manobkantha

দ্বিতীয় মেয়াদে জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নিলেন গুতেরেস

তাহির হোসেন: টানা দ্বিতীয় মেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে শপথ নিয়েছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার (১৮ জুন) দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান করোনা মহামারি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শপথ গ্রহণের পর সংবাদ সম্মেলনে আন্তোনিও গুতেরেস (৭২) বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আমাদের সামনে বড় একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এই সমস্যাকে (করোনা মহামারি) বদলে দিয়ে এমন একটি বিশ্ব তৈরি করা, যা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সবুজ ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।

গুতেরেসে তার বক্তব্যে, কয়লা অর্থায়নের অবসান ঘটিয়ে পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহারে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়াও আগামী জেনেভা কনভেনশনে বাস্তববাদী জাতিসংঘের এই প্রধান সাইপ্রাস ইস্যুতে কথা বলার অগ্রিম সংকেত প্রদান করেন এবং ইসরাইলকে জোটবদ্ধকরণের পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

নির্বাচিত হওয়ার পরে গুতেরেস সাধারণ পরিষদে বলেন, “আমি ছোট থেকে বড় এবং ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের স্ফুরণ নিশ্চিত করতে, সেতুবন্ধন তৈরি করতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য নিশ্চয়তা প্রদান করছি।”

সিদ্ধান্ত বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভোলকান বোজকিরকে ভোট না দিয়ে গুতেরেসকে পুনরায় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অ্যাসেম্বলি চেম্বারের দূতরা সাধুবাদে ফেটে পড়েন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে, (জানুয়ারি ২০১৭ সাল) এ গুতেরেস বান কি মুনের জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। গুতেরেসের প্রথম পদটির বেশিরভাগ অংশ ট্রাম্পকে প্রশ্রয় দেওয়ার দিকে আঙ্গুল তুলেছিল, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের মূল লক্ষ এবং বহুপাক্ষিকতার বিষয়ে প্রশ্ন ওঠেছিলো।

আমেরিকা জাতিসংঘের বৃহত্তম আর্থিক অনুদানকারী, নিয়মিত বাজেটের ২২ শতাংশ এবং শান্তিরক্ষা বাজেটের প্রায় এক চতুর্থাংশের জন্য দায়িত্ব নেন এই আমেরিকা। রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন, জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে তিনি জাতিসংঘের সংস্থাগুলিতে তার পূর্বসূরীর দ্বারা কাটা তহবিল বা অনুদান পুনঃস্থাপন শুরু করেছেন এবং বিশ্ব সংস্থার সাথে কার্যকরীভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য আবারো একাত্বতা ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, এন্তোনিও গুতেরেস ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী এবং ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি যখন জাতিসংঘের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, বিশ্ব সংস্থা সিরিয়া ও ইয়েমেনে যুদ্ধ সংঘটন এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। এই দ্বন্দ্বগুলি এখনও সমাধান হয়নি তাই এই দুই দেশ ছাড়াও গুতেরেস এখন মিয়ানমার এবং ইথিওপিয়ার ইস্যুতে আলোচনা শুরু করবেন বলে আাশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।