প্রসঙ্গ : নারীবাদী বিজ্ঞাপন

মানস মেহেদী

প্রসঙ্গ নারীবাদী বিজ্ঞাপন
মানস মেহেদী

poisha bazar

  • ০৮ মার্চ ২০২০, ২০:৪০,  আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২০, ২২:৪৫

দিবস দিয়ে নারী কিংবা পুরুষ আলাদা করাটা এক ধরনের বৈষম্য হিসেবে দেখি। নারীবাদ তৈরি হয়েছে একটা গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে। যেখানে নারী অধিকারের কথা বলে সুপরিকল্পিতভাবে নারীকে করা হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী পণ্য।

নারী অধিকারের কথা যদি বলেন তবে কেনো পণ্যের বিজ্ঞাপন নারী ছাড়া হয় না? পুরুষকে ঢেকে রাখলেও নারীকে কেনো খোলামেলা উপস্থাপন করা হয়? আরো অনেক প্রশ্ন চলে আসে। এখানে একটা তুলনা তুলে ধরা প্রয়োজন, তাতে করে নারীবাদী ব্যাপারটা কি বুঝতে সুবিধা হবে।

আচ্ছা নারীবাদে নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলা হয়। তবে কেনো গরীবদের নিয়ে কেনো গরীববাদী দিবস পালন করা হয় না? কারণ খুব স্বাভাবিক, গরীববাদে কোনো ব্যবসা নেই যেটা নারীবাদী বিজ্ঞাপনে আছে। নারীবাদ যারা চর্চা করছেন ভেবে দেখবেন সত্যিই কতটা স্বাধীনতা পাচ্ছেন। নারীবাদী বলে বলে বরং নারীকে মূলধারার সাম্রাজ্যবাদী কাতারে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। সুপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেয়া সাম্রাজ্যবাদী বীজ নারীবাদ। আর আমরা সেটাকে মহান মহিমায় মহিমান্বিত করে চলেছি। 

যেখানে এখনো আহার সংগ্রহের জন্য রাতদিন খাটতে হয়। অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিকভাবে বেচে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত, খাবারের অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদের অধিকার নিয়ে কই কোনো দিবস পালন করা হচ্ছে না তো! আপনি গরীববাদী দিবস করেন, গরীববাদ নিয়ে আন্দোলন করে দেখন তো কিভাবে টিকতে পারেন। সম্রাজ্যবাদ আপনাকে ঠিকতে দিবে না। সেখানে পুরো পৃথিবীব্যাপী নারীবাদ পালন করছেন। তাও আবার নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, সেটা কি পুরুষতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদীরা মেনে নিবে?

যখন দেখি স্রোতের কুলে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিজেকে সম্রাজ্যবাদীদের প্রোডাক্ট বানাচ্ছে নারীবাদ। 

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক নারী হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে। নারীকে কখনোই ছোট করে দেখতে পারি না, কারণ এই নারীই তো আমাকে ১০ মাস ভেতরে লালন করেছে। এভাবে যদি বলি মানব সংসার টিকিয়ে রাখতে পুরষের অবদান মাত্র কয়েক মিনিটের, নারী অবদান ১০ মাস। সেখানে নারীকে কেউ ছোট করতে দেখলে, হেয় হতে দেখলে যন্ত্রণা হয়।

একটা ধর্ষণের খবর যেমন কষ্ট দেয়। অনলাইন, টেলিভিশনে প্রচলিত নারীবাদী বিজ্ঞাপন সমপরিমাণ কষ্ট দেয়। কারণ প্রচলিত নারীবাদ অশুভশক্তির মতই চতুর্দিকে হাতপালা বিস্তার করে চলেছে।

নারী অধিকার প্রসঙ্গে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা সামাজিক নানাবিধ কুসংস্কার। ধর্মীয় কুসংস্কার বলবো না। সমাজে যে সব ধর্মীয় কুসংস্কার আছে সেটার অনেকাংশে সামাজিক কুসংস্কারের সাথে যুক্ত। আমরা ছোট থেকেই শিখে এসেছি নারী মানে দূর্বল। নারী-পুরুষ একসাথে থাকলে তৃতীয় শক্তি চলে আসে। নারী ঘরে থাকবে, পুরুষ বাহিরে থাকবে। হাজার উপায়ে নারী পুরুষের ভেদ তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হয়েছে পুরুষ সেরা, পুরুষ সর্বোত্তম ধারণা থেকে। নারী পুরুষের বন্ধুত্বের মধ্যেও সামাজিক দেয়াল দাড় করানো হয়েছে।

নারীকে নারী, পুরুষকে পুরুষ হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখা লাগবে। একজন মানুষ যে অধিকার পায় নারী সেই অধিকার পাবে। বর্তমান সময়ে উচু, নিচু ভেদাভেদ বড় ভেদাভেদ। সেই ভেদাভেদ না বুঝতে পারার ফলেই অতি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে দিবস পালন করছি। মানুষ হিসেবে নিজেকে দেখতে না পারলে কখনোই দূর্ভেদ্য ভেদ থেকে বের হতে পারা যাবে না।

লেখক: চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...