manobkantha

উচ্চ শিক্ষায় অর্থায়ন ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট

 আকমল হোসেন
আকমল হোসেন

সম্প্রতি উচ্চ শিক্ষায় ভ্যাট ও সাংবিধানিক আইন শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কয়েকজন উপাচার্য, ট্রেজারারের সঙ্গে শিক্ষা ও শিক্ষক আন্দোলনের কর্মী হিসেবে যুক্ত ছিলাম। সভাটির আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নামে একটি ছাত্র সংগঠন।

২০২১/২২ অর্থবছরের বাজেটে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, এটি বাতিলের দাবি করেছে আয়োজক সংগঠনটি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠনসহ সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, তবে করোনা মহামারীর কারণে ২০১৫ সালের মতো এবার ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন তেমন দৃশ্যমান হয়নি।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে সংলাপের চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের প্রত্যাশা ২০১৫ সালের মতো এবারও সরকার সেটা বাতিল করবেন,কারণ যারা সরকারের সঙ্গে সংলাপ করছেন তারা সরকার দলীয় লোক, সেইসঙ্গে সরকারের সঙ্গে যুক্ত। যদি এটি বাতিল না হয় তবে সেটি পরিশোধের দায় শিক্ষার্থীদের ওপর পরবে এমন সতর্কবাণী ঘোষণা করেছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের পক্ষ থেকে।

এ লেখাটি যখন লিখছি তখন বাংলাদেশে ১০৭টি প্রাইভেট, ৪৯টি পাবলিক এবং ৩টি আন্তর্জাতিক মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৯টি। দেশের আয়তন লোকসংখ্যার অনুপাতে সংখ্যাটি একেবারে কম নয়, যদিও এদের একাডেমিক মান নিযে প্রশ্ন রযেছে, তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ও এর বাইরে নয়।

সরকার বা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের আলোচনায় মিডিয়ার মাধ্যমে আমজনতার সামনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে নানান নেতিবাচক মন্তব্য প্রতিনিয়তই প্রকাশিত হচ্ছে। কারণ শিক্ষা, শিক্ষার মতো এবং শিক্ষাবিদদের চিন্তায় চলছে না, চলছে প্রচলিত রাজনীতি অর্থনীতি এবং মনোজাগতিক ধারায়, যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ক্ষমতার আসনধারীরা এবং এই ধারাতেই এক সময় ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে এমএ পাস শিক্ষদের বস হিসেবে আবির্ভূত হযেছিলেন ৮ম শ্রেণি পাস গভর্নিংবডির সভাপতিরা, সেখানে শিক্ষক-কর্মচারী ছাঁটাই বরখাস্ত আর নিয়োগের বিষয়টি যতো গুরুত্ব পেয়েছে সেই তুলনায় খুবই কম কাজ হয়েছে সিলেবাস কারিকুলাম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, লাইব্রেরি আর শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি নিয়ে, তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মফস্বলের বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্সে শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এমনতর বাস্তবতায় উচ্চ শিক্ষার কি দশা হতে পারে তা আন্দাজ করা যায়। ব্রিটিশের ২০০ বছরের শাসনের সমাপ্তিকালে ভারতবর্ষে শিক্ষার হার ছিল ১৫ শতাংশ আর মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩২ বছর। ১৯৪৭ থেকে আজ সেই তুলনায় অনেক এগিয়েছে দেশ, বাংলাদেশ আরো এগিয়ে, কোন কোন ক্ষেত্রে বিশাল ভারতকেও পেছনে ফেলেছে, এটার পেছনে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট অন্যতম বিষয় হিসেবে কাজ করেছে।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে রাজনৈতিক ভূমিকা আর অর্থনৈতিক সমতার নীতি, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থ যদি থাকে তবে কোন শক্তিই তাকে পেছনে ফেলতে পারে না। এজন্য ভালো উদ্যোক্তারও দরকার। যদি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এমন উদ্যোক্তা থাকে তবে সেই দেশ জাপান ভিয়েতনাম মালয়েশিয়া কোরিয়া কিম্বা চীন হতে কতদিন লাগে?

তবে সুসষম উন্নয়নের জন্য বৈষম্যকে দূরে রাখতে হবে,কারণ এর বাইরে প্রবৃদ্ধি নির্ভর উন্নয়ন আসলে কোন উন্নয়ন নয়। বস্তুগত উন্নয়নে দরকার ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যার জন্য প্রয়োজন বিদ্যুৎ গ্যস, জ্বালানি, যোগাযেগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইনের শাসনের প্রয়োগ।

দক্ষ জনশক্তি, কমিটেড মানসিকতার এবং নৈতিক এবং মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়তে শিক্ষার প্রয়োজন সেই কারণে শিক্ষা খাতে অর্থ ব্যয়কে ব্যয় হিসেবে বিবেচনা না করে এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সবার জন্য বুনিয়াদি এবং মৌলিক শিক্ষা হিসেবে ১২ ক্লাস পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা, দ্বিতীয় স্তরে মাধ্যমিক পর্যাযে পেশাভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষার (প্রকৌশল, চিকিৎসা, ভ্যাটিরিনারি) মাধ্যমে ব্যাপক জনশক্তির দেশে ও দেশের বাইরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন।

বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন জ্ঞান আহরোণ, জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞানের চর্চা ও গবেষণার জন্য উচ্চ শিক্ষার ব্যাপক সুযোগ এবং অর্থায়ন প্রয়োজন। একঝাঁক মেধাবী ও উদ্যোগী তরুণ সৃষ্টির জন্য উচ্চ শিক্ষা স্তরে স্নাতক/স্নাতক সম্মান, মাস্টার্স, এমফিল, পিএইচডি গবেষণার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

এস্তরে মেধাবীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। টাকার জোরে মেধাহীনদের জন্য উচ্চ শিক্ষা নয়, বিত্তহীন মেধাবীদের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পড়ানোর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এমফিল, পিএইচডি গবেষণা যেন শুধুই বেতন বৃদ্ধি আর পদোন্নতির জন্য না হয়ে জাতির প্রয়োজনে যাতে ভুমিকা রাখতে পারে সে বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা যেন উপলব্ধি করেন।

উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে সরকার কুদরা-ত ই খুদা, ২০০১ সালের শামসুল হক কমিশনের আলোকে ২০১০ সালে ড. কবীর চৌধুরী যে শিক্ষানীতি দিয়েছিলেন এবং ২০১০সালে পুনর্বিন্যাসকৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে দেশে মানসম্মত শিক্ষা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। সেখানে পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর জন্য উচ্চ শিক্ষাকে সম্প্রসারণের কথা বলেছে।

কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১৫ ও ১৭ ধারা, ইউনেস্কোকে দেয়া জিডিপির ৭ শতাংশ, ডাকার সম্মেলনে ৬ শতাংশ সর্বশেষ ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে বিশ্ব এডুকেশন ফোরামে ১২ ক্লাস পর্যন্ত পড়ার খরচ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে করা হবে, সরকারের এমন প্রতিশ্রুতি থাকলেও জাতীয় বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই বরং করোনার মতো মহামারীর এই সময়ে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে কমানো হয়েছে।

সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কমানো হয়েছে। কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ ছিল, শিক্ষা খাতে আপাতত জিডিপির ৫ শতাংশ এবং সেটা পর্যাক্রমে ৭ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। এই নীতিতে বঙ্গবন্ধুর সম্মতি ছিল, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা শুনি কিন্তু এটা বাস্তবায়ন হতে দেখি না।

বরং ৯০ দশকের শুরুতে সামরিক সরকারের পাকিস্তানি আমলা মন্ত্রীর মাধ্যমে আইএমএফ এর সঙ্গে কাঠামোগত সংস্কার প্রকল্প(ঝঅঋ) এবং ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সেবাখাত উদারিকরণের নামে শিক্ষা স্বাস্থ্য বিদ্যুৎ পানি জ্বালানি ও কনসালটেনসিতে দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানের আওতায় বেসরকারিকরণ শুরু হয়েছিল, রাষ্ট্রের কাজ ব্যবসা নয় এমন অজুহাত দাঁড় করিয়ে স্বাস্থ্যের মতো শিক্ষা খাতেও অর্থায়ন কমিয়ে দেয়, সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে পুঁজিবাদ এবং ভোগবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২ পাস করে, সরকার উচ্চ শিক্ষায় অর্থায়ন থেকে দায়মুক্তির চেষ্টা করে।

উক্ত আইনের বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠী/গ্রুপ, কোম্পানি, রাজনীতিকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে কারবার শুরু করে। ১৯৭৩-১৯৮২ পর্যন্ত মধ্যম পর্যায়ের দুর্নীতি, ১৯৮৩-২০০১ উচ্চ দুর্নীতি এবং ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ দুর্নীতি বিকশিত হওয়ায় অনেকের হাতেই কাঁচা টাকা জমা হয়েছিল, ৮০ দশকে সামরিক শাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাস এবং সেশনজট থাকার কারণে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্র তৈরি হয়।

এই সুযোগে শিক্ষা নিযে লাভজনক ব্যবসা শুরু হয় কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ব্যবসা ক্ষেত্রে মিনিমাম নৈতিকতা, শ্রম আইন, আইএলও কনভেনশন নিশ্চিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়ে সমস্যা, ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়মিত, উপাচার্য না থাকাসহ নানাবিধ সমস্য নিয়ে উচ্চ শিক্ষা কিভাবে পরিচালিত হবে সে প্রশ্ন আসা অবান্তর নয়। এসব কারণে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বার বার মিডিয়ার খোরাক হচ্ছে।

১৯৯২, ২০১০ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সর্বশেষ সংশোধনীর পর তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একাডেমিক অনুমোদন (প্রাথমিকভাবে ৭ বছর, নবায়ন ৫ বছর), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া কোন কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না, সাময়িক অনুমোদনপ্রাপ্ত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করা, শিক্ষক- কর্মচারীদের জন্য উপযুক্ত বেতনকাঠামো ও চাকরি বিধিমালা প্রণয়ন, করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য অর্থের উৎস হিসেবে কোন কল্যাণকামী ব্যক্তি গোষ্ঠী/দাতব্য ট্রাস্টের দান, সরকার ও মঞ্জুরি কমিশনের অনুদান, বিভিন্নখাতে সৃষ্ট সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় এবং শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থের মাধ্যমে। গ্রুপ অব কোম্পানিগুলোর অন্যান্য ব্যবসা থেকে সিএসআর এর তহবিলের অর্থও বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের একটা অংশ হতে পারে।

সেখানে সরকার আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের জন্য শিক্ষার্থীদেরই ভ্যাটের টাকা দিতে হবে কেন? তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় ব্যয়ের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে অবহিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও করা হয়না? ইতোমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের অস্বচ্ছতা, সনদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এজন্য তাদের সনদ বাতিল, অনুমোদিত ক্যাম্পাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সভা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ম ভঙ্গ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য সতর্ক করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ই যতি অনিয়ম আর দুর্নীতির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় সেখানে কি মানের উচ্চ শিক্ষা দেওয়া সম্ভব এ প্রশ্ন আসায় স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিবেচনায় মুনাফা প্রত্যাশীদের দ্বারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে কৃতিত্ব অর্জন করা সম্ভব আবার ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়ানোও সম্ভব তবে দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই যখন দলীয় বিবেচনা শিক্ষক, ভিসি, প্রো-ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার মান কমছে তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা যে আরো করুণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিজ্ঞান প্রযুক্তি আর নতুন নতুন আবিষ্কারের বিকল্প নেই, আর এর জন্য উচ্চ শিক্ষা এবং নানাধর্মী গবেষণার প্রয়োজন।

এই প্রয়োজন মিটাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন কর্তৃক শিক্ষা খাতে অর্থায়নের সুপারিশ ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির অঙ্গীকার এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে বিশ্ব শিক্ষা ফোরামে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থায়ন করলেই উচ্চ শিক্ষায় অর্থের সংকট কিছুটা কাটতে পারে সেই সঙ্গে বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোটায় শিক্ষায় ব্যয় করা, শিক্ষার টাকা প্রতিরক্ষা খাতের কাডেট শিক্ষায় না দেয়া, প্রকল্পের নামে অর্থের অপচয় বন্ধ করলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব।

আর পুরোপুরি সমাধানের জন্য ইউনেস্কোকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিডিপির ৭ শতাংশ বরাদ্দ করা, একবারে সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে এটাকে বাড়ানো যেতে পারে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে শিক্ষায় ২.৪ শতাংশের বেশি বরাদ্দ হয়নি, এই বাজেটেও ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ যুক্ত রয়েছে শিক্ষা খাতে। এসডিজি বাস্তবায়নে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই, নীতি নির্ধারকদের সেটা বুঝতে হবে।

লেখক: কলেজ অধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।