গুজব ছড়ানো মুনাফেকের কাজ

মানবকণ্ঠ
গুজব ছড়ানো মুনাফেকের কাজ - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • মাহমুদ আহমদ
  • ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৬

ইসলামে গুজবের কোনো স্থান নেই এবং এ বিষয়টি ইসলামে খুবই গর্হিত কাজ হিসেবে চিহ্নিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্য লবণ মজুত রয়েছে। যা আমাদের দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিও নিশ্চিত করেছেন যে, আমাদের দেশে লবনের কোন ঘাটতি নেই। এ ধরণের গুজব ছড়িয়ে যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

আল্লাহতায়ালা ভিত্তিহীন খবর প্রচারকারীদের কথা শুনেই বিশ্বাস না করে সত্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে যখন কোন ফাসেক লোক কোন খবর দিয়ে আসে, তার সত্যতা যাচাই করে নিও যেন অজ্ঞাতসারে তোমরা কোন জাতির ক্ষতি করে না বস, যার ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হয়’ (হুজুরাত: ৬)।

যারা মদিনার সমাজে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে আতংক সৃষ্টি করছিলো, তা বন্ধ না করলে তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদানের ঘোষণা প্রদান করে আল্লাহতায়ালা বলেন: ‘মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যারা মদিনায় মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে বেড়ায় তারা বিরত না হলে আমি অবশ্যই তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবো। এরপর তারা (এ শহরে) তোমার প্রতিবেশী হিসাবে অতি অল্পকালই থাকতে পারবে। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যায় তাদের ধরা হোক এবং নির্মমভাবে হত্যা করা হোক। কারণ তারা অভিশপ্ত’ (সুরা আহযাব: ৬০-৬১)।

একটি মিথ্যা অপপ্রচার বা গুজব কত সহজেই যে জনগণের কোন কোন অংশকে উত্তেজিত করে ভয়ংকর কাণ্ড তথা লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে পারে তার অসংখ্য দৃষ্টান্ত আমাদের দেশে রয়েছে। যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার জেলার রামুতে হামলা চালিয়ে লুটপাটসহ ১২টি বৌদ্ধমন্দির ও ৩০টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ নামে এক মৎস্যজীবীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনে লোকজনকে খেপিয়ে তুলে ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়। এছাড়া পদ্মা সেতুতে মাথা লাগা বা ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে কয়েকজনের প্রাণনাশ ঘটেছে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে গুজব তথা মিথ্যা অপপ্রচারের ব্যাপারে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। গুজব ছড়ানো ইসলামে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গুজব ছড়িয়ে যারা মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং সম্মানহানি করে তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধানও রয়েছে ইসলামে। বেশ কিছু নির্দেশনার আলোকে গুজব বিষয়টি ইসলামের নিষিদ্ধ। কেননা গুজব মিথ্যা আর মিথ্যা বলা হারাম।

নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুনাফিকের অন্যতম আলামত হলো যখন সে কথা বলে তখন মিথ্যা কথা বলে’ (বোখারি)। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের উচিত মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে এবং নিজের নাম যেন মুনাফিকের তালিকাভুক্ত না হয়, সেজন্য গুজব পরিহার করা। এ ছাড়া রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষের মধ্যে গুজব প্রচার ভয়ঙ্করতম মিথ্যা (মুসলিম)।

প্রিয় নবীজি (সা.) ভিত্তিহীন কথা প্রচার করতে আমাদেরকে কঠিনভাবে নিষেধ করে বলেছেন: একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যা শুনবে, তা-ই বলে বেড়াবে (মুসলিম)। কারণ, কত কথাই না আমরা শুনতে পাই। যার অনেকগুলোই সত্য নয়। অসত্য কথা প্রচার করার দায়িত্ব পালন করা একটি বড় গুনাহ। যা একটা লোকের মিথ্যাবাদী হবার জন্য যথেষ্ট। অনেক মানুষ আছে যারা এসব খবর প্রচারে খুবই মজা পান। ভালো খবর প্রচারে তারা হয়তো মোটেই আগ্রহী নন।

বর্তমান আমরা দেখতে পাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কোন কিছু পোস্ট করল আর তার সত্যতা যাচাই না করেই সাথে সাথে হাজার হাজার শেয়ার আর লাখ লাখ লাইক হয়ে তা ভাইরালও হয়ে যায়। এরফলে যে দেশে কী ধরণের ক্ষতি হতে পারে তা আমরা একবারের জন্যও চিন্তা করি না। আসলে বিভিন্ন মিথ্যা সংবাদ ও গুজব ছড়িয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা নষ্ট করা মারাত্মক অপরাধ আর এসব শয়তানের কাজ। যারা গুজব ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করতে হবে।

লেখক-মাহমুদ আহমদ: ইসলামী গবেষক ও কলাম লেখক

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...