manobkantha

বিএনপির সাবেক ৩ নেতা নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী

সাহিদুজ্জামান সাহিদ, মানিকগঞ্জ

বিএনপির রাজনীতি থেকে হাতে খড়ি। একসময়ের দাপটে নেতা, উত্তপ্ত করেছেন রাজনীতির মাঠ। দলও সঠিক মূল্যায়ন করেছে। পেয়েছেন প্রথম সারির পদ, পদবী। দল পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থেকে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন সরকারি দল আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দলে ভেড়ার পরপরই তাদের সাধারণ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন পরিচয়ে এলাকাতে হাল ধরেছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে।

দুই বছরের মাথায় প্রার্থী হয়েছেন ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচনে। চেয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই প্রচার প্রচারণা শুরু করে। এর পরপরই দলীয়ভাবে তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য জেলার নেতৃবৃন্দরা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিটা ইউনিয়নেই রয়েছে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী। বিশেষ করে ৩টি ইউনিয়নে নব্য আ’লীগে যোগ দেওয়া কর্মীরাও হয়েছেন জোরালো বিদ্রোহী প্রার্থী। এই তিন প্রার্থীকে নিয়ে চলছে ইউনিয়ন ও জেলায় আলোচনা-সমালোচনা।

এরা হলেন, বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের এ্যাড. ফারুক আহমেদ ফিলিপ, পুটাইল ইউনিয়নের সোহেব আহাম্মেদ রাজা ও আটিগ্রামের নার্গিস আক্তার (বাচ্চা)।

বিএনপি থেকে আসা এ তিন প্রার্থীকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমেদ ফিলিপ পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই তার রাজনীতিতে ভাটা পরতে শুরু করে। পেশাদারিত্বের কাজে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হয়ে পরেন আইন পেশার সাথে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করে বনে যান বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। এর পর থেকেই নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রচারণা ছড়িয়ে দিতে থাকেন তিনি।

পুটাইল ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী সোয়েব আহমেদ রাজা’র রাজনীতির শুরুটা বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের হাত ধরে। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও জোটে না পদ পদবী। যুক্ত হন জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন যুবসংহতি দলের সদর উপজেলার সভাপতি পদে। এর পরপরই সমর্থ হন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক (সাবেক) পদে। করেন মেম্বার নির্বাচন হন বিজয়ী (২০১১-১৫)। পূর্ববর্তী নির্বাচন ২০১৬ সালে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান মনোনীত হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এর পরপরই তোরজোর শুরু করে জেলার নেতৃবৃন্দদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে বনে যান আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন মানিকগঞ্জ সড়ক ও পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি।

আটিগ্রাম ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী নার্গিস আক্তার (বাচ্চা) জেলা মহিলা দলের সাবেক আহবায়ক। এরই বদৌলতে নিজ ইউনিয়ন আটিগ্রামে হয়েছেন দু’বার চেয়ারম্যান (২০০১-০৯)। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আশায় সেরকম সুবিধা করতে পারেননি তিনি। বিএনপির রাজনীতির সাথে দূরত্ব দেখিয়ে যুক্ত হন আটিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য হিসেবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) এর জেলা সম্পাদক ইকবাল হোসেন কচি বলেন, সরকারের উচিৎ ছিল স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করা। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করায় নির্বাচন আজ সংঘাতে রূপ নিয়েছে। যারা নব্য আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছে তাদের কাছ থেকে তারা অর্থ আদায় করেছে আবার যারা নৌকার টিকেট পেয়েছে তাদের কাছ থেকেও তারা অর্থ আদায় করেছে। ফলে অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থীরা নৌকার টিকেট পায়নি। ক্ষোভে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও ত্যাগী নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। এটা কোন দলের সুষ্ঠু বিচার হতে পারে না।

বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী ফারুক আহমেদ ফিলিপ বলেন, বিএনপির সাথে আমার এখন সম্পর্ক নেই। সেটি যদি থেকেও থাকে তাহলে তাদের ৮০ভাগ ভোট আমি পাব। জনগণের ভালোবাসা আছে আমার সাথে। আমি গত চার বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি। আওয়ামী লীগ-বিএনপি আমার কাছে কোন বিষয় না। জনগণের সেবা করতেই আমি নৌকা প্রতীক চেয়েছিলাম।

পুটাইল ইউনিয়নের আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী সোয়েব আহমেদ রাজা বলেন, আমি একসময় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। ২০১৫ সালে বিএপির নির্বাচিত প্রার্থী ছিলাম পুটাইল ইউনিয়নে। আমি পরাজিত হই। এরপরই আমি আওয়ামী লীগে যোগ দেই।

আটিগ্রাম ইউনিয়নের প্রার্থী নার্গিস আক্তারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আব্দুস সালাম বলেন, আওয়ামী লীগ তো অর্ধ জলাশয় দল নয়। এখানে যে কেউ আসতে পারে। যে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারে। এটি দোষের কিছু নয়। আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে।