manobkantha
একান্ত সাক্ষাত্কারে বিএম মোজাম্মেল হক

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ২৬ লাখ মানুষকে হত্যা করবে

একান্ত সাক্ষাত্কারে বিএম মোজাম্মেল হক

মো. সাইফুল ইসলাম

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি যে একশ দিনের কর্মসূচি নিয়েছিল তার পুরোটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এবং আওয়ামী লীগ নিধন করা। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে হত্যার মহোত্সব করেছিল বিএনপি। বর্তমানে বিএনপির যে অঙ্গভঙ্গি, ভাষণ, বক্তব্য, কথাবার্তা তাতে মনে হচ্ছে এই দলটি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশে গণহত্যা শুরু হবে। ১০০ দিনের কর্মসূচির ওই সময় ২৬/২৭ হাজারের মতো মানুষ হত্যা করেছিল। এখনতো ২৬ লাখ মানুষ হত্যা করবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে তার ধানমণ্ডিস্থ বাসভবনে মানবকণ্ঠের এই প্রতিবেদক কথা বললে তিনি এসব কথা বলেন। বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জনগণ এদেরকে (বিএনপি) ভোট দিবে? অসম্ভব। বিএনপিকে মানুষ আর গ্রহণ করবে না। অন্য কোনো রূপে আসতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক জিয়াকে এদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। আবহমান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে তা নয়। কিন্তু বিকল্প শক্তি থাকবে, গণতান্ত্রিক শক্তি থাকবে। তারা আসবে।’

বিএনপির আগামী নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ২০১৩-১৪ সালের মতো অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপির যে অপকর্ম, সারা দেশে জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাতে বিএনপি জনগণ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। বিএনপির আজকের করুণ পরিণতি এ কারণে। কয়টা বোমা মেরে, গুলি করে, আগুন দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। হাজার হাজার নির্বাচনি কেন্দ্রের মধ্যে দুই/একটায় বোমা মেরে নির্বাচন প্রতিহত করা যায় না। বিএনপি নির্বাচনে আসবে, যদি না আসে তাহলে বিএনপির নামটি জনগণের মন থেকে মুছে যাবে।’

বিএনপি নির্বাচনে আসলে আওয়ামী লীগের জন্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হবে কী না— বিষয়ে বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রতিপক্ষ সব সময় শক্তিশালী। আমি যখন খেলতে নামব তখন প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষ সব সময় প্রতিদ্বন্দ্বী জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপিকে পরাজিত করাই হলো আমাদের কাজ। যত রকম শক্ত নির্বাচনই হউক, শক্ত শুধু আমাদের জন্য একা নয়, বিএনপির জন্যও শক্ত। বিএনপির পজেটিভ কোনো কাজ আছে? বিএনপির আন্দোলনটা কী জন্য? বিএনপি এই পর্যন্ত খালেদার চিকিত্সা, খালেদার মুক্তি ছাড়া গণমানুষের জন্য কী করেছে? কী কর্মসূচি নিয়েছে। বিরোধী দলে তো আমরা দীর্ঘদিন ছিলাম। বন্যা, দুর্ভোগসহ সব জায়গা সরকারের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়াত।’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে এদেশে নির্বাচন হলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না? বিএনপি এদেশের সকল কিছুর মালিকানা নিয়ে নিয়েছে? মালিকানা নেয়নি। বিচিত্র দেশ, বিচিত্র মানুষ। আমাদের দেশের কিছু সুশীল সমাজের বিএনপির ধারার প্রতিনিধিরা বলল যে, সাত দিন লাগে না এই আইন করতে। আবার সেই ব্যক্তিই বলছেন যখন সরকার পদক্ষেপ নিল আইনে — এতো তাড়াহুড়া করে এই আইন করা সঠিক হবে না। তারা আসলে কি চায়? এরা তো জানে জনগণের ম্যান্ডেট পাবে না। এরা চায় দেশের একটা অচল অবস্থা সৃষ্টি হউক। এরা বিদেশি শক্তির ধারায় ক্ষমতা আসতে চায়।’

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের ব্যাপারে এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আছে তাদেরকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা। সেই কাজটি আমরা সব জায়গায় করেছি। কখন? কোন পরিস্থিতিতে কতটুকু অপরাধ করেছে তা আমরা পর্যবেক্ষণ করব। তারপরে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। যেসব এমপি দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের বিষয়ে দলের সভাপতি বলেছেন, তাদেরকে সামনে মনোনয়ন দেয়া হবে না। দলের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে আমি কিন্তু বলেছি, কোন এমপি কী কাজ করেছেন, কী ভাবে বিরোধিতা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমপিরা দেখা করতে আসলে কে কী করেছে তা বলে দিচ্ছেন। অনেককে দেখা করার সুযোগও দেন না। এটা কিন্তু চূড়ান্ত শাস্তির ধারাবাহিকতা।’

বিএম মোজাম্মেল হক আরো বলেন, ‘আমরা ধরে নিচ্ছি বিএনপি নির্বাচনে আসবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখেই আমাদের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের নেতাকর্মীদের আমি বলেছি আগামীতে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে সমস্ত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার জন্য নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে। নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে পারলে কেউ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামলে আবার সরকার গঠন করবে।’