manobkantha

কদমতলীতে ৩ খুন: মেহজাবিন ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর কদমতলীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যার ঘটনায় আটক বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুন ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গণমাধ্যমকে মামলার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ।

গতকাল শনিবার (১৯ জুন) সকালে জুরাইনের মুরাদপুরে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অচেতন অবস্থায় মেয়ের জামাই শফিকুল ইসলাম ও নাতনি তৃপ্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শফিকুল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাতে তার স্ত্রী তাকে চা দিয়েছিল। সেই চা পানের পর আর কিছু তার মনে নেই।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ওই পরিবারের বড় বোন মেহজাবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পরিবারের সবার প্রতি ক্ষোভ থেকে সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন ২৪ বছর বয়সী ওই নারী।

কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘সে (মেহজাবিন) কৌশলে বাসার সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর সবাই অচেতন হয়ে যায়। এরপরই সকলের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধে। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।’

ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘মেহজাবিনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাবা না থাকায় তার মা তাকে এবং তার ছোট বোনকে (নিহত জান্নাতুল) দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। এসব নিয়ে প্রতিবাদও করেছিল সে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

শাহ ইফতেখার আহমেদ আরও জানান, ‘তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছোট বোনকে দিয়ে ব্যবসা চলছিল। এর মধ্যে তার স্বামী ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।’

এছাড়া মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছেন।

এসব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকে পরিবারের সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মেহজাবিন । তবে মেহজাবিনের একার পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো কতটুকু সম্ভব, এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘মেহজাবিনের স্বামীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাকেও আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। সম্পত্তির বিষয়ও এখানে রয়েছে। তদন্তে এসব উঠে আসবে।’

মানবকণ্ঠ/এমএ