manobkantha

ফোনালাপ ফাঁস: ইমনকে ডিবির পর র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ

সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বিষয়ে চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‍্যাব। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমনকে র‍্যাব সদর দফতরে ডাকা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে ফোনালাপের বিষয়ে ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সেখানে তার সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন ডিবি কর্মকর্তারা। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুল বোঝাবুঝির অবসানের জন্য আইনি পরামর্শ নিতে তিনি নিজেই মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ইমন। তিনি বলেন, ‘অডিও প্রকাশের পর আমাকে সবাই ভুল বুঝছে। চলচ্চিত্রের সহকর্মীরাও আমার বিষয়টাকে ভুলভাবে ভাবছেন ও ব্যাখ্যা করছেন। অথচ সবাই কিন্তু ফোনালাপ শুনেছেন এবং বুঝতে পারছেন যে আমি কেবল পরিস্থিতিটা সামাল দিতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে এসব বিষয় নিয়ে যে ভুল বোঝাবুঝি চলছে তার অবসান হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে এই মুহূর্তে আমার করণীয় কি এ ব্যাপারে আইনি পরামর্শ নিতে গতকাল সোমবার রাতে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে যাই।’

ইমন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেকে আমার ডিবি অফিসে যাওয়াটাকেও ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন। আমাকে তলব করা হয়নি ডিবির পক্ষ থেকে। আমি নিজেই গিয়েছি আইনি পরামর্শের জন্য, বাধ্য হয়ে।’

গতকাল রাত ৮টার দিকে ইমন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ইমন।

কি কথা হয়েছে ডিবি অফিসে সে ব্যাপারে জানিয়ে ইমন বলেন, ‘মন্ত্রীর সঙ্গে কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর গতকাল সারাদিন আমাকে কথা বলতে হয়েছে এ বিষয়ে। কখনো গণমাধ্যমে, কখনো নিজের পরিচিত-কাছের মানুষদের কাছে। আমি কিন্তু চুপ করে থাকিনি। সবাইকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। তবু অনেকে মনগড়া কথা বলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার আমাকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে পোস্টও দেন। এসব আমাকে খুবই বিব্রত করেছে, কষ্ট দিয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে তিনি বিপর্যস্ত জানিয়ে বলেন, ডিবি অফিসে এসে হারুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। হারুন ভাই আমার পূর্বপরিচিত। তার সঙ্গে এর আগে নানা সময়ে আমার দেখা ও কথা হয়েছে। তিনি আমাকে এ বিষয়ে কী করণীয় সেই পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর চা খেয়ে আমি চলে আসি।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহি ও মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেই ফোনে অশ্লীল-আপত্তিকর ভাষায় মাহির সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি মাহিকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। নিজের অনৈতিক ইচ্ছার কথা জানান। এমনকি চিত্রনায়িকাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন।

এসব ঘটনায় ইতোমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ডা. মুরাদ হাসান। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় তার পক্ষে জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরে পদত্যাগপত্রটি জমা দেন।

এদিকে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ডা. মুরাদকে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ সম্পাদকের পদে ছিলেন। বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।