manobkantha

চৌমুহনী বাজারে অভিযান দেখে পালালো ফুটপাতের দোকানি

চট্টগ্রামের আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী বাজারের চিরচেনা ফুটপাতের চেহারা বদলে গেছে। থেমেছে হকারদের দৌরাত্ম্য। চলাচলের পথে নেই ভাসমান দোকানপাট। হকার উচ্ছেদের কারণে সুন্দর পরিবেশ ফিরেছে রাস্তাঘাটে। স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাতায়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না কেউ। এমন অবস্থা ফিরেছে চাতরীর চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেলের প্রচেষ্টায়।

ফুটপাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পেরে বেশ খুশি এলাকাবাসীও। চাতরীর কর্তৃপক্ষের কাছে ফুটপাত যেন বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায়। উপজেলা প্রশাসন একের পর এক উচ্ছেদ অভিযানেও কোনো পরিবর্তন আসছিল না। উচ্ছেদ করতে গিয়ে হকার ও লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজদের কবলে ফের দখলের আক্রান্ত হয়েছে সড়ক ফুটপাতও। বেসামাল দখলদারদের লাগাম টেনে ধরতে চাতরীর চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠক, মতবিনিময়সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট না হকার ও অবৈধদখলদারা। তারা ফুটপাত দখল শেষে রাস্তাও দখল করতে থাকেন। পরে বেসামাল হকারদের ফুটপাত ছাড়াতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় চেয়ারম্যান।

গত বুধবার (৮ জুন) দুপুরে চাতরী চৌমুহনী বাজারের এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানে নামেন চাতরীর চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। এসময় চেয়ারম্যান অবৈধ হকারদের মাইকিং করে কঠোর হুশিয়ারি দেন। যারা পুণরায় বসবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (২৭ জুন) পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেয়া হয়নি রোববার ছিল ফুটপাতে উচ্ছেদের ১৯ দিন। এই ১৯ দিন ফুটপাতে বসতেই দেয়া হয়নি কোনো দোকান। উচ্ছেদকালে পুরো এলাকা ফাঁকা করে দেয়া হয়েছে। এ এলাকা এখন ফুটপাত মুক্ত। চেয়ারম্যানের অনড় সিদ্ধান্তে বদলে গেছে চাতরী চৌমুহনী বাজারের চিত্র।

সোমবার (২৭ জুন) বিকালে পরিদর্শনে যান চাতরী চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল। চেয়ারম্যানকে দেখতেই ফুটপাত দখল করে বসা এক কাঁঠাল ব্যবসায়ী পালিয়ে যান। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এক ফল ব্যবসায়ীকে ৫০০ টাকা জরিমানা ও ফুটপাতে বসা কাঁঠালগুলো জব্দ করেন।

এর আগেও অভিযান শেষ হতে না হতেই ফুটপাত আবার হকারদের দখলে চলে যেত। বছরের পর বছর ধরেই এভাবে চলে আসছে। এ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে দৃঢ় উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু চেয়ারম্যানের এ উদ্যোগ কতো দিন থাকবে তা নিয়ে চিন্তিত এলাকাবাসী।

চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের পথ জনগণকেই ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণের সম্পদ কারও দখল করার অধিকার নেই। যতদিন আছি ততদিন আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হকার হোক আর যেই হোক সড়কপথ দখল করা যাবে না। আমাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ফুটপাতে বসে ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে এক দোকানী জরিমানা করেছেন ইউএনও মহোদয় এবং ফুটপাতে বসা এক কাঁঠাল ব্যবসায়ী অভিযান দেখে পালিয়েছেন। পরে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে জব্দ করা কাঁঠালগুলো ইউনিয়নের বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের উদ্যোগে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এক দোকানীকে ৫০০ টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়েছে এবং ফুটপাতে রাখা কাঁঠালগুলো জব্দ করে এতিমখানায় পাঠানো হয়েছে। 

 

মানবকন্ঠ/পিবি