manobkantha

হলের বাইরে থেকে পরীক্ষা দেওয়া নিরাপদ নয় : ঢাবি শিক্ষক

শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে আবাসিক হল খোলা হবেনা এমন শর্তে শিক্ষার্থীদের সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই ঘোষণার পর থেকে যেসব শিক্ষার্থীদের ঢাকায় আবাসিক সুবিধা নেই সেসব শিক্ষার্থী বিপাকে পড়ে। তবে, শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা সমাধাণ করে চতুর্থ বর্ষ সপ্তম সেমিস্টারের পরীক্ষা নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদভূক্ত ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।

রোববার (২০ জুন) দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সপ্তম সেমিস্টারের ৮১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮১ জনই উপস্থিত ছিলেন।

এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেসকল শিক্ষার্থীর ঢাকায় আবাসিক সুবিধা নেই সেসকল শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিতে শিক্ষকদের বাসায় রেখে অনেককে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে, অন্যের বাসায় থেকে পরীক্ষা নেওয়া নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ। এতে করে ওই পরিবার ও শিক্ষার্থী উভয়েই করোনা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কি মানায় যে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষক, বন্ধু বান্ধবীদের বাসায় ছুটাছুটি করে থেকে পরীক্ষা দিবে। পরীক্ষার জন্য মানসিক স্বস্থি দরকার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দরকার। এ দুটো জিনিস না থাকলে পরীক্ষায় মনেই আসবেনা।

তিনি আরো বলেন, সমস্ত হলগুলো খালি রেখে এইভাবে পরীক্ষা নেওয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোনোভাবেই সম্মানজনক নয়। নিজেদের হলে থেকে সেমিস্টার ভিত্তিতে পালাক্রমে পরীক্ষা গ্রহণ করলে ছাত্র ছাত্রীদের এই ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির শিকার হতে হতো না।

তা ছাড়া প্রশাসনের মতে, হলে করোনা সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এখন ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকাতে মেসে, বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের বাসায় থেকে যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন ওই সব জায়গাগুলো কি তাদের জন্য হলের থেকেও নিরাপদ?

বরং এতে আমরা শিক্ষকরাও নিরাপদ না। অতএব এই অভিনব ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও গৌরবকে কিছুটা হলেও ম্লান করবে বৈকি। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র ছাত্রীদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেবে এবং সীমিত পরিসরে হল খুলে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।

মানবকণ্ঠ/এসকে