manobkantha

ত্রাণ সরবরাহে হস্তক্ষেপ, অর্থ পাঠাতে তালেবানের বাধা: জাতিসংঘ

জাতিসংঘ

আফগানিস্তানের জন্য মানবিক অর্থ সহায়তা পেতে জাতিসংঘের প্রচেষ্টায় তালেবান বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বৈশ্বিক সংস্থাটির ত্রাণ বিষয়ক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস।

দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবানরা আফগানিস্তানে ত্রাণ সরবরাহেও হস্তক্ষেপ করছে, বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে তিনি এসব অভিযোগ করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দুই দশকের যুদ্ধের পর গত বছরের অগাস্টে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আফগানিস্তান ছাড়ার মধ্যে তালেবান দেশটির ক্ষমতা নেয়। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বেশ সতর্ক হওয়ায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলোসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে।

“ঝুঁকি এড়াতে নেওয়া অত্যধিক পদক্ষেপের কারণে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা আফগানিস্তানে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বাধা দিয়েই যাচ্ছে, যা পেমেন্ট চ্যানেলে প্রভাব ফেলছে এবং সরবরাহ চেইনে ভাঙ্গন সৃষ্টি করছে,” ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন গ্রিফিথস।

এ পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে অর্থ পৌঁছাতে জাতিসংঘ হিউম্যানিটারিয়ান এক্সচেঞ্জ ফ্যাসিলিটি (এইচইপি) নামে একটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করে যাচ্ছে, এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তালেবান নেতৃত্বকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তানে ত্রাণ ও অর্থনৈতিক সংকটের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা বৈশ্বিক সংস্থাটির।

“এক্ষেত্রেও খুব সামান্যই অগ্রগতি দেখছি আমরা, কারণ ‘ডি-ফ্যাক্টে’ কর্তৃপক্ষের বাধা। নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যাবে, এমন ইস্যুও নয় এটি,” বলেছেন গ্রিফিথস।

যতদিন আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা আফগানিস্তানে ফের সঠিকভাবে কাজ করতে না পারছে জাতিসংঘ ততদিন এইচইপি চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখছে, বলেছেন তিনি।

জাতিসংঘের এক জরিপে ত্রাণ সহায়তাকারী গোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তানে অর্থ পাঠাতে জটিলতার কথা বলেছে, অক্টোবরে এ সংখ্যা ছিল ৮৭ শতাংশ।

“গতিমুখ ইতিবাচক, কিন্তু এখনও যে সংখ্যা, তা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো,” বলেছেন তিনি।

জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা জানান, দুই-তৃতীয়াংশ ত্রাণ সহায়তাকারী গোষ্ঠীই আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে নগদ অর্থের সংকটের কথা বলেছেন।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করলেও তালেবান কর্তৃপক্ষ দেশটিতে মানবিক ত্রাণ সরবরাহে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ গ্রিফিথসের।

“জাতীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলো ক্রমাগত কারা উপকারভোগী হবে তা বাছাইয়ে এবং তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা লোকজনকে সাহায্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চাইছে,” বলেছেন তিনি।

“বাজেট ও কর্মীদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তথ্যের ক্ষেত্রে তালেবানের চাহিদাও বাড়তে দেখছি আমরা,” সুনির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রমে আফগান নারীদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রাণ সহায়তাকারী গোষ্ঠীগুলোকে জটিলতা পোহাতে হচ্ছে বলেও জানান গ্রিফিথস।

তার এসব মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।

আফগানিস্তানে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় ২০২২ সালের জন্য যে ৪৪০ কোটি ডলার দরকার, জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পেয়েছে বলেও গ্রিফিথস জানিয়েছেন।

“আমাদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থও নেই,” বলেছেন তিনি।

গ্রিফিথস এসব বলেছেন আফগানিস্তান নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের ত্রৈমাসিক বৈঠকে; এবারের বৈঠকটি হয়েছে দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অন্তত এক হাজার লোকের প্রাণে কেড়ে নেওয়া ভয়াবহ এক ভূমিকম্পের পরদিন।

দেখুন: