manobkantha

ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য হিস্যা ও সংঘাত

রায়হান আহমেদ তপাদার
রায়হান আহমেদ তপাদার

আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারে গত দুই দশকে চারশ’রও বেশি সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং বড় বড় কিছু অবকাঠামো প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে ভারত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ডজন ডজন প্রকল্প ছাড়াও, দিলারাম-জারাঞ্জ মহাসড়ক নামে ২১৮ কিমি দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক তৈরি করে দিয়েছে ভারত।

কাবুলে নতুন আফগান পার্লামেন্ট ভবনটিও তৈরি করেছে তারা। চলমান শত শত প্রকল্পের এখন কী হবে? যে উদ্দেশ্যে এসব বিনিয়োগ, তার ভবিষ্যৎ কী? এগুলো কি পানিতে যাবে? ভারতের নীতি-নির্ধারকরা সে চিন্তায় এখন অস্থির। ওয়াশিংটনে গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব পিস-এর গত বছরের এক গবেষণা রিপোর্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিরাপত্তা বিশ্লেষক যাকারি কনস্টানটিনো প্রায় একই কথা বলেছেন।

তার মতে, বহুদিন ধরেই ইসলামাবাদের ভয় আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে পাকিস্তানকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে ভারত। মার্কিন এই বিশ্লেষক বলেন, ১৯৭০ দশক থেকে পাকিস্তানের মধ্যে এই উদ্বেগ কাজ করছে এবং সে কারণে ইসলামাবাদ সবসময় চেয়েছে কাবুলে এমন সরকার থাকুক যারা পাকিস্তানপন্থি। আফগানিস্তানের তালেবানরা সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

ঘটনাটি আফগানিস্তানে বারো বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের পথে বড় ধরনের একটি পদক্ষেপ। এতে আফগান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হলো। তবে মনে রাখতে হবে এখন পর্যন্ত কেবল সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে-এর বেশি কিছু নয়। তালেবানের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এবং তার পর পরই হোয়াইট হাউসের এ বিষয়ে বক্তব্য যতটা নাটকীয় ততটাই প্রত্যাশিত; প্রত্যাশিত এ অর্থে যে এটি হঠাৎ ঘটেনি।

গত কয়েক বছর ধরে- অন্ততপক্ষে দেড় বছর হবে-এ ধরনের একটি পদক্ষেপ নেয়ার জন্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করে যাচ্ছিল। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোর সৈন্যরা আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সমাধানের বিকল্প নেই।

অপরদিকে ইসরায়েল অতি সম্প্রতি নিজেদের স্বার্থে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় তেল-গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নকাজ শুরু করেছে। ফিলিস্তিনের তেল ও গ্যাস-সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে অনুসন্ধান চালিয়ে ইসরায়েল হেগ রেগুলেশন, ফোর্থ জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইন ভঙ্গ করছে।

দখলদারি শক্তিবলে দখলের শিকার লোকজনের স্বার্থ, অধিকার ও অংশীদারত্বের তোয়াক্কা না করে যৌথ সম্পদ অনুসন্ধান এসব আইনের লঙ্ঘন। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজার পুনর্গঠনে ৮৬০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর সঙ্গে তেল ও গ্যাস থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের ন্যায্য হিস্যা পেলে ফিলিস্তিনকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে বিনিয়োগের জন্য টেকসই অর্থায়নের সুযোগ দেবে।

আর এ বিকল্প খুঁজতে গেলেই হয়তো আরেকটি যুদ্ধ ও সহিংসতা বাধতে পারে। পশ্চিম তীর ও গাজা নিয়ে ১৯৯৫ সালে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিতীয় অসলো চুক্তি হয়। চুক্তিটিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সমুদ্রে জলসীমায় উপক‚ল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অধিকার দেয়া আছে। এ চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিন ১৯৯৯ সালে গ্যাস অনুসন্ধানে ব্রিটিশ গ্যাস গ্রুপের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি করে।

ওই বছরই ১৭ থেকে ২১ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে গাজা মেরিন নামে বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মেলে। তবে এই গ্যাসের বিক্রি নিয়ে ইসরায়েল সরকার, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ব্রিটিশ গ্যাস কোম্পানির মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হলেও অধিকৃত অঞ্চলে যে রাজস্ব বিধান আছে, সে অনুযায়ী কোনো মুনাফা পায় না ফিলিস্তিন।

গাজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর থেকে এর প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ইসরায়েল। চুক্তিকারী ব্রিটিশ গ্যাসও ফিলিস্তিনকে এড়িয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ইসরায়েল পশ্চিম তীরের ভেতর মেগেদ তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নিয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি যেসব অঞ্চল দখল হয়ে গেছে, তার তলদেশে এটি।

সম্প্র্রতি জাতিসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) এক গবেষণায় দেখা গেছে, লেভান্ট বেসিনে নতুন করে গ্যাসের মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে ১২২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে। আর উত্তোলনযোগ্য তেলের পরিমাণ ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ব্যারেল হতে পারে।

এর মানে, ৫২৪ বিলিয়ন ডলারের এ মজুত অঞ্চলটির বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের সর্বশেষ সামরিক হামলায় বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে শত শত কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে ফিলিস্তিনের উন্নয়নে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ ছাড়াও ইসরায়েলের দখল করা ভূখণ্ড ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে থাকা তেল ও গ্যাস সম্পদের ওপর ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য হিস্যা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বন্ধ সম্ভব নয়।

নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও নীতির ওপর ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণ খুবই সীমিত। প্যারিস প্রটোকল অন ইকোনমিক রিলেশনস অনুযায়ী ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মুদ্রানীতি, সীমান্ত ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। আঙ্কটাডের হিসাবে ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিন বছরে ৪৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার আর্থিক রাজস্ব হারিয়েছে।

এর মধ্যে ইসরায়েলে চলে যাওয়া রাজস্ব ও এর সুদ রয়েছে। গাজায় দীর্ঘস্থায়ী দখলদারির কারণে এখানকার অর্ধেকের বেশি জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। দেশটি বছরে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার জিডিপি হারিয়েছে। ইসরায়েলে ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভ‚খণ্ড দখল করে রেখেছে। আর ২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ গাজা।

এর ফলে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রাজস্ব ও রফতানি আয় থেকে বঞ্চিত তারা। দেশটির অর্থনীতি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ এই ইসরায়েলি দখলদারির কারণে ফিলিস্তিনের লোকজন ও পণ্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে না, সম্পত্তি-সম্পদ ধ্বংস ও বাজেয়াফত হয়ে যায়; এমনকি ভ‚মি, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদও হারাতে হচ্ছে।

এমনকি অভ্যন্তরীণ বাজারব্যবস্থাসহ প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক মীমাংসাকে চলতে হয় হাতে হাত ধরে। আলোচনার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সামগ্রিক শান্তি অর্জন করা সম্ভব বলে জাতিসংঘ এখনো মনে করে। জাতিসংঘ স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সচ্ছল, সার্বভৌম ক্ষমতা এবং টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপনে কাজ করে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য ফিলিস্তিনকে নিজেদের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হবে। তেল-গ্যাসের ওপর তাদের প্রাপ্ত হিস্যার ন্যায্যতা দিতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য ফিলিস্তিনকে নিজেদের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হবে। তেল-গ্যাসের ওপর তাদের প্রাপ্ত হিস্যার ন্যায্যতা দিতে হবে।

আগের তালেবান আর এখনকার তালেবান একই; কিছুই বদলায়নি। কিন্তু কর্মীদের পরিবর্তন ঘটেছে অবশ্যই। কেউ কেউ বেশি কঠোর, আবার কেউ শান্ত। এটাই স্বাভাবিক। নিজের হিংস্রতার জন্যে সুপরিচিত স্থানীয় মিলিটারি কমান্ডার বারিয়ালাই সামনের রাস্তার দিকে আঙুল নির্দেশ করে বললেন, সরকারি সেনাবাহিনী ওপাশে বাজারের কাছেই রয়েছে।

কিন্তু তারা তাদের ঘাঁটি ছেড়ে আসতে পারবে না, কারণ এই এলাকা শুধুই মুজাহিদীনের দখলে। তবে এটি যেন সত্যিকার অর্থে সমগ্র আফগানিস্তানেরই চিত্র। সরকার বড় শহরগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও সেগুলোকে ঘিরে আছে তালেবান, আর সেইসঙ্গে শহরের বাইরের বিশাল অঞ্চলগুলোও তাদের অধীনে। তালেবানদের বিশ্বাস, বিজয় তাদেরই হবে।

এক কাপ গ্রিন টি হাতে নিয়ে বসে থাকা হাজি হেকমত এমনটাই দাবি করলেন, ‘যুদ্ধে আমরা জিতেছি এবং আমেরিকা হেরে গেছে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেপ্টেম্বর থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তার অর্থ এই দাঁড়ায়- গত বছর দেয়া সময়সীমা অনুযায়ী তারা এই দেশে ১ মে পর্যন্ত থাকবে। এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে তালেবান রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে এবং বলাই বাহুল্য, এটি তাদের নতুন করে প্রেরণা দিয়েছে।

তবে বিগত কয়েক বছর ধরে তালেবানদের ‘জিহাদ’-এ বৈপরীত্য দৃশ্যমান। আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির পর তারা আন্তর্জাতিক বাহিনীগুলোর ওপর হামলা করা বন্ধ করলেও আফগান সরকারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও হাজি হেকমতের দাবি, এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই: ‘আমরা শরিয়া আইনের মাধ্যমে চালিত একটা ইসলামি সরকার চাই।

আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত জিহাদ চালিয়ে যাব। তালেবানরা নিজেদের নিছক বিদ্রোহী গোষ্ঠী ভাবতে নারাজ, বরং তারা নিজেদের সম্ভাব্য সরকার হিসেবে ভাবে। তারা নিজেদের ‘আফগানিস্তানের ইসলামি আমিরাত’ হিসেবে উল্লেখ করে। এই নাম তারা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার সময় থেকে ধরে ৯/১১-এর হামলার পর ক্ষমতাচ্যুত হবার আগ পর্যন্ত ব্যবহার করত।

বর্তমানে তাদের পূর্ণাঙ্গ একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা প্রতিটি খাতের তত্ত্বাবধান করেন। তালেবানরা অবশ্যই চেয়েছিল আমাদেরকে তাদের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিতে। বিদ্যালয়গামী মেয়েদের দলের পাশ দিয়ে যখন আমাদের গাড়ি যাচ্ছিল, হাজি হেকমত উল্লসিত হয়ে তা দেখালেন।

আমাদের প্রত্যাশার বিপরীত চিত্র দেখাতে পেরে তাকে বেশ গর্বিত মনে হচ্ছিল। তবু নারীদের ব্যাপারে তালেবান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিন্তা থেকেই যায়। দলটিতে কোনো নারী নেতৃত্ব নেই এবং ১৯৯০ সাল থেকে তারা নারীদের বাইরে কাজ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এতগুলো বছর ধরে মূলত আমেরিকানদের দেয়া বিমান সুবিধা তালেবানদের থামিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু গত বছর তালেবানদের সঙ্গে এক চুক্তির পর থেকে সম্প্রতি আমেরিকা নিজেদের সেনা কার্যক্রম ব্যাপক হারে সরিয়ে নিয়েছে। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তালেবানরা হয়তো দেশজুড়ে সেনানিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের হিসাব মতে, ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ব্যয় হয়েছে ৭৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সরকারি হিসাব মতে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ আফগানিস্তানে ছিল প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন সেনা। কিন্তু প্রায় ১১ হাজার মার্কিন নাগরিক আফগানিস্তানে থেকে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছে। আফগান সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার তুলনায় মার্কিন সেনাদের নিহত হওয়ার সংখ্যা বরাবরই কম ছিল।

প্রেসিডেন্ট ঘানি গত বছর বলেন, ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ হাজারের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করার মিস্টার ঘানির এই সিদ্ধান্ত কিছুটা অস্বাভাবিক, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগান সরকার সাধারণত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না।

যাই হোক, কিছু সংবাদ মাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে বলেছে যে, গত কয়েক বছরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন নিহত হয় বলে জানানো হয়। আফগানিস্তানে থাকা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনাইটেড নেশন অ্যাসিসটেন্স মিশন ইন আফগানিস্তান বা উনামা বলছে, ২০০৯ সালে তারা হিসাব শুরু করার পর এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে।

আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের সমঝোতা এবং সরাসরি আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার পর আফগান সরকার তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় কাতারে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর কথা বললেও ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই তাদের সুর বদলাতে শুরু করেছে। যেভাবে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে তাতে হামিদ কারজাই অখুশি।

আফগানিস্তানকে ‘ইসলামি আমিরাত’ বলে বর্ণনা করাকে আফগান সরকার যুক্তিগ্রাহ্য কারণেই আপত্তিকর মনে করছে। তদুপরি কারজাই বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে সরে না গেলে তিনি তার প্রতিনিধি পাঠাবেন না এবং এখন তালেবানের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণার এ সময় এবং পরে জোর দিয়ে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সাহায্যকারী মাত্র, প্রক্রিয়াটিকে অবশ্যই হতে হবে আফগান-নেতৃত্বাধীন।

কিন্তু আমরা জানি যে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে এ আলোচনা হবে না, তালেবান নেতৃবৃন্দ তাতে অংশও নেবেন না। এসব থেকে যে কোনো ব্যক্তিই বুঝতে পারেন যে যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানিস্তানের তালেবানদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার যে প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে তা মোটেই শঙ্কামুক্ত নয়, তাতে সাফল্যও নিশ্চিত নয়।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট।