manobkantha

মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

আদিত্য রহমান: ভোজ্যতেলের মতো ধান-চালের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে সরকারের অ্যাকশন শুরু হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ও বাবুবাজার এলাকায় অভিযানের মধ্য দিয়ে মজুদদারের খোঁজে মাঠে নেমেছেন টিমের সদস্যরা। কাউকে জরিমানা করছেন, আবার কাউকে শাসিয়ে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীই অভিযানের খবর পেয়ে ভয়ে তটস্থ হয়ে আড়ত ফেলে পালিয়েছেন। চলছে বোরো ধানের ভরা মৌসুম। এ সময়ও দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম। অভিযানের খবর পেয়ে চাল ব্যবসায়ীদের অনেকে দোকান খোলা রেখেই পালিয়ে গেছেন। মূল্য তালিকায় অসঙ্গতি থাকায় জরিমানা করা হয়েছে দুই দোকানকে। এ ছাড়া বাবুবাজারের চালের বাজারেও চালানো হয়েছে অভিযান।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে ধান ও চালের মজুদ খতিয়ে দেখছে খাদ্য বিভাগ ও প্রশাসন। খাজানগরের রশিদ অ্যাগ্রো ফুডে মজুদ খতিয়ে দেখতে গতকাল বিকেলে অভিযান চালানো হয়েছে। ভোক্তা অধিদফতরের টিমের আসার খবর শুনে অনেক ব্যবসায়ী দোকান রেখেই বাইরে চলে গেছেন। অনেক অনুরোধ করা হলেও তারা দোকানে ফেরেননি। চাল ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে- চাল কিনে দোকানে আনা পর্যন্ত তাদের প্রতি কেজিতে আরো দুই টাকা খরচ পড়ে। খরচসহ মোট ক্রয়মূল্যের সঙ্গে কেজিতে এক টাকা লাভে চাল বিক্রি করেন তারা। তবে এই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। দোকানে ঝোলানো মূল্য তালিকায় তার চেয়ে বেশি দাম লেখা দেখা গেছে। মিল মালিকরা তাদের বলছেন, ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে চালের বাজারে। মিলারদের অগ্রিম টাকা দেয়া হলেও তারা চাল দিচ্ছেন না। মিল পর্যায়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর খাদ্য বিভাগ চাল প্রস্তুতকারী বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের মজুদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। বিশেষ করে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড, সালাম অটো রাইস মিল, স্বর্ণা অটো রাইস মিল, সুবর্ণা অটো রাইস মিল, ব্যাপারি অটো রাইস মিল, দেশ অ্যাগ্রোফুড, আহাদ অ্যাগ্রোসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশেষ নজরদারি করছে খাদ্য বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থা। মিল মালিকরা ধান কিনে চাল তৈরি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন। কোন মিলে কী পরিমাণ অর্ডার আছে ও কী পরিমাণ চাল তারা পাঠাচ্ছেন, কোন প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন- এবার সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও বাবুবাজারে প্রচুর চাল যাচ্ছে।

এদিকে সারাদেশে ধান ও চালের অবৈধ মজুদ খুঁজে বের করতে ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে’ মাঠে নামছে খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন তদারক সংস্থা। এরই মধ্যে অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এনএসআই, র‌্যাব ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। মূল্য তালিকায় অসঙ্গতি থাকায় ওই বাজারের এসএম রাইস এজেন্সি ও আনোয়ার ট্রেডার্স নামের দুটি দোকানকে জরিমানা করা হয়। এরপরই অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন।

এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সদস্যদের বারবার অনুরোধের পরও দোকানে আসেননি দোকানিরা। ভরা ধানের মৌসুমে মিল মালিকরা বিভিন্ন অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা রমজানের আগে শুনলাম বাজার নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে, চল্লিশটি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে। বেশি নিলেই ব্যবস্থা। তারপরও বাজার নিয়ন্ত্রণ হয়নি। সয়াবিনের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুদদারি করা হলো, কারো শাস্তি হলো না। একই অবস্থা চালের বাজারে চলছে। আমাদের প্রশ্ন হলো- চাল ব্যবসায়ীরা পালাবে কেন? কেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে না। বাজার তদারকির দায়িত্বে যে সব প্রতিষ্ঠান তাদেরইবা কাজ কি? কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না- এসব প্রশ্ন আজ স্বভাবতই দেখা দিচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ না করলে সবকিছুই জনগণের নাগালের বাইরে চলে যাবে। তাই মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে- এ প্রত্যাশা আমাদের।

লেখক: সংস্কৃতিকর্মী ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এআই