manobkantha
বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথ

লঞ্চে ঘরমুখো মানুষের স্রোত-উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি, ফেরিতে দুর্ভোগ

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথ

আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। এ কারণে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে রয়েছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকে এই নৌপথে চলাচলরত প্রতিটি লঞ্চ শিমুলিয়া থেকে যাত্রীবোঝাই করে বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটে আসছে। এসব লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন প্রবণতা নেই। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শিমুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে আসা ছোট ছোট লঞ্চগুলো থেকে বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে নামছে যাত্রীরা। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। লঞ্চে যাত্রী বেশি বহন করায় যাত্রীরা ঘাটে আসা মাত্রই নামার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। লঞ্চঘাটে কয়েকজন আনসার সদস্য ছাড়া নেই পুলিশ কিংবা বিআইডব্লিউটিএ সদস্যরা। ফলে লঞ্চ চলাচলে কোন প্রকার নিয়ম মানা হচ্ছে না। লঞ্চের যাত্রীদের মধ্যে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা নেই। যাত্রীরা বাংলাবাজার লঞ্চঘাটে নেমে কিছুটা পথ হেঁটে গণপরিবহনে ছুঁটছে গন্তব্যে।

ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ঘাটে আসার পরে শুনি ফেরিতে পদ্মা পার হতে নাকি ২-৩ ঘন্টা চলে যায়। তাই ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠেছি। লঞ্চে ৩৫ টাকার ভাড়া ভাড়া নিল ৫৫ টাকা। অথচ লঞ্চে বসার সিটই পেলাম না। পুরো এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ভিড় ঠেলে বাংলাবাজার ঘাট এসে নামলাম। তাহলে স্বাস্থ্যবিধি অযুহাতে আমাদের থেকে বেশি ভাড়া নিল কেন?

খুলনাগামী আরেক যাত্রী ইমরান খান বলেন, আমরা তো মুখে মাস্ক ঠিকই পড়েছি কিন্তু লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তুললে বাধ্য হয়েই আমাদের অন্য যাত্রীর গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হয়। লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করলে এমন পরিস্থিতি হতো না।

মাদারীপুরগামী যাত্রী সাব্বির আহমেদ বলেন, লঞ্চঘাটে যাত্রী আসা মাত্রই তাদের তোলা হচ্ছে। পুরো লঞ্চ ভরার পরে ছাড়া হচ্ছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ চাইলে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ছাড়তে পারে। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে কেউ কোন কথা বলছে না।

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার লঞ্চঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, আমাদের এপার (বাংলাবাজার) থেকে যাত্রী ঢাকামুখী হচ্ছে। সামনে ঈদ থাকায় বেশি যাত্রী আসতেছে ঢাকা থেকে। আমাদের এই নৌপথে ৮৭টি লঞ্চ সচল আছে। লঞ্চগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী বহন করতে বলা হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা না মানলে আমরা ওই লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এদিকে পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় গত তিন দিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফলে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়েছে কয়েশ যানবাহন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকাগামী গরুবোঝাই ট্রাকের চালক ও গরুর ব্যবসায়ীরা।

এ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্রোত থাকবেই। প্রতি বছরই এই সময়টা আমাদের খুব খারাপ যায়। স্রোত বেশি থাকায় ফেরি পারাপারে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। ফেরিতে লোড বেশি নিতে পারছি না আমরা। আবার ঘাটে সব ধরণের যানবাহনের চাপ বেশি। এরপরেও আমাদের চলাচলরত ১৩টি ফেরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গরুবোঝাই ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও কাচামালের ট্রাকগুলো পারাপার করছি। তবুও ঘাটে যানবাহনের চাপ কমছে না।

মানবকণ্ঠ/এনএস