অবৈধ মজুদদারী ইসলামে নিষিদ্ধ

মানবকণ্ঠ
অবৈধ মজুদদারী ইসলামে নিষিদ্ধ - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • মাহমুদ আহমদ
  • ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৪১

ইসলাম ব্যবসায়-বাণিজ্য উৎসাহিত করতে যেমন বিভিন্ন রকম জাগতিক ও পারলৌকিক প্রাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে তদ্রুপ বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্যকর ও অবাঞ্ছনীয় পদক্ষেপ প্রতিরোধে জাগতিক এবং পারলৌকিক শাস্তিও ঘোষণা করেছে। পণ্য সামগ্রী জমা রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সমাজের দুর্ভোগ বৃদ্ধি ও অতি মুনাফা অর্জন করাকে দণ্ডনীয় কাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি যে, পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানুষের ক্রয় সীমার উর্ধে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য কিনতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ টিসিবি’র খোলা ট্রাকের দিকে লম্বা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোন কোন স্থানে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হাতাহাতি করতেও দেখা যায়। আসলে অধিক মুনফালোভীরা তাদের গুদামে নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্যদ্রব্য অবৈধ, অনৈতিকভাবে মওজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কেননা অনেক গুদাম থেকে বস্তার বস্তা পঁচা পেঁয়াজ নদীতে ফেলার চিত্রও মিডিয়াতে প্রচার হচ্ছে। যদিও এদের সংখ্যা কম কিন্তু বাজার ব্যবস্থাকে এই কম সংখ্যক লোকই নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মজুদও গড়ে তোলেন। মাঝখানে কয়েকটি স্তরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসায়-বাণিজ্য অন্যতম সম্মানজনক কাজ এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যকে ইসলাম সব সময় উৎসাহিত করে থাকে। কিন্তু খাদ্য সামগ্রী ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরীর মাধ্যমে অধিক মুনাফা অর্জনের মানসিকতাকে ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মজুদদার খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি; যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায় তাহলে চিন্তিত হয়ে পড়ে, আর যদি মূল্য বেড়ে যায় তাহলে আনন্দিত হয়’ (মিশকাত)।
মহানবী (সা.) আরো ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি বাজারে পণ্যের অভাবের সময় পণ্য মজুদ করে রাখে সে বড় পাপী’ (মুসলিম)। পণ্যসামগ্রী মজুদ করে দাম বৃদ্ধি অথবা অধিক মুনাফা করাও ইসলামে নিষিদ্ধ।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত হয়, আর মজুদদার হয় অভিশপ্ত।’ আরো বলা হয়েছে, ‘বিভ্রান্ত লোকই শুধু মজুদদারী করে’ (ইবনে মাজা)।

নবী করিম (সা.) মজুদদারকে কঠোর শাস্তি প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন, ‘যে মুসলিম সম্প্রদায়ের খাদ্যদ্রব্য চল্লিশ দিন যাবত মজুদ করে রাখবে আল্লাহ তাকে দূরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দিয়ে শাস্তি দিবেন’ (ইবনে মাজা)।

তাই দ্রব্যমূল্য মজুদ রেখে দাম বাড়িয়ে দেয়া অত্যন্ত গোনাহের কাজ। এই পাপ কাজ করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

লেখক-মাহমুদ আহমদ : ইসলামী গবেষক ও কলাম লেখক

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...