• শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

ঢাকা সিটির নির্বাচন বনাম জনতার ট্র্যাজি-কমেডি জীবন

ঢাকা সিটির নির্বাচন বনাম জনতার ট্র্যাজি-কমেডি জীবন

poisha bazar

  • ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:২০

হায়দার মোহাম্মদ জিতু: কলম্বিয়ান সাংবাদিক এবং ঔপন্যাসিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস জীবনবোধ সম্পর্কে তিনটি অঞ্চল- জনসমক্ষ, ব্যক্তিগত এবং গোপন চিহ্নিত করেন। যদিও পেশার ধরণ অনুযায়ী এই বোধ নির্মাণ এবং রক্ষণের ধরণ বদলে যায়। তবে এর মাঝে একমাত্র রাজনীতিবিদরাই একই সাথে তিনটি বোধকে একসঙ্গে করে পথ চলেন। যদিও তাদের এই যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সার্বক্ষণিক প্রবল জনসংযোগে থাকবার কারণে এদের প্রায় সব কিছুই বাষ্পীভূত হয়ে উঠে যায় চায়ের কাপ কিংবা শোবার ঘরের গোপন কামড়ার আলোচনায়।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে বাঙালির জীবনে নির্বাচনকালীন সময়ে চায়ের দোকানের গুরুত্ব এবং গভীরতা বহুমাত্রায় বেড়ে যায়। কারণ এ সময় চায়ের দোকানি এবং ক্রেতারা প্রার্থীবৃন্দের সমালোচনার ফর্দ খুলে বসেন। যদিও এ কারণে এই ক’দিন তাদের চা টাও ভালো করে বানানো হয়ে উঠে না, লিকারের মাত্রা প্রায়ই উঠানামা করে। আবার ক্রেতারাও উত্তেজনার বসে চা এর ওর শরীরে ফেলে বসেন। তবে ইদানিংকালে ‘টিব্যাগ’ চা হওয়ায় শুধু পানিটা গরম করলেই হয়। বাকিটা দোকানি এবং ক্রেতার পারস্পারিক বোঝাপড়ায় জমে যায়। তবে এরপরও নির্বাচন কিংবা যেকোনো বিষয়ে তাদের সমালোচনার ঝড় থামে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্ব এবং তত্ত্বাবধানে জেগে উঠা আইটি খাতের কল্যাণে তথ্যের প্রবাহমাত্রা বেড়েছে। আগে যেমন সকাল-বিকেল কোন ঘটনা ঘটলে সেটা জনমাধ্যমে পৌঁছতে সময় লাগতো এবং সেটা প্রকাশ হত শুধুমাত্র দুই-একটি কাগজ কিংবা দুই একটি টেলিভিশন মিডিয়ার মাধ্যমে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে সেটাই ঘটছে প্রতি সেকেন্ডে, প্রতি মুহূর্তে। জনগণ সেটাই পড়ছে, দেখছে এবং শেয়ার করছে। ফলাফল এখন চায়ের দোকানে বসেও স্ক্রল করে সব তথ্য পাওয়া যায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নিয়ে নিন্দার ঝড় তাই সেখানেও বেশ জমে উঠেছে।

তবে পূর্বের মত নির্বাচন নিয়ে আলোচনা যেমন কে জিতবে কে হারবে, এর চেয়ে বিএনপির নির্বুদ্ধিতার সমালোচনাই বেশি। সচেতন জনগণ বুঝতে পেরেছে বিএনপি এই নির্বাচন করছেই শুধুমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সমালোচনা করবার জন্য। কারণ উভয় নির্বাচনেই বিএনপির পরাজয় প্রায় আসন্ন। কারণ ২০২০ এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে তাবিথ আউয়ালকে।

যার নামে আছে সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া ‘পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে’। শুধু তিনি নিজে নন এই অর্থ পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে এতে আছেন তার পিতা, মাতা ও অপর দুই ভাইও। নির্বাচনের পূর্বেই যার পুরো পরিবার দেশের অর্থ পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত তারা যে তথ্য প্রবাহের এই কালে কখনই নির্বাচিত হতে পারবেন না। তা প্রায় সকলেই বিশ্বাস করে। তাছাড়া মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছেন জনশ্রুত আছে বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখান থেকে ডিগ্রি মিলে যায়।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সুনির্দিষ্ট মামলা, যা এখনও চলমান।

যদিও এখন প্রায় সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে যে একেবারে অনভিজ্ঞ এবং অপটু তাবিথ এবং ইশরাক মনোনয়ন দেবার কারণ তারেক রহমানের বিদেশে বসে আয়েশি জীবনযাপন। তারেক রহমান উচ্চ শিক্ষিত কেউ নন, সেখানে তার অর্থ উপার্জনের কোন পন্থাও নেই। তাই মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্য করে তিনি এই দুই তথাকথিত তরুণকে নমিনেশন দিয়েছেন। যদিও তার দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এই মনোনয়নে ভিন্ন কিছু আশা করেছিলেন। যা তাদের দলের জন্য মঙ্গল হলেও হতে পারত। তবে এই দুইজনকে মনোনয়ন দেবার ব্যাপারে তারেক রহমানের একটা ভিন্ন কৌশল এবং বার্তা আছে।

বিএনপির রাজনীতিতে সৎ এবং মেধাবী তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ নেই। তাই, তাবিথ-ইশরাকের মত নৈতিক দায়বদ্ধতা হারানো দুর্নীতি যুক্ত প্রজন্মকে রাজধানী ঢাকার বুকে বিভক্ত দুই সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে টিকিট দিতে হয়েছে এবং দুর্ঘটনাবশত এরা যদি নির্বাচিত হয়ে যান তাহলে পিতার হাত মতই হোন্ডা-গুণ্ডার পারসেন্টেজ রাজনীতির ছড়ি ঘোরাতে চাইবেন। অর্থ এবং ক্ষমতার দম্ভে দেশের সাংস্কৃতিক ছিনতাই এবং অশ্লীলকতাকে টেনে আনবেন, এটাও এই তরুণ প্রজন্ম অনুভব করে।

তাছাড়া এই বেগম জিয়া-তারেকের নেতৃত্বেই কৃষকের সন্তানের, পিছিয়ে পরা মানুষগুলোর স্বপ্ন লুট হয়েছিল। বগুড়ার এক কলেজের ক্যান্টিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ছাদ থেকে নির্বাচিত হয়েছে বিসিএস ক্যাডার। আর এতে কোন স্বপ্নবাজ তরুণ কিংবা নিস্পলক তাকিয়ে থাকা মায়ের সন্তান পাননি। পেয়েছেন নষ্ট, অসুস্থ নৈতিকতার চাষকারীবিএনপির-জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার হতে হবে।

আবার আসি নির্বাচন প্রসঙ্গে। এই দুই চিহ্নিত অপকর্মকারীকে মনোনয়ন দেবার ব্যাপারে ওদের আরেক উদ্দেশ্য হল তারা জানেন জনগণ এদের প্রত্যাখ্যান করবেনই। এতে তাদের লাভ হল, শৈশবে খেলার সময় যেমন অবধারিত হার জেনে যেমন কখনও কখনও খেলা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া হত তেমনি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ছেড়ে যেতে চাইবেন। অন্যদিকে যোগ্যতা না থাকলেও বাঙ্গালী প্রবাদ ‘তাল গাছটা আমার’ এই নীতিতে তো ফলানোর চেষ্টা করবেনই। তাছাড়া ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনের যে কীর্তি তাতে আদালত কোনভাবে তাদের অবৈধ ঘোষণা করলে এই দুর্নীতিবাজ পুত্ররাই আবার আদালতকে প্রশ্ন করবেন, এটাই জীবনের ট্র্যাজি-কমেডি।

অন্যদিকে বয়সের ভাড়ে ভীমরতি ধরা এককালের ক্ষয়ে যাওয়া তারা ড. কামাল বিএনপির দুই প্রার্থীর হাত ধরে বেশ দোয়া দিয়েছেন। কিন্তু তাদের সহি রাস্তা দেখাতে পারবেন বলে মনে হয় না। কারণ প্রকৃত বাস্তবতা হল বঙ্গবন্ধুর হাত ছাড়ার পর থেকে এরা আসলে কার, কোন পক্ষের, এটা বোঝাটা যেমন কষ্টকর এবং পিচ্ছিলকর তেমনি এরা যার‘নাইয়ায় উঠেছে সেই নাইয়াই ডুবেছে’।

লেখক: প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...