manobkantha

ফাইভ জি’তে মোড়ানো সোনার বাংলা; কিছু অপ্রিয় কথা

জুয়েল সাদাত

নানা জটিলতায় লেখা হচ্ছে না। বেশ কয়েকটি বিষয় অনেকেই নোটিশ করেছেন। অনেকেই লাইভে আসতে বলেছেন; বিরক্তি আসতে পারে তাই লাইভে গেলাম না। প্রথমে একটি সুখবর দিয়ে শুরু করি। কলেজ জীবনের বন্ধু পলাশের ফোন নিউইয়র্ক থেকে। সময় করে কল ব্যাক দিলাম। সুনামগঞ্জের মতো করে বলল,  কিতা বা আমারা তো ভোটার। আর কোন ব্যবধান নেই বন্ধু, তুমার সাথে।

আমি আমেরিকায় ২০ টি বছর, ২০০৬ সালে সিটিজেন হয়ে ভোটার হয়েছিলাম। পলাশ মাল্টিপল ভিসায় এসে নিউইয়র্কে গত ৪ বছরে সব আইডি পেয়ে গেছে। পরিশ্রমী পলাশ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নতুন গাড়ি চালায়। পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম কেসে পেন্ডামিকের সব টাকা পয়সা পেয়ে আমার সাথে হিসাব মেলাত। মাঝে মাঝে বড়ো অংকের চেক দিয়ে আসে আমেরিকান লয়ারকে। ভাল জব করে, হোল সেল বিজনেসে কাজ করে, শহর নগর বন্দর ঘুরে। নিউইয়র্কের গ্রিনকার্ড ধারীরা ভোটার। আমেরিকার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

নিউইয়র্ক কাগজপত্রহীনদের স্বর্গরাজ্য। সেখানে যেকোনোভাবেই থাকা যায়। নানা সমস্যায় করোনা পরবর্তিতে নাগরিকরা নিউইয়র্ক ছাড়ছেন। নাগরিকদের আটকানোর জন্য এই চমকিত উদ্যেগ। আমেরিকার একেক স্টেটে একেক রকম আইন। তবে গ্রিনকার্ডধারী ও যারা গ্রীনকার্ড পাবেন তাদের ভোটারের স্বীকৃতি নজিরবিহীন। যদিও সঠিক বোঝা যাচ্ছে না, এই গ্রীনকার্ডের ভোটাররা রাষ্ট্র্রপতি বা সিনেটে ভোট দিতে পারবেন কিনা। না শুধু ষ্টেটের ভোটাধিকার পাচ্ছেন তারা৷

(২) আমেরিকা ভাল নেই। সারা পৃথিবীর সেরা দেশটা একটার পর একটা বিপর্যয়ে জর্জরিত। বর্তমানে আমেরিকার ছয়টি বড় শহর টর্নেডোতে ধুলিস্যাৎ। একটি বড়ো রকমের মহামারির দিকে চলে যাচ্ছে। গত ১০ ডিসেম্বরে, ২০২১ এ টর্নেডোর ভয়াবহ আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েষ্টের বেশ কয়েকটি স্টেট একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিশেষ করে কেন্টাকির অবস্থা খুবই খারাপ। ধারাবাহিকভাবে একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি টর্নেডো আরকানসাস, মিসৌরী, টেনাসী এবং কেন্টাকি স্টেটের উপর আঘাত হানে।

১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম এতো ভয়াবহ টর্নেডো আঘাত হেনেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্যমতে এ পর্যন্ত ৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে কেন্টাকি স্টেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জাপানের নাগাসাকির মতো শহরে পরিণত হয়েছে কেন্টাকিসহ আশপাশের শহর। সারা আমেরিকার কাজের জন্য লোক নাই।। আগে ছিল বেকারত্বের হার, এখন তা উল্টো। আমরা বিশ বছরের প্রবাস জীবনে কাজের লোকের এমন হাহাকার দেখি নাই। পাশাপাশি  ইকোনমি ভাল। তবে সরকার নাগরিকদের এমন পর্যায়ে বেকার ভাতা দিযেছে যে, কেউ কাজে আগ্রহী না। আমাদের প্রাণের দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও আমাদের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট বাইডেন মারাত্বক অজনপ্রিয় ১১ মাসে। আমাদের এই অকেজো সরকারের প্রতি আস্থা নাই।

আমেরিকাকে চীন কিনে নিতে পারে,  এরকম আলোচনা আমরা করি সব আড্ডায়। রিয়েল এস্টেট আকাশচুম্বী, বাড়ি রেন্ট বেড়েছে ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ। অর্থনীতি কোনো নিয়মে বাঁধা  নাই। এফরডেবল ইন্সুরেন্সের নামে (ওবামা কেয়ার) সহজ করে, সরকার বিনা কারনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ভুতুর্কি দিচ্ছে। কোনো সমন্বয় নাই। সবার হাতে টাকা, গ্যাসের দাম বাড়ছে। রিযেল স্টেট ২০/৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বাইডেন প্রশাসন কি করছে কেউ জানে না। ভ্যাকসিনও ৭০ শতাংশে নেয়া হয়নি৷ ট্রাভেল ব্যান্ড করা হয়েছে ওমিক্রনের জন্য আফ্রিকার দেশগুলো। শ্রমিক সংকটে আমেরিকা। এই সংকট কাটবে না সহসা। কঠিন সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে আমেরিকা৷

(৩) পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব ও এর কর্মকর্তাদের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিকে বাংলাদেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘চাপ সৃষ্টি'র কৌশল হিসেবে দেখছেন একজন বাংলাদেশী-আমেরিকান বিশ্লেষক। ১২ ডিসেম্বর রোববার বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের স্কুল অফ সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্লোবাল স্টাডিজের অধ্যাপক সায়ীদ ইফতেখার আহমেদ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলের পেছনে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক, কোয়াড নামের এক মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে বাংলাদেশের যোগ না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণ হয়েছে।

এদিকে র‌্যাব ও এর সাতজন কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে অনেকেই সেই প্রশ্ন তুলছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের বক্তব্য, সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কি না, সেটা ‘ডিপেন্ডস অন ইউএসএ’ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর করে।

কিন্তু ইফতেখার আহমেদ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এরই মধ্যে দুদেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি যদি আগামীতে চীন ও রাশিয়ার দিকে আরও ঝুঁকে পড়ে তাহলে ভবিষ্যতে আরও কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ইফতেখার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির কার্যক্রমের উপর।’

বাংলাদেশের কোনো নিরাপত্তা বাহিনী ও তার কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা এটাই প্রথম।

এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির রাষ্ট্রদূত মিলারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞাকে শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ‘লোক দেখানো অপচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গী কারণে এমন হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলের একটি বড় কারণ হতে পারে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক।

এছাড়া বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন ইফতেখার আহমেদ। কিন্তু তা হঠাৎ করে ঘটেনি বলেই তার অভিমত।

তাছাড়া ওবামা প্রশাসনের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে এক ধরনের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। (বিবিসি বাংলা)

সবাইকে বলতে চাই এই ধরনের বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে, আমেরিকার ভেতরে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়ে থাকে। আমেরিকা এক সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘ডেনজারাস পারসন’ বলেছিল। সেই নরেন্দ্র মোদীকে আবার লাল গালিচা দিচ্ছে। এই ধরনের বিধিনিষেধ কোনো অর্থ বহন করে না। কোনো লবিষ্ট এই কাজটা করে বাহবা পাবার চেষ্টা করছে।

আমাদের সরকার বিরোধী অপশক্তিগুলো বিদেশে বসে এই সংবাদটাকে তাদের স্ট্রাজেটিক বিজয় মনে করছে।  একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগটাকেও অনেকে সোস্যাল মিডিয়ায় উপভোগ করছেন।

শেখ হাসিনার চেইন অব কমান্ড এত শক্ত যে, ইতোপুর্বে অনেক মন্ত্রী-এমপি ঝড়ে পড়ে গেছেন।  সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মুরাদ অনেক ভুল করেছেন। সীমার বাহিরে চলে গিয়েছিলেন। উনাকে আগেই সতর্ক করা উচিত ছিল। আল্লাহ সীমা লঙ্গনকারীকে পছন্দ করেন না। সরকারের উপর মহল থেকে আগেই সতর্ক করা উচিত ছিল।

(৪) বাংলাদেশকে বিশ্বে হেয় পতিপন্ন করার জন্য তৎপর একটি গোষ্ঠী। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তিতে বাংলাদেশের অর্জনের শেষ নেই। বাংলাদেশের জন্মের সময় বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি। আজ ২০২১ সালে বাজেট ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশের বর্তমানে ২০ শতাংশ দারিদ্র সীমার নীচে। বাংলাদেশর জন্মের সময় রফতানি ছিল ২৮ মিলিয়ন। বর্তমানে ৪০ বিলিয়ন ডলার৷ বিশ্বে গ্রামের্ন্টস রফতানিতে বাংলাদেশ চীনের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে। পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে ২০২২ সালে। পদ্মা সেতুর সুবিধা ভোগ করবে ১৬টি জেলা। জিডিপি বাড়বে ১.৫ শতাংশ।

রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হচ্ছে, ২৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে ন্যাশনাল গ্রেডে। কর্ণফুলি ট্যানেলের কাজ শেষ হতে যাচ্ছে শীঘ্রই। তার ফলে অর্খনীতি চাঙ্গা হতে যাচ্ছে। বহুল প্রত্যাশিত মেট্রোরেল চালু হচ্ছে যে কোন সময়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সফলতার পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ চালু করার পরিক্ল্পনা সরকারের হাতে। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশের বিমান বহরে আধুনিক বিমান, যা বাংলাদেশ বিমানে লাভ জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। স্বপ্নের সোনার বাংলা সোনায় মোড়ানো।

বাংলাদেশে বর্তমানে নানা সুচকে ভারত ও পাকিস্থানের চেয়ে এগিয়ে। মহিলারা স্বাবলম্বী হয়ে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করেছেন।

বিশ্বের সর্ববৃহদ রিফিউজি ক্যাম্প, রোহিঙ্গা ক্যাম্প যেখানে ১০ লাখ লোককে সরকার দেখভাল করছে। তাদেরকে ভাসানটেকে স্নানাত্বর করে সরতদকার দুরদুরর্শিতার পরিচয় দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরে অর্জনের শেষ নাই। বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বিশ্বে সমাদৃত। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ কে উদাহরন হিসাবে উপস্থাপন করে।

আমার সোনার বাংলার আমি তোমায় ভালবাসি। বাংলাদেশ এখন ৫ জি’র আওতায়, যা আমেরিকায় ও সহজলভ্য নয়৷ ফাইভ জি বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশে সহজলভ্য। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রারম্ভে দেশবাসীকে ফাইভ জি উপহার দিলেন। এই ফাইভ জি’র ফলে বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়ে গেল অনেকেই বিশ্বাস করবেন না।

সেই সোনার বাংলার সুবর্ণজয়ন্তি আজ সোনার মোড়ানো।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট (আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে)।