manobkantha

অক্সিজেন বন্ধ রেখে রোগীদের ‘ভাগ্য পরীক্ষা’, ২২ করোনা রোগীর মৃত্যু

ভারতে অক্সিজেনের অভাবে যখন এমনিতেই হাজার হাজার করোনা রোগী প্রাণ হারাচ্ছিলেন তখন কিছু সময়ের জন্য ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ একটি কোভিড হাসপাতালের রোগীদের অক্সিজেন সেবা বন্ধ রাখা হয়। আর এর ফলে ওই হাসপাতালের ২২ জন রোগীর মৃত্যু হয়। 

গত ২৭ এপ্রিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগরার ওই হাসপাতালে ঘটনা নিয়ে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে তোলপাড় শুরু হলেও তা অস্বীকার করেছে প্রশাসন। যদিও প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। তবে এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

সম্প্রতি ওই হাসপাতালের মালিক অরিঞ্জয় জৈনের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ২৮ এপ্রিলে রেকর্ড করা দেড় মিনিটের ওই অডিওতে অরিঞ্জয়ের দাবি, উত্তরপ্রদেশজুড়ে অক্সিজেনের হাহাকারের সময় হাসপাতালে একটি ‘ভুয়া (ফেক) মহড়া’ করা হয়। অক্সিজেনের অভাবে কোনও রোগীদের মৃত্যু হতে পারে বা কারা বেঁচে যেতে পারেন, তা দেখতেই নাকি ওই মহড়া— অরিঞ্জয়কে এমনটাই বলতে শোনা গেছে।

তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রীও অক্সিজেন জোগাড় করতে পারছেন না। ফলে রোগীদের হাসপাতাল ছাড়তে হবে বলে নির্দেশ এসেছিল। রোগীদের পরিবারের লোকজনকে বোঝানো শুরু করি। কয়েকজন হাসপাতাল ছাড়তে রাজি হলেও অনেকেই যেতে চাননি। তখন আমি বললাম, চলো একটা ভুয়া মহড়া করি। কারা মরে আর কারা বেঁচে যান, তা দেখা যাবে। ২৭ এপ্রিল সকাল ৭টায় তা-ই করেছিলাম। কেউ জানেন না। ৫ মিনিটের জন্য হাসপাতালে অক্সিজেন বন্ধ করা হয়েছিল। ২২ জন এমন রোগীকে চিহ্নিত করা গেছে, যারা মারা যেতে পারেন। তাদের দেহ নীল হয়ে যাচ্ছিল।”
এই ঘটনার পর আগরার জেলাশাসক প্রভু এন সিংহ একটি বিবৃতিতে দাবি করেন, ২৬-২৭ এপ্রিল ৭ জন আক্রান্তের মৃত্যু হলেও অক্সিজেনের অভাবে কেউ মারা যাননি।

তিনি লিখেছেন, ‘(ওই দিন) অক্সিজেনের অভাবে আতঙ্ক তৈরি হলেও ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। ওই হাসপাতালে ২২ জনের মৃত্যুর খবর সত্য নয়। তবে এ নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখব।’

মানবকণ্ঠ/এনএস