মো. আব্দুল মান্নান

ইসলামে সাংবাদিকতার গুরুত্ব

লেখক : মো. আব্দুল মান্নান।

poisha bazar

  • ২৬ জুন ২০১৯, ১৯:৫৮

সাংবাদিকতা এক মহান পেশা। ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। স্বয়ং নবীরা সংবাদদাতা ছিলেন। তাই সাংবাদিকদের সৎ, আদর্শ ও চরিত্রবান হতে হবে। ইসলাম বস্তুনিষ্ঠ ও সৎ সাংবাদিকতার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। সমাজ তথা বিশ্ব শান্তি-শৃঙ্খলা যাতে নষ্ট না হয় বা কারো ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত না লাগে সে বিষয়গুলো মাথায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করাকেই ইসলামী সাংবাদিকতা বলে।

এ প্রসঙ্গে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক হাদিসে বলেন, আমি কি তোমাদের কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? (কথাটি তিনি তিনবার বলেন)। উত্তরে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.), বলুন।
তারপর নবীজি বলেন, আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, (কথাগুলো বলার সময় নবীজি হেলান দিয়ে বসেছিলেন। অতঃপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন) মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া (হচ্ছে কবিরা গুনাহ)।

নবীজি কথাগুলো বারবার বলছিলেন। এ সময় সাহাবারা মনে মনে বলছিলেন, হায়! যদি তিনি চুপ হতেন। (বুখারি ও মুসলিম)।

প্রায়ই দেখা যায়, কিছু সাংবাদিক মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করেন। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বা লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায়কে সমর্থন করেন। ইসলামী শরীয়ত এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছে। নিষেধ করা হয়েছে কু-প্রবৃত্তির অনুসারী হতে। ইসলাম মানব কল্যাণের লক্ষ্যে জাতির নিকট সত্য সংবাদ পৌঁছে দিতে উৎসাহ প্রদান করেছে। তাই সংবাদ সংগ্রহের সময় চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। যেনতেন লোকের নিকট থেকে সংবাদ গ্রহণ করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারীর (রহ.) ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি হাদিস সংগ্রহের জন্য অনেক পরিশ্রম করে এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছান। কিন্তু লোকটিকে ঘোড়ার সাথে প্রতারণা করতে দেখে তার থেকে হাদিস সংগ্রহ না করেই ফিরে আসেন।

পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা হুজুরাতের ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হতে হয়।

আল্লাহর রাসূল (সা.) এক হাদিসে এরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনলো তা যাচাই বাছাই ছাড়াই বর্ণনা করলো (আবু দাউদ)।

এ প্রসঙ্গে কুরআনুল কারীমে আরও এরশাদ হয়েছে, আর যে বিষয় তোমার জানা নেই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় চোখ, কান ও অন্তকরণ এদের প্রতিটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। (সূরা বনি ইসরাঈল : ৩৬)।

নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশনের ব্যাপারে কুরআন শরীফের সূরা আনআমের ১৫২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ এরশাদ করেন, আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ কর।

সংবাদ পরিবেশনায় মার্জিত ভাষা ব্যবহারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে সূরা বনী ইসরাঈলের ৫৩ নম্বর আয়াতে এরশাদ হয়েছে, আর আমার বান্দাদেরকে বলো, তারা যেন এমন কথা বলে, যা অতি সুন্দর।

অতএব, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কর্কশ, অশালীন ও মানহানিকর শব্দ প্রয়োগ করা যাবে না।

সাংবাদিকদের আল্লাহ তায়ালা কলমীশক্তি দান করেছেন। এটা অনেক বড় এক নিয়ামত ও আমানত। এর শোকরিয়া আদায় করতে হবে। মিথ্যা ও ভুয়া সংবাদ উপস্থাপন করে এই আমানতের খেয়ানত করা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইসলামী সাংবাদিকতা করার তাওফীক দান করুন।

লেখক : মো. আব্দুল মান্নান।
প্রিন্সিপাল, এক্সিলেন্ট স্কুল অ্যান্ড মাদরাসা, ফুলপুর; খতীব, দিউ বায়তুস সালাম জামে মসজিদ, ফুলপুর।




Loading...
ads




Loading...