কারণ, বাইরে কোথায় কী স্পর্শ করেছেন ঠিক নেই। এমনও হতে পারে, করোনায় আক্রান্ত কোন রোগীর স্পর্শ করা কোন বস্তুতে আপনারও হাত পড়েছে। তাই হাত ধুয়ে ফেলাই নিরাপদ।

- নিজ বিবেচনায় এন্টিবায়োটিক খেয়ে ভাইরাস ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করবেন না। কারণ, করোনা কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন নয়, এটি একটি ভাইরাস। এক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

- ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর জল পান করুন। সর্দি-কাশি হলে ডাক্তাররা প্রচুর জলপান করতে বলেন; এক্ষেত্রেও একই নিয়ম।

- আপনি নিজে অসুস্থবোধ না করলে বা অসুস্থ কারো কাছাকাছি না গেলে মাস্ক ব্যবহার করা নিষ্প্রয়োজন। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। কারণ, তাঁদের এ ধরণের রোগীর মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা অনেক।

- কাশি বা হাঁচি দেয়ার সময় তা হাতের কনুই ভাঁজ করে ডেকে রাখুন, যাতে জলবিন্দুগুলো বাতাসে না ছড়ায়। কাউকে মুখ না ঢেকে কাশি বা হাঁচি দিতে দেখলে আপনি দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে ফেলুন এবং তাঁকে ভদ্রভাবে নিরাপদ হাঁচি-কাশি দেবার নিয়ম শিখিয়ে দিন। কারণ, অনেকে না জেনেও ভুল করেন।

- নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ হলে আপনার প্রতিবেশী বা ঘনিষ্ঠদের জানিয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা চান। পরিবারের সদস্যের কাছাকাছি যাওয়াও বন্ধ করুন। কারণ, আশপাশের লোকজন আক্রান্ত হয়ে পড়লে আপনার দেখভাল করবেন কারা?

- বাইরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা সীমিত করুন। কারণ, ওই খাবার যাঁরা তৈরী বা প্রসেস করেছেন তাঁদের কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকলে তা আপনার শরীরেও ছড়াতে পারে।

মোটকথা, করোনার বিস্তার ঠেকাতে সম্ভব সকল প্রকার কমনসেন্স আপনাকে কাজে লাগাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনাকে ঘনঘন হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত থাকতে হবে। শরীরে রোগ ছড়ানোর জন্য এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিই সবচেয়ে বেশি দায়ী।

প্রিয়জনদের সাথে উপরের তথ্য শেয়ার করুন; তাঁদেরও কাজে লাগতে পারে। আমি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে নিজে এটি তৈরী করেছি। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

লেখক- এম এল গনি : কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট ও কথাসাহিত্যিক
[email protected]

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...