manobkantha

'হিম্বা' জনগোষ্ঠীর মহিলারা জীবনে গোসল করেন মাত্র একবার

একবার ভাবুন তো, ভরা গরমে আপনি টানা ৭ দিন গোসল করেননি। কী হতে পারে? তুলকালাম কাণ্ড। তবে এই ঘটনাটি সাঙ্ঘাতিকভাবেই ঘটছে। কোথায় ঘটছে এমন ঘটনা?

সে এক আজব জনজাতির কথা। যাঁদের গোষ্ঠীর মহিলারা সারা জীবন জল ছুঁয়ে বাঁচার অধিকার পান না। গোসল তো দূরের কথা, গায়ে জল পড়ে একবার! গোটা জীবনে, একবারই! বিয়ের দিন! এমনকি তাদের জামা-কাপড় কাচার জন্যও জল ছোঁয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু কেন এরকম অদ্ভুত নিয়ম? বা কীভাবে তারা নিজেদের পরিষ্কার রাখে?

গতকাল মঙ্গলবার ৯ অগস্ট পালিত হয়েছে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। জেনে নেওয়া যাক এঁদের জীবন-যাপন সম্পর্কে।

এই অদ্ভুত রীতি দেখা যায় আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম নামিবিয়ার কুয়াইনান প্রদেশে বসবাসকারী হিম্বা উপজাতির মহিলাদের মধ্যে। এই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা জীবনের বিশেষ দিনগুলিকে উজ্জাপনের জন্য নানান রীতি মেনে চলে। যেমন নবজাতকদের পুঁতির নেকলেস দিয়ে সজ্জিত করে রাখা হয়। তেমনই শুধুমাত্র বিবাহের দিন মহিলারা স্নান করেন এবং বাকি জীবন নানান উপায়ে নিজেকে তাজা রাখেন। মূলত মরুভূমীর জলবায়ু ও জলের অভাবের জন্যই এইপ্রকার নিয়ম তৈরী হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাঁরা স্নানের পরিবর্তে বিশেষ ভেষজ ব্যবহার করেন। এই ভেষজের ধোঁয়ায় তাঁদের শরীর সতেজ থাকে।

ভেষজটির ঘ্রাণ ভাল হওয়ার পাশাপাশি শরীরকে জীবাণুমুক্ত রাখে। এছাড়াও এখানকার মহিলারা তাঁদের শরীরকে সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করতে প্রাণিজ চর্বি এবং হেমাটাইটের দ্রবণ দিয়ে তৈরি একপ্রকার বিশেষ লোশন ব্যবহার করেন।এই কারণেই এঁদের ত্বক লাল হয়ে যায়।

এই হিম্বা জনগোষ্ঠী মূলত কৃষক। তাঁরা বিভিন্ন প্রজাতির গবাদি পশু বিশেষ করে ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি লালন-পালন করে থাকেন। মহিলারা মূলত বাড়ির কাজ করে থাকেন। জ্বালানির কাঠ সংগ্রহ, পানীয় জলের সন্ধান, রান্না করে খাবার পরিবেশন এইসকল কাজের পাশাপাশি দক্ষতার সাথে নানান হস্তশিল্পের কাজও করে থাকেন। এরা ধর্মীয় হওয়ার পাশাপাশি সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখার বিষয়ে বেশ কঠোর হয়। তাই তাঁরা নির্জনে বসবাস করে। এই সম্প্রদায়ের পুরুষরা বহুগামী হতে পারে এবং মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়। আরও নানা অদ্ভুত রীতিনীতি মেনেই এই হিম্বা উপজাতি নিজেরদের মতো করে দিব্যি আছে। 

 

মানবকণ্ঠ/পিবি