manobkantha

পাঠ্যপুস্তকে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

পাঠ্যপুস্তকে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্যের কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মাদক বিষয়ক এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান। “মাদকের ভয়াবহতা রোধে করণীয়” শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করে মাদকবিরোধী সংগঠন ‘এন্টি ড্রাগ সোসাইটি’।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা দরকার ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এক ব্যক্তির গুণকীর্তন নিয়ে পাঠ্যপুস্তক ভরপুর। আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত করতে হলে যুব সমাজ ও আগামী প্রজন্মকে মাদক মুক্ত রাখতে গেলে বা মাদকের আসক্ত থেকে মুক্ত রাখতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে মাদকের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় মাদক হচ্ছে সিগারেট। পথে-ঘাটে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে। সরকার রাজস্ব আদায়কে পুঁজি করে সিগারেটের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। সিগারেটের নেশা মাদকের জন্ম দেয়।’

তিনি বলেন, গাঁজা আমাদের দেশে উৎপাদন হয়, হাপানী কন্ট্রোল করতে অনেক সময় ডাক্তাররা আংশিক গাঁজা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোগ নিরাময়ে মাদকের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি হয় না। আমাদের দেশে সরকার মাদককে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলে নিয়ন্ত্রণের নামে প্রশাসনের লোকজন মাদক বিক্রি করে থাকে।’

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এ সংগঠক বলেন, ‘ডিসি সম্মেলনে ডিসিরা ২৬৬টি প্রস্তাবনা দিয়েছে। কিন্তু সরকার কাউকে জিজ্ঞেস করে না আপনারা কয়জন সিগারেট খান। দেশ সিগারেট মুক্ত বা মাদক মুক্ত করতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পথে-ঘাটে সিগারেট খাওয়া বন্ধ করা ছাড়া মাদকের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’

এন্টি ড্রাগ সোসাইটির সভাপতি আশ্রাফুর রহমান ফারুকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশনের মহাসচিব ড. ফরিদ উদ্দিন ফরিদ ও জাতীয় তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফজলুল হক। এতে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদক বদরুল আলম নাবিল, ফোবানা নর্থ আমেরিকার ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম,

ডিইউজের সহ-সভাপতি বাছির জামাল, বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির মহাসচিব ডাক্তার আবু ইউসুফ বাদল, বাংলাদেশ রোগী কল্যাণ সোসাইটির মহাসচিব ডাক্তার আবুল কাওসার, গণস্বাস্থ্যের প্রেস এডভাইজার জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সভাপতি কালাম ফয়েজী, ডিইউজের সদস্য মাহমুদুল হাসান বিপ্লব, একেএম ওয়াজেদ আলী, প্রদীপ কুমার পাল, শেখ মো. তাজুল ইসলাম, মতিউর রহমান, এম আই ফারুক প্রমুখ।