manobkantha
সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৫০

ব্যবসায়ী-ছাত্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৫০

শাহীন করিম ও মোতাহার হোসেন: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় তুমুল সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা। গত সোমবার মধ্যরাত ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। চলে রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত।  এরপর গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টা থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে সকালে আবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে নিউ মার্কেটের দোকান কর্মচারী এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। চলে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত। থেমে থেমে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে, রাবার বুলেট ছুঁড়ে ও লাঠিপেঠা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় পুলিশ।

সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পুরো সময়জুড়ে সক্রিয় ছিল হেলমেট বাহিনী। ভয়াবহ এ সংঘর্ষে সাংবাদিক, ছাত্র ও দোকানকর্মীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। দিনভর চলা এই সংঘর্ষে নীলক্ষেত থেকে আসাদগেটমুখী সড়কে রাত আটটা পর্যন্ত কোনো যানবাহন চলেনি। ফলে ধানমণ্ডি কলাবাগান ও সায়েন্সল্যাবসহ আশপাশের সব সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট। এর প্রভাব পড়ে রাজধানীর সব সড়কেই। ভোগান্তিতে পড়েন ওই পথে চলাচল করা বহু মানুষ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাদের দুর্ভোগ আরো চরমে পৌঁছায়। অনেকেই গণপরিবহন ছেড়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।

ভয়াবহ ওই সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, সোমবার সন্ধ্যার পর নিউ মার্কেটে তর্কাতর্কির জেরে দোকানকর্মীদের মারধরের শিকার হন তিন ছাত্র। সেখান থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। আর ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দুই-তিনজন ছাত্র খাবার খেয়ে টাকা না দেয়া বা কম দেয়ার প্রতিবাদ জানালে তাদের হাতে দোকানকর্মী লাঞ্ছিত হওয়া থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে মানবকণ্ঠের অনুসন্ধান বলছে ভিন্নকথা।

ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের চাঁদাবাজি বা খাবারের দোকানে কম মূল্য পরিশোধ নয়, বরং নিউ মার্কেটের দুটি ফাস্টফুডের দোকানের কর্মচারীদের নিজেদের বিবাদ থেকে সংঘাতের শুরু। এ বিবাদে একপক্ষকে শায়েস্তা করতে অন্যপক্ষ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনে। পরবর্তীতে এটিই ব্যবসায়ী বনাম শিক্ষার্থী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সূত্র বলছে, নিউমার্কেটের-৪ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতেই ‘ওয়েলকাম’ নামের ফাস্টফুডের দোকান। সামনেই ‘ক্যাপিটাল’ নামের আরেকটি ফাস্টফুড দোকান। দুটি দোকানের মালিক আপন চাচাত ভাই। ইফতারের সময় নিউমার্কেটের ভিতরে হাঁটার রাস্তায় টেবিল পেতে বসে ইফতারের ব্যবস্থা করে ফাস্টফুডের দোকানগুলো।

সোমবার সন্ধ্যায় এই টেবিল পাতা নিয়ে দু’পক্ষের বাক-বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত ওয়েলকাম ফাস্টফুডের কর্মচারী বাপ্পী ও ক্যাপিটালের কর্মচারী কাওসারের মধ্যে। এক পর্যায়ে কাওসারকে দেখে নেবার হুমকি দিয়ে বাপ্পী ওই জায়গা থেকে চলে যায়। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাপ্পীর সমর্থক ১০-১২ জন যুবক দেশীয় অস্ত্রসহ যায় নিউমার্কেটে। সেখানে কাওসার সমর্থকরা বাপ্পীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে মার্কেট থেকে বের করে দেয়। বাপ্পী সমর্থকরা মার্কেট থেকে পালিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি দলকে নিয়ে মার্কেটে গেলে শুরু হয় সংঘর্ষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা মতে ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার মধ্যরাতে তিন ঘণ্টার সংঘাতের পর থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল সকালে আবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে নিউ মার্কেটের দোকান কর্মচারী এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা রাতের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানববন্ধন করতে রাস্তায় জড়ো হয়।

এ সময় ব্যবসায়ীরাও বেরিয়ে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়। কলেজের সামনের সড়কে লাঠি, রড হাতে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের ঢিল ছুড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে নিউ মার্কেট ওভার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে থাকা দোকান কর্মচারীরা পাল্টা জবাব দেয়। নিউ মার্কেট থানার পরিদর্শক অপারেশনস হালদার অজিত ঠাকুর বলেন, নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকার সকল দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান করছে। দোকান কর্মচারীরাও বিচ্ছিন্নভাবে আছে।

সকাল থেকে হাজার হাজার দোকান কর্মচারীকে লাঠি আর ইট নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। আর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ ফটকের সামনে এবং হলের ছাদে অবস্থান নেয়। রাস্তায় অনেকের হাতে লাঠি আর মাথায় হেলমেট দেখা গেছে। ঢিল-বৃষ্টির মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ। কয়েকটি বিস্ফোরণেরও আওয়াজও পাওয়া গেছে। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমন জানান, দুপুরে দুই পক্ষ ফের আবারো মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে জড়ালে আমরা পরিস্থিস্তি সামাল দেয়ার চেষ্টা করি।

আগের রাতের সংঘর্ষের পর থেকেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। সকালে সংঘর্ষ শুরুর পর রাস্তায় কাঠসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র জড়ো করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। এই সংঘর্ষের কারণে সায়েন্স ল্যাব থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত অন্তত ৭৫টি বিপণি বিতান বন্ধ রয়েছে বলে দোকান মালিকরা জানিয়েছেন। ঈদের এই ভরা মৌসুমে সংঘর্ষ আর দোকানপাট বন্ধ থাকায় উদ্বেগ রয়েছে তাদের মধ্যে।

নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, সবপক্ষকে শান্ত করে রাত ৪টার দিকে আমরা বাসায় ফিরেছিলাম। আমরা ছাত্রনেতাদের কথা দিয়েছিলাম যে ব্যবসায়ীরা আর সংঘর্ষে জড়াবে না। কিন্তু সকালে ছাত্ররা আবার সড়ক অবরোধ করে। ফলে পাশে চাঁদনীচক, গাউছিয়া ও অন্যান্য মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আবার একত্রিত হয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সেই সংঘর্ষ প্রায় শেষ বিকাল পর্যন্ত চলতে থাকে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

সাখাওয়াত হোসেন নামে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, চতুর্থ বর্ষ আর মাস্টার্সের তিনজন শিক্ষার্থী রাতে খেতে যায়। দাম যা আসছে তার চেয়ে একটু কম দিতে চেয়েছিল তারা। এ সময় ঝগড়ার এক পর্যায়ে দোকানে থাকা ধারালো ছুরি নিয়ে শিক্ষার্থীদের গুরুতর জখম করে দোকানিরা। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা গিয়ে ভাঙচুর চালায়। এরপর ব্যবসায়ী ও পুলিশ ধাওয়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে দেয়। এরপর রাতে কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে।

সক্রিয় ছিল ‘হেলমেট’ বাহিনী: দিনভর নিউমার্কেট এলাকায় চলা সংঘর্ষের সময় সক্রিয় দেখা গেছে হেলমেট পরা কয়েকজন তরুণকে। তাদের হাতে ছিল লাঠি, রড আর রাম দা’র মতো দেশীয় অস্ত্র। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের দেখা না গেলেও পুরোটা সময় সঙ্গে ছিল ‘হেলমেট’ বাহিনী। চেষ্টা করেও তাদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা। প্রশ্ন উঠেছে, এই ‘হেলমেট’ বাহিনীর সদস্য কারা, কি তাদের পরিচয়। তাদের একজন দাবি করেছেন, নিজেদের আত্মরক্ষায় তারা হেলমেট পরেছে। তবে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তারা।

সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৫০, অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর: রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দোকানিদের সঙ্গে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে সাংবাদিক, ছাত্র ও দোকানকর্মীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। দোকানকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। ঢাকা কলেজ প্রান্তে একদল সাংবাদিক এবং নিউ মার্কেট প্রান্তে আরেকদল সাংবাদিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর সংগ্রহ করছিলেন। বিভিন্ন টেলিভিশন সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচারও করছিল। সে সময় দোকান কর্মচারীদের একটি দল কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়। প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে কিল-ঘুষি মারা শুরু হয়। পরে অন্য ব্যবসায়ীরা এসে আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন।

একাত্তর টিভির মহিম মিজান ও তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাপারসনকে কিলঘুষি মেরেছে তারা। দীপ্ত টিভির আসিফ সুমিতকে নাজেহাল করে দোকানকর্মীরা। এসএ টিভির সাংবাদিক তুহিন ও ক্যামেরাপার্সন কবিরসহ একটি টিমের ওপরও হামলা করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইলে ও ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচারকারী বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদেরকেও মারধর করে তাড়িয়ে দেয় দোকানিরা। নিউ মার্কেট ফুটব্রিজের ওপর থেকে ছবি তোলার সময় ঢিলের আঘাতে আহত হন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আলোকচিত্রী মাহমুদ জামান অভি।

আহত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা হলেন- রাহাত হোসেন (২২) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জসিম (২৩), তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আলী হোসেন (২২), অ্যাকাউন্টিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাদমামতাজ আপন (২৩), তৃতীয় বর্ষের ছাত্র কানন (২৫)। অন্যদিকে আহত বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীরা হলেন-সাজ্জাদ (২৫), সেলিম (৪২), রাজু (১৬), কাওছার আহমেদ (১৮), আপেল (১৬), সাগর (১৮), রাসেল (১৫), রাহাত (১৯), আরাফাত জামান (১৮), রুবেল (২৫), নাজমুল (২০), রায়হান (১৭), আরিয়ান (১৮), রাসেল (২৬), হƒদয়সহ (১৮) আরো অনেকে।

সকাল থেকে দফায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চললেও পুলিশের উপস্থিতি তেমন ছিল না। বেলা ১টার আগে আগে সাঁজোয়া যান ও জলকামান নিয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়, টিয়ারশেল ছুঁড়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা চলে। পুলিশের তৎপর হতে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে রমনা বিভাগের পুলিশের উপ কমিশনার মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বসে ছিল। হঠাৎ করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ তখন ব্যবসায়ী নেতা ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানের উপায় বের করার চেষ্টা করে। সে কারণে এই সময়টা লেগেছে।

নিউমার্কেট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ: ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে গতকাল বিকালে নিউমার্কেট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন অপারেটরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। অপারেটর সূত্র জানায়, বিকাল সোয়া চারটার পর থেকে ওই এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর এ সেবা বন্ধ হল। সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেয়া হল। এদিকে ঢাকা কলেজ আগামী ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ছাড়তে বলা হয়েছে।

দোকানিদের সংঘাতে যেভাবে জড়াল ছাত্ররা: জানা যায়, ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের চাঁদাবাজি বা খাবারের দোকানে কম মূল্য পরিশোধ নয়, বরং নিউ মার্কেটের দুটি ফাস্টফুডের দোকানের কর্মচারীদের নিজেদের বিবাদ থেকে সংঘাতের শুরু। এ বিবাদে একপক্ষকে শায়েস্তা করতে অন্যপক্ষ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনে। পরবর্তীতে এটিই ব্যবসায়ী বনাম শিক্ষার্থী সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিউমার্কেটের-৪ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতেই ‘ওয়েলকাম’ নামের ফাস্টফুডের দোকান। সামনেই ‘ক্যাপিটাল’ নামের আরেকটি ফাস্টফুড দোকান। দুটি দোকানের মালিক আপন চাচাত ভাই। ইফতারের সময় নিউমার্কেটের ভিতরে হাঁটার রাস্তায় টেবিল পেতে বসে ইফতারের ব্যবস্থা করে ফাস্টফুডের দোকানগুলো।

সোমবার সন্ধ্যায় এই টেবিল পাতা নিয়ে দু পক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মূলত এ বিরোধের সূত্রপাত ওয়েলকাম ফাস্টফুডের কর্মচারী বাপ্পী ও ক্যাপিটালের কর্মচারী কাওসারের মধ্যে। বিতণ্ডার এক পর্যায়ে কাওসারকে দেখে নেবার হুমকি দিয়ে বাপ্পী ওই জায়গা থেকে চলে যায়। এরপর রাত ১১টার দিকে বাপ্পীর সমর্থক ১০-১২ জন যুবক আসে নিউমার্কেটে। এ সময় তারা হাতে রাম দা নিয়ে আসে। তারা ক্যাপিটাল দোকানটিতে গিয়ে কাওসারের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ায়। সেখানে কাওসার সমর্থকরা বাপ্পীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে মার্কেট থেকে বের করে দেয়। বাপ্পী সমর্থকরা মার্কেট থেকে পালিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি দলকে নিয়ে এসে মার্কেটে হামলা চালায়।

ওয়েলকাম ফাস্টফুডের মালিক মো. রফিক স্বীকার করে বলেন, কাওসার টেবিল রেডি করার সময় বাপ্পীকে মেরেছিল। এরপর আমি বাপ্পীকে বলেছিলাম আমরা বিষয়টা মীমাংসা করে দিব। কিন্তু এর মধ্যে রাতে বাপ্পী তার পরিচিত ঢাকা কলেজের বন্ধুদের বিষয়টা জানালে ঢাকা কলেজের কয়েজন এসে কাওসারকে জিজ্ঞেস করে, কেন তারা বাপ্পীকে মেরেছে। তখন কাওসার আর তার সঙ্গের ছেলেরা কলেজের ছেলেদের ওপর দোকানের ছুরি-চাপাতি নিয়ে হামলা করে। কলেজের ছাত্রদের গায়ে হাত তোলায় পরে ছাত্ররা সব দলবেঁধে আসে। আমি বাপ্পীকে মানা করেছিলাম এসব করতে, কিন্তু বাপ্পী শোনেনি।

নিউ মার্কেটে সংঘর্ষের জেরে রাজধানীতে তীব্র যানজট: এদিকে ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে টানা সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে, গরমের মধ্যে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। গতকাল দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলিফেন্ট রোড, বাংলা মোটর, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নীলক্ষেত, আজিমপুর, মীরপুর রোডসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটে থেমে থেমে যানবাহন চলতে দেখা যায়। তীব্র গরমের মধ্যে যানজটে বাসের ভেতরেই দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় দূরের গন্তব্যের যাত্রীদের।

মানবকণ্ঠ/এআই