manobkantha

খালেদার দণ্ড মওকুফের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির: দুদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফের এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. খুরশিদ আলম খান।

রোববার (৯ মে) বিকেল ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানান।

খুরশিদ আলম বলেন, এটা চাইলে তারা আদালতে যেতে পারেন। সেখানে আদালতের ইচ্ছা, তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেবে কি-না। বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া সরকারের এখতিয়ারে নেই। আইন মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন।

তিনি বলেন, যদি দণ্ড মওকুফের বিষয় আসে তাহলে রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে হবে। যদিও এর আগেও দুদকের আইনজীবী বার বার বলে আসছিলেন, দুদকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নিয়েই যেতে হবে।

এর আগে বিকেলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোনো সুযোগ আইনে নেই।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনমন্ত্রণালয়ে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন পাঠানো হয়েছিল। আইনের ধারা অনুযায়ী তার সে আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তাকে এখন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো। তিনি বাসায় থেকে সব ধরনের চিকিৎসা নিতে পারবেন।

গত ৬ মে রাতে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আবেদন করেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কানদার। এরপর আবেদনটির আইনি দিক পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিন দিন পর এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

গত বছরের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সরকার শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়। প্রথম দফা মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসলে গত বছরের ২৫ আগস্ট বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্বিতীয় দফায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাসের জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ থেকে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়।

মানবকণ্ঠ/এসকে